September 24, 2018

সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে বৈরুত দূতাবাসে আলোচনা সভা

Untitled-1

বাবু সাহা,লেবাননঃ ‘‘জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’’-এই শ্লোগান নিয়ে লেবাননের বৈরুত দূতাবাসে ৭ই আগষ্ট রবিবার বিকাল ৪.০০ ঘটিকায় সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।দূতাবাসের কর্মকর্তা দিদারুল আলম এর পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দূতাবাসের মান্যবর হাইকমিশনার আবদুল মোতালেব সরকার।

আলোচনা সভার শুরুতেই কোরান তেলওয়াত সহ ১লা জুলাই বাংলাদেশে হলি আর্টিজান বেকারী সহ শোলাকিয়া ঈদের নামাজে সশস্ত্র জঙ্গীবাহিনীর অতর্কিত হামলায় যে সব মানুষ শহীদ হয়েছে, তাদের স্মরণে ১মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।পরে প্রজেক্টরের মাধ্যমে জঙ্গীবাদের উপর বাংলাদেশ সরকারের নির্মিত একটি প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সন্ত্রাস ও  জঙ্গীবাদ প্রসংগে রাষ্ট্রদূত বলেন, জঙ্গীবাদ আজ সারা বিশ্বের সমস্যা।যারা পবিত্র ধর্ম ইসলামের নাম নিয়ে নিরীহ মানুষদের হত্যা করছে, তাদের সেই অপকর্মকে ইসলাম কোনদিনই সমর্থন করে না বা ভবিষ্যতেও করবে না।তারা ইসলামের নামে অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।১লা জুলাইর আগে বহিবিশ্বে যে বাংলাদেশের পরিচিতি আগে ছিল, এখন আর সেই বাংলাদেশ নাই।বাংলাদেশের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ঘটনা এখন সারা বিশ্বেই আলোচিত।সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের নীতি হচ্ছে জিরো টলারেন্স।সেই নীতি মাথায় রেখে সরকার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে।সরকারের একার পক্ষে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না।সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গীবাদের মোকাবেলা করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে হবে।লেবাননে বাংলাদেশ কম্যুনিটির মধ্যে ব্যবসায়িক কোন্দলে একাধিক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় লেবাননেও বাংলাদেশীদের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়তে পারে এবং এদেশে বাংলাদেশীদের শ্রম-বাজার সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে।সকল আন্তঃকোন্দল পরিহার করে ভবিষ্যতে যেন আর কোন প্রবাসী প্রান না হারায়, সেই বিষয়ে সবার সচেষ্ট থাকতে হবে।আপনারা লেবাননে এমন কোন কাজ করবেন না, যা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হিসাবে চিহ্নিত হতে পারে।মনে রাখবেন, আপনার একটি ভাল কাজ যেমন দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারে,তেমনি একটি খারাপ কাজ দেশের ভাব-মূর্তিকে বিনষ্ট করে দিতে পারে।আপনার পরিবার-পরিজন দেশে কিভাবে আছেন, নিয়মিত খোঁজ নেন।আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মেলা-মেশা করছে তার খোঁজ রাখুন।এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে একদিন পস্তাতে হবে।সারা জীবনের জন্য গভীর লজ্জ্বা, অপমান ও গ্লানির মুখোমুখি হতে হবে।আলোচনা সভায় উপস্থিত প্রবাসীদের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আরো বলেন, যে সব প্রবাসী বাংলাদেশী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসআপ গ্রুপ সৃষ্টি করে অশালীন বক্তব্যের মাধ্যমে প্রবাসীদেরকে বিভ্রান্ত করছে, সেটিও একটি সামাজিক অপরাধ এবং অচিরেই দূতাবাস সে সকল ব্যক্তিদের কঠোর হস্তে দমন করবে।পরে তিনি জরিনা বেগম(৩০) নামে এক অসুস্থ প্রবাসী বাংলাদেশী নারী শ্রমিককে আর্থিক সাহায্য প্রদান করেন।

আলোচনা সভায় প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির পক্ষে আবদুল করিম, মানিক মোল্লা, সোহেল মিয়া, আকবর মোল্লা, আমির হোসেন, জাকির হোসেন বক্তব্য রাখেন।সভায় লেবাননের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ প্রবাসী বাংলাদেশীরা উপস্থিত ছিলেন।

Related posts