November 16, 2018

সংবাদপত্রের কালো দিবস<<'আওয়ামী লীগ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিশ্বাস করে না'

রিপন হোসেন
ঢাকা থেকেঃ
২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি বলেছেন, ৭৫-এর ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের উপর নগ্ন হামলা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতার সময় তারা বন্ধ করে দিয়েছিল দৈনিক বাংলা, টাইমস্, বিচিত্রা, আনন্দ বিচিত্রা, আর বর্তমানে বন্ধ করেছে দৈনিক আমারদেশ, চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি। সকল কিছু মিলিয়ে প্রমানিত হয় আওয়ামী লীগ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিশ্বাস করে না।

জনাব জেবেল রহমান গানি আজ বৃহস্পতিবার সকালে নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে ‘১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে’ বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখছিলেন। নগর আহ্বায়ক সৈয়দ শাহজাহান সাজু‘র সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী ফারুক হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব স্বপন কুমার সাহা, মোঃ নুরুল আমান চৌধুরী, সম্পাদক মোঃ কামাল ভুইয়া, মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, নগর সদস্য সচিব মোঃ শহীদুননবী ডাবলু, যুগ্ম আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা আনছার রহমান শিকদার, মোঃ আনোয়ার হোসেন, আবদুল্লাহ আল-কাউছারী, যুব নেতা আবদুল্লাহ আল-মাসুম, ছাত্রনেতা এইচ.এম. মেহেদী হাসান, সোলায়মান সোহেল প্রমুখ।

জেবেল রহমান গানি বলেছেন, ১৯৭৫-এর ১৬ জুন বাংলাদেশের সংবাদপত্র শিল্পে নেমে এসছিল কালো অমানিশার ঘোল অন্ধকার। সূচনা হয়েছিল এক কলংকময় ইতিহাসের। আওয়ামী লীগ আর সংবাদপত্রের স্বাধীনতা একসাথে চলতে পারে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে পদদলীত করেছিল। ৪টি সংবাদপত্র নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রেখে সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল।

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, একটি গণতান্ত্রি রাষ্ট্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অত্যন্ত জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, আওয়ামী লীগ সকল সময়ই ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রন করেছে আর সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে টুটি চেপে হত্যা করেছে। বর্তমানেও আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে কলংকিত করেছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী একদদলীয় ও ভোটারবিহীন নির্বাচন করে ঘনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে রুদ্ধ করেছে। তিনি গণতন্ত্রকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে অবিলম্বে সকল দলের অংশগ্রহনে একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে দেশের সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সাথে জাতীয় সংলাপের আয়োজন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ শাহজাহান সাজু বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোন বিকল্প নাই। গণতন্ত্রের স্বার্থেই সরকারের উচিত অবিলম্বে বন্ধ সকল গণমাধ্যমকে চালু করার ব্যবস্থা করা। অন্যথায় ইতিহাসের কাঠগড়ার দায় থেকে আওয়ামী লীগ কখনো মুক্তি পাবে না।

Related posts