November 20, 2018

সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে নিস্ক্রিয় চাঁদপুর অনলাইন ইলিশ বাজার

mmmmmএ কে আজাদ, চাঁদপুর : দেশের প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা ইলিশের বাড়ী চাঁদপুরে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অনলাইন ইলিশ বাজার। চাঁদপুরবাসীসহ দেশ ও বিদেশের ইলিশপ্রিয় মানুষদের চাহিদা পূরণের কথাটি মাথায় রেখেই ইলিশের বাড়ী চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাট এলাকায় অনলাইন ইলিশ বাজার কার্যক্রম চালু করা হয়। প্রচার-প্রচারনা, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ জনবল দ্বারা অনলাইন মাধ্যমটি ব্যবহার না হওয়ায় এটি এখন নিস্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলে সার্চ দিলে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা ইলিশ বাজারের নাম থাকলেও নেই চাঁদপুর অনলাইন ইলিশ বাজারের নাম। দক্ষ পরিচালক ও ওয়েব এসইও না থাকায় এ সাইটটির কোনো অস্তিত্ব কোনো সার্চ ইঞ্জিনি পাওয়া যায়নি। সাইটটি অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির সাইনবোর্ডেও কোনো লিংক/ওযেব ঠিাকানা নেই। এছাড়া অনলাইন দুনিয়ায় কোথায়ও এ সাইটের বিজ্ঞাপন নেই। এতে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরের বাসিন্দারাও জানেন না এর ওয়েব সাইট ঠিকানা কোনটি।
যদিও সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন দেশের প্রথম অনলাইন ইলিশ বাজার হিসেবে এটি স্থাপন হলেও প্রশাসনিক, সামাজিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতার অভাবে এটি সফলতার মুখ দেখছে না।
ব্র্যান্ডিং জেলার অংশ হিসেবে বর্তমান জেলা প্রশাসশক আব্দুস সবুর মন্ডলের ওইকান্তিক প্রচেস্টার মাধ্যমে ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর ঝাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্যোদিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এনএম জিয়াউল এবং চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীনসহ চট্রগ্রাম বিভাগের ৮ জেলার জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতে এই অনলাইন ইলিশ বাজারটি উদ্বোধন করা হয়েছিল।
ওইসময় চাঁদপুরের অনলাইন ইলিশ বাজার থেকে দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে অনলাইনের মাধ্যমে ক্রেতারা তাদের পছন্দের ইলিশ মাছ কিনতে পারবেন এমনটাই কথা ছিল। এমন কার্যক্রম দেশের আর কোথাও এখনো চালু হয়নি। অনলাইন ইলিশ বাজারের মাধ্যমে ক্রেতারা তাদের সুযোগ সুবিধা পাবেন। এখানে যেসব মাছ থাকবে তার সবগুলোর দাম নির্ধারণ করা থাকবে। এ বাজারে চাঁদপুরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছও বিক্রি করা হবে। ক্রেতরা দেশে কিংবা দেশের বাইরে থেকে অনলাইনের মাধ্যেমে মাছ বুকিং দেয়া যাবে। তাদের সেই পছন্দের মাছ খুব সহজেই ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।
এছাড়া চাঁদপুরে ইলিশ নিষিদ্ধ সময়ে অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। যখন নিষিদ্ধ সময় শেষ হবে তখন থেকে আবার অনলাইনে মাছ বিক্রির কার্যক্রম শুরু হবে। এসব প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তখন এটি চালু করা হলেও বর্তমানে এর বাস্তবয়ন অনেকাংশেই নেই।
মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে গিয়ে দেখা যায় চাঁদপুর মাছঘাটে ইলিশের রমরমা আমাদানী ও বেচাকেনা, দাম মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের নাগালে থাকায় উপচে পড়া ভিড় থাকলেও ঝিমিয়ে আছে অনলাইন ইলিশ বাজার। মাছঘাটের পাশেই থাকা এ প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা যায়, একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে, নেই কোনো অপারেটর।
পাশে বসে আছেন পাঁচজন পরিচালকের মধ্যে একজন ইদ্রিস আলী খান। তিনি অনলাইন ইলিশ বাজারের কার্যক্রম সম্পর্কে দ্যা গ্লোবাল নিউজ২৪.কমকে বলেন বর্তমান ইলিশ বেচাকেনা ও অনলাইন ইলিশ বাজারের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পরেছে, দেশ ছাড়াও ‘বিদেশ থেকে চাঁদপুরের ইলিশের জন্যে অনেকের ফোন পেয়ে থাকি, কিন্তু সরকারী ভাবে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রফতানি বন্ধ থাকায় আমরা ওয়াডার নিতে পারছি না। যদি সরকারি ভাবে ইলিশ রফতানির ব্যবস্থা চালু করা হয়, তাহলে চাঁদপুরের রূপালি ইলিশের চাহিদা ব্যাপক বাড়বে এবং অনলাইন ইলিশ বাজারের উদ্দেশ্যও সফল হবে। এছাড়া স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি প্রশাসনসহ সচেতন মহল যদি অনলাইনের মাধ্যমে তাদের সখের ইলিশ মাছের অর্ডার দিতেন তাহলে এই ডিজিটাল পদ্ধতির প্রচারসহ এর প্রসারও ঘটতো।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। এই ইলিশের ভরা মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ১শ’ মন ইলিশ মাছ বিক্রির টার্গেট ছিল আমাদের কিন্তু অনলাইন বাজারটির প্রচার-প্রচারণার অভাবে এখন ২০-২৫ কেজি মাছ বিক্রি করা কস্ট হয়ে যায়। এর ফলে আমাদেও টার্গেট পূরণ আদৌ সম্ভব নয়। ভরা মৌসুমে অনলাইনের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পরিমান মাছ বিক্রি না হওয়ায় আড়াই থেকে তিন মণ মাছ ফ্রিজিং করা অবস্থায় স্টোকে পড়ে রয়েছে আমাদের। স্থানীয় প্রশাসন, তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অনলাইন ব্যবহার কারী সচেতন ব্যক্তি যারা আছেন তারা প্রতিদিন যে পরিমাণ ইলিশ আড়ত ও অন্যান্য খুচরা বাজার থেকে ক্রয় করেন, সেই পরিমাণ ইলিশ মাছটি যদি আমাদের অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয় করতেন তাহলে আমাদের এ সেবাটি সার্থক হতো এবং অনলাইন ইলিশ বাজারের প্রচারণাও বাড়তো।
অনলাইন ইলিশ বাজারে ৭শ’ থেকে সাড়ে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা কেজি দরে। এর মধ্যে ১ কেজি ওজনের একটি ইলিশ ১১শ’ টাকা কেজী তার উপরের চাইজ বিক্রি হচ্ছে ১২শ’ থেকে ১৪শ’ টাকায়। তবে অনলাইন ইলিশ বাজার থেকে বর্তমানে বিক্র হওয়া মাছের প্রক্রিয়া করনে বরফ, ককশীটে প্যাকিং ও পরিবহন ব্যয় ক্রেতাকেই বহন করতে হয়। সচেতন মহলসহ সকলের দাবী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি অনলাইন ইলিশ বাজারটি দক্ষ জনবল দিয়ে পরিচালনা না করেন তাহলে ব্র্যান্ডিং জেলার এ বাজার মুখ থুবড়ে পড়বে।

Related posts