November 16, 2018

সমঝোতায় দু’পক্ষই নমনীয়ঃ বাকী শুধু ……

Jashod

স্টাফ রিপোর্টঃ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) ঐক্য ফিরিয়ে আনতে সমঝোতার প্রশ্নে বিভক্ত দুটি পক্ষই নমনীয় হয়েছে। হাসানুল হক ইনু ও শরীফ নুরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন দুটি অংশই নিজেদের অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসে এখন ঐক্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দলের সিনিয়র নেতারা দুই পক্ষের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্রে জানা গেছে, দলটির সদ্যবিদায়ী কমিটির উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মনির উদ্দীন আহমেদ, মোয়াজ্জেম হোসেন রতনসহ সিনিয়র নেতারা সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসানুল হক ইনু দেশের বাইরে থাকায় এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে তিনি দেশে ফিরলেই দুইপক্ষের সমঝোতা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে, দলের ভাঙন ঠেকাতে বিরোধীদের কাছে সভাপতি পদ ছাড়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, এমনটিই দাবি দলের একাংশের।

গত শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে দলটির কাউন্সিল অধিবেশন বসে। অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে হাসানুল হক ইনু বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হন। এরপর সাধারণ সম্পাদকের প্রশ্নেই মূলত বিভক্ত হয়ে পড়ে জাসদ। মতবিরোধের একপর্যায়ে অধিবেশনস্থল থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় প্রেস ক্লাবে পৃথক কমিটি ঘোষণা করেছিলেন সদ্য বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়াসহ দলটির একাংশ। আম্বিয়াকে সভাপতি ও সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক করে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে কাউন্সিল শেষে ইনুকে সভাপতি ও শিরীন আকতারকে সাধারণ সম্পাদক করে জাসদের মূল অংশটি।

রবিবার জাতীয় সংসদে সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্রোহী অংশের নেতারা ইনুর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনেন। অন্যদিকে একইদিন বিকালে জাসদ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে ইনু বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দলে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। আপনারা সম্মানের সাথে ফিরে এসে নীতি-নির্ধারণী ভূমিকা পালন করুন।

ইনুর পক্ষ থেকে সমঝোতার প্রস্তাব পাঠানো হলেও নিজেদের দাবিতে অনড় ছিলেন বিরোধীরা। সদ্য অনুষ্ঠিত কাউন্সিল বাতিল করে নতুন কাউন্সিল আহ্বান করে কাউন্সিলরদের গোপন ভোটে কমিটি গঠনের শর্তে তারা সমাঝোতায় বসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে সে অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছেন তারা এখন।

শুক্রবার শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, সেটা (নতুন কাউন্সিল) যে হতেই হবে তেমন কোনো কথা না। আমরা ঐক্যের ব্যাপারে আগ্রহী।

তিনি বলেন, ঐক্যের প্রক্রিয়া চলছে, তা ব্যাহত হোক তা আমরা চাচ্ছি না।

প্রবীণ এ নেতা বলেন, দলের উপদেষ্টামন্ডলীর সিনিয়র নেতারা ঐক্যের চেষ্টা করছেন। আমরা সোট স্বাগত জানাচ্ছি, এ ক্ষেত্রে যে কোনো উদ্যােগকে আমরা স্বাগত জানাবো।

এর আগে, রবিবারের সংবাদ সম্মেলনে ইনু বলেছিলেন, আমি আম্বিয়া-বাদলদের উপস্থিতিতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলাম। এরপর কাউন্সিল অধিবেশন থেকে বেরিয়ে রাস্তায় কিংবা অন্য কোনো চত্বরে কাউকে সভাপতি করে কমিটি ঘোষণা করা দলের গঠনতন্ত্রবিরোধী।
শুক্রবার সে বিষয়ে ইঙ্গিত করে ইনু অংশের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আকতার বলেন, সমঝোতার জন্য নির্বাচিত সভাপতিকে মানতে হবে। তাদের কমিটি বাতিল করতে হবে।

তবে অন্যান্য বিষয়ে ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ঐক্যের স্বার্থে কাউন্সিল তারা যতটুকু মানে, এরপর থেকে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত হবে।
তিনি বলেন, দলের প্রবীণ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আলোচনার উদ্যােগ নিয়েছেন। এখন দেখা যাক, কোন পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা হয়।

এর আগে দলটির সদ্য বিদায়ী কমিটির উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মনির উদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, দলে ঐক্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। তাই দুই গ্রুপের সাথেই আলোচনা করছি।

Related posts