September 20, 2018

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধ চাই?

রাজু আহমেদ

আজ গোটা বিশ্বের মঙ্গল চিন্তায় লিখতে বসিনি; লিখতে বসেছি আমার প্রিয় সোনার বাংলাদেশের জন্য । সাম্প্রতিক দেশে ঘটমান কয়েকটি দুর্ঘটনার সংবাদ শুনে ক্ষত-বিক্ষত ভগ্ন হৃদয়ে কেবল রক্তক্ষরণ চলছে । মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশটির গোড়াপত্তন হয়েছিল সেই দেশটির সাথে আজকের বাংলাদেশের মিল খুঁজছি কিন্তু মেলাতে পারছি না । পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তানে নিত্যদিন মসজিদ-স্কুলে আত্মঘাতী হামলাকারীরা হামলা চালিয়ে শত মানুষের জীবন কেড়ে নেয় । প্রত্যহ সেসব দেশের খবর জেনে একদিকে মানবতার প্রতি পদাঘাতের জন্য আফসোস হয় আবার গর্বে বুক ভরে ওঠে কেননা আমাদের দেশটা ওসব দেশের তুলনায় অনেক অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে । বোধহয় অজ্ঞাত কোন দুষ্ট দৈত্যের কুদৃষ্টি পড়েছে আমাদের দেশটার ওপর ! নয়ত এসব ঘটছে কেন ? স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের দীর্ঘ ৪৫ বছরের ইতিহাসে যে ঘটনার স্বাক্ষী হতে হয়নি তেমন কিছু ঘৃণিত ঘটনা ঘটেছে নিকট অতীতে । সর্বশেষ বগুড়ার হরিপুরে শিয়া মসজিদে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছে একজন ও আহত জনকয়েক । নামাজরত মানুষের ওপর কোন ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ গুলি চালাতে পারে ?

গোটা বিশ্বব্যাপী শিয়া-সুন্নীদের মধ্যে বিভেদ থাকলেও বাংলাদেশে এদের মতানৈক্য নিয়ে উল্লেখ্যযোগ্য ঘটনা কখনো ঘটেনি । চলতি বছরের পূর্বে শিয়া অধ্যূশিত ইরাণের চেয়ে কোনভাবেই কম নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশী শিয়ারা তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহন করত না । কিন্তু ব্যতিক্রম কেবল এ বছর । আশুরার দিনে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির প্রাক্কালে হোসনি দালানের সম্মূখে বোমা হামলায় নিহত হয়েছিল একজন । আবার কয়েক ঘন্টা পূর্বে বগুড়ায় নতুন করে হামলা হল । শিয়া-সুন্নীদের মধ্যকার শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক ধ্বংসের জন্য এটা কি কোন আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র নাকি অন্যকোন কারণ তাও স্পষ্ট নয় । তবে আমাদের দেশটা যে ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে তা কয়েকটি ঘটনাতেই প্রকাশ পায় । বিদেশী নাগরিক হত্যার মাধ্যমেও দেশের বিরুদ্ধে কোন একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্রে মেতেছে ।

কারো জীবন কেড়ে নিজস্ব মতবাদ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব কোন ধর্মের স্রষ্টাই তার সৃষ্টির ওপর আরোপ করেননি । কাজেই যারা মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে তাদের কোন ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারেনা । তাদের একটাই পরিচয় তারা সন্ত্রাসী । সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ে নামতে হবে । তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, রাজনৈতিক ইস্যু যেন এ জাতীয় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে প্রভাবিত করতে না পারে । অবৈধভাবে প্রবাহমান রক্তের ধারামুক্ত একটি দেশ চাই; যেখানে সর্বত্র শান্তির মিছিল চলবে । নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সন্ত্রাসীদের জন্য ভীতিকর সিদ্ধান্তের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সময়ের দাবী । সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আরেকবার জাতিকে জাগতে হবে । ধূয়ে-মুছে সাফ করে ফেলতে হবে সব কলুষতা । দেশের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজমান রাখার জন্য অন্তত এটুকু করতেই হবে । পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তানের পরিণতিতে বাংলাদেশের অবস্থান দেখতে চাইন না; কখনো চাইব না । দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রুখে দেশকে সঠিক পথে পরিচালনা করার জন্য জাতীয় ঐক্যের কোন বিকল্প নাই ।

রাজু আহমেদ । কলামিষ্ট ।
দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts