September 22, 2018

শৈশবেই লক্ষ্য ছিল প্রেসিডেন্ট হওয়াঃ বারাক ওবামা

বারাক ওবামা

বারাক ওবামা ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার একটি কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে পড়তেন। ক্লাসে একদিন তাদের শিক্ষক ‘ইস ডারমাওয়ান’ শিক্ষার্থীদের নিজের জীবনের লক্ষ্য উল্লেখ করে একটি রচনা লিখতে বললেন। রচনা লেখা শেষে ‘ইস ডারমাওয়ান’ এক এক করে সবার খাতা দেখতে শুরু করলেন। খাতা দেখতে দেখতে একসময় এসে তিনি চমকে উঠলেন। কারণ ‘ব্যারি’ নামের একটি ছেলে লিখেছে সে বড় হয়ে প্রেসিডেন্ট হতে চায়। বারাক ওবামার ডাক নাম ‘ব্যারি’। অনেকে ভাবতে পারেন ছোট্ট বয়সে হয়তোবা মনের খেয়ালেই এরকমটি লিখেছিলেন ওবামা। কিন্তু এর ঠিক তিন বছর পর ওবামা যখন একটি সরকারি স্কুলে ভর্তি হন তখনও তাকে এরকম একটি রচনা লিখতে হয়। সেই রচনাতেও লিখেন তিনি বড় হয়ে প্রেসিডেন্ট হতে চান। সেদিনের শিক্ষিকা ‘ক্যাটরিনা সিনাগা’র আজও মনে আছে সেই দিনের কথা।

ওবামার বাবা-মায়ের পরিচয়ঃ

হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ যেটি প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এটি আমেরিকার একটি অঙ্গরাজ্য এবং এর রাজধানী হনলুলু। ওবামার বাবার বসবাস ছিল কেনিয়ার একটি অজপাড়া গ্রামে। সেখান থেকে সিনিয়র বারাক হুসেন ওবামা পড়ালেখা করতে আসেন ‘হনলুলু বিশ্ববিদ্যালয়ে’। অপরদিকে আমেরিকার কানসাস থেকে জীবিকার সন্ধানে শ্বেতাঙ্গ ‘ড্যানহাম’ পরিবার আসে হনলুলুতে। এই পরিবারেই ‘স্ট্যান অ্যান ড্যানহাম’ নামে একটি মেয়ে ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটনাচক্রে সিনিয়র ওবামার সাথে পরিচয় হয় স্ট্যান অ্যান ড্যানহাম এর। এই পরিচয় একসময় প্রেমে রূপান্তরিত হয়। তারা দুজন সিদ্ধান্ত নেন বিয়ে করার। কিন্তু সেসময় হনলুলু রাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ বিয়ে অবৈধ ছিল। আমেরিকার আরও অনেক রাজ্যে এরকমটি ছিল। কিন্তু রাজ্যের নিষেধ তাদের ভালোবাসায় বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারে নি। সকল বাঁধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তারা দুজন বিয়ে করেন।

অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ
৪ আগস্ট, ১৯৬১ সাল। সিনিয়র বারাক ওবামা ও স্ট্যান অ্যান ড্যানহাম এর ঘর আলোকিত করে পৃথিবীতে জুনিয়র বারাক ওবামা। জন্মের সময় বাবা-মা শখ করে ছেলের নাম রাখেন বারাক হুসেন ওবামা। বারাক শব্দের অর্থ ‘আশীর্বাদপ্রাপ্ত’। আর ডাক নাম ছিল ‘ব্যারি’।

শৈশবের ছন্দপতন
বাবা-মায়ের আদরে ভালোভাবেই কাটছিল ব্যারির শৈশবের দিনগুলো। কিন্তু পৃথিবীর হালচাল বুঝে ওঠার আগেই ছন্দপতন ঘটে তার জীবনের। ব্যারির বয়স যখন দুই বছর তখন তার বাবা-মায়ের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যায়। এর আগে অবশ্য তারা অনেকদিন আলাদাভাবেই থাকতেন। বাবা-মায়ের ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর মায়ের কাছেই থেকে যান ব্যারি।

নতুন পরিচয়
ডিভোর্সের কিছুদিন পর ব্যারির মা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দোনেশিয়ান এক ছাত্রকে বিয়ে করেন। তার নাম ছিল ‘লোলো সোয়েটরো’। ১৯৬৭ সালে ব্যারি তাদের সাথে জাকার্তায় চলে আসেন। সে সময় ব্যারির বয়স ছিল ৬ বছর। এ সময় ব্যারির নামের পরিধিটা একটু বেড়ে যায়। নতুন বাবার নামের সাথে মিল রেখে নাম রাখা হয় ‘ব্যারি সোয়েটরো’।

ব্যারিদের বসবাস ছিল জাকার্তার শহরতলীতে। এই স্থানটিতে নিম্ন মধ্যবিত্তদেরই বসবাস ছিল। রাস্তাঘাট ছিল মাটির, চারপাশটা ছিল গাছগাছালিতে ঘেরা এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল জলাশয়। এইরকম এক পরিবেশেই বড় হতে থাকেন ব্যারি। এখানকারই একটি কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয় ব্যারিকে। ব্যারির মা পড়াশোনার বিষয়ে খুবই সিরিয়াস ছিলেন। তবে মা ছেলের মধ্যে এমনিতে খুব সখ্য ছিল। এমন অনেক রাত গেছে যে রাতে মা-ছেলে চাঁদের আলো দেখতে দেখতে রাত পাড় করে দিয়েছেন।

মেধা তার ছোটবেলা থেকেই ছিল
আমেরিকা থেকে সোজা জাকার্তা। নতুন এক দেশ, নতুন ভাষা, নতুন সংস্কৃতি সবই ব্যারির কাছে নতুন। নতুন এই পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে খুব বেশি সময় নেননি ছোট্ট ব্যারি। মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার ভাষা, সংস্কৃতি সবকিছুই শিখে ফেলেছিলেন।

বন্ধুদের মন জয়
জাকার্তায় ব্যারির একটু সমস্যা ছিল। গায়ের রং কালো হওয়ায় তার সমবয়সী ছেলেদের উত্যক্ত সহ্য করতে হয়েছিল। এজন্য ব্যারির খুব মন খারাপ হতো। কিন্তু একদিন সেই বন্ধুদেরই নয়নের মনি হয়ে উঠলেন ব্যারি। কিন্তু কীভাবে?

ব্যারি ও তার বন্ধুরা পাড়ার মাঠে ফুটবল খেলছিলেন। তাদের এই খেলার মাঝে হঠাৎ করে বাগড়া বাঁধায় অন্য পাড়ার কিছু ছেলে। ছেলেগুলো ছিল খুবই দুষ্ট স্বভাবের। তাই কেউ সাহস করে তাদেরকে কিছু বলতে পারছিলো না। মুখে কিছু বলতে না পারলেও রাগে গজগজ করছিল ব্যারি। রাগে গজগজ করতে করতেই মাঠ থেকে বাড়িতে চলে যায় ব্যারি। সবাই ভাবে ভয় পেয়ে সে চলে গেছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ব্যারি আবার মাঠে ফিরে আসে এবং সাথে করে নিয়ে আসে একটি পোষা কুমিরের বাচ্চা। এই কুমিরের বাচ্চা দিয়ে সেই দুষ্টু ছেলেদের তাড়া করে। ছেলেগুলো তাড়া খেয়ে পালিয়ে যায়। এরপর আর কোনোদিন সেই ছেলেগুলো এই পাড়ায় আসেনি। এই ঘটনার পর ব্যারির সেই বন্ধুরা তাকে আর খেপায় না। তারা তাকে নয়নের মনি করে রাখে।

আবারও আবাসস্থল বদল
জীবনের চারটি বছর জাকার্তায় কাটানোর পর আবার পরিবর্তন করতে হয় আবাসস্থল। সময়টা ছিল ১৯৭১ সাল। সেসময় ব্যারির বয়স ছিল ১০ বছর। বাবা-মা কে ছেড়ে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে চলে আসেন ব্যারি। এখানে এসে নানা-নানীর কাছে থাকেন। নানী ‘ম্যাডেলিন ড্যানহ্যাম’ ছিলেন ব্যারির প্রিয় ব্যক্তিত্ব।

বারাক হুসেন ওবামা সিনিয়রের মৃত্যু

ব্যারির সাথে হনলুলুতে একদিন তার বাবা বারাক হুসেন ওবামা সিনিয়রের দেখা হয়। এই দেখাই ছিল তাদের শেষ দেখা। এরপর ব্যারির বাবা হনলুলু ছেড়ে চলে যায়। ১৯৮২ সালে বারাক হুসেন ওবামা সিনিয়ন এর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

নতুন করে শিক্ষাজীবন শুরু
জাকার্তা থেকে হনলুলুতে এসে এখানকার পুনাহো স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয় ব্যারিকে। এই স্কুল থেকেই ১৯৭৯ সালে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন ব্যারি। কিন্তু এই স্কুলজীবনে তাকে অনেক বর্ণবৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে।

হনলুলু ছেড়ে লস এঞ্জেলস
স্কুলের পাঠ চুকিয়ে এবার কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য হনলুলু ছেড়ে চলে আসেন লস এঞ্জেলস। সেখানকার অক্সিডেন্টাল কলেজে ভর্তি হয়ে দুই বছর পড়ার পর সেখান থেকে নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি হয়ে যান। এখানেই তার জীবনের বিরাট এক ঘটনা ঘটে। কিন্তু কী ঘটনা? এ বিষয়ে পরে বলছি। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৮৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন ব্যারি।
কর্মজীবন
ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করার পর কিছুদিন বিজনেস ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশনে এবং নিউ ইয়র্ক পাবলিক ইন্টারেস্ট রিসার্চ গ্রুপ নামের দুটো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ব্যারি। কিন্তু মন না টেকায় সেখান থেকে চলে যান শিকাগোতে। সেখানে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে তিন বছর কাজ করেন।

পিতৃভূমি দর্শন
ব্যারির বাবা সিনিয়র ওবামা ছিলেন কেনিয়ার অধিবাসী। ১৯৮৮ সালে ব্যারি তার পিতৃভূমি কেনিয়ায় যান। সেখানে তার অনেক আত্মীয়ের সাথে তার দেখা হয়।

আবার শিক্ষাজীবনে প্রবেশ
পিতৃভূমি থেকে ফিরে এসে হার্ভাড ল কলেজে ভর্তি হন। বছর শেষে চারপাশ থেকে সাফল্য তাকে ঘিরে ধরে। যার ফলশ্রুতিস্বরূপ হার্ভাড ল রিভিউয়ের সম্পাদক নির্বাচিত হন ব্যারি। এর ঠিক দুই বছর পর সম্পাদক থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এটি ছিল তার জন্য বিশাল এক মাইলফলক। কারণ ল রিভিউয়ের ১০৪ বছরের ইতিহাসে ওবামাই হলেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। ছোটবেলার সেই ইচ্ছার প্রাথমিক রূপ ধরা দিয়েছে। এবার পূর্ণরূপ ধরার পালা। ১৯৯১ সালে হার্ভাড ল’ কলেজ থেকে জুরিস ডক্টর ডিগ্রি নিয়ে ওবামা শিকাগো শহরে ফিরে আসেন।

জীবনের সেই বিরাট ঘটনা
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে ওবামার সাথে পরিচয় হয় মিশেল রবিনসন এর। দীর্ঘদিন প্রেম ভালোবাসার পর ১৯৯২ সালে তারা বিয়ে করেন। তাদের সংসারে রয়েছে দুই মেয়ে। তাদের একজন মালিয়া অ্যান ওবামা (জন্ম ১৯৯৯) এবং আরেকজন নাতাশা ওবামা সাশা (জন্ম ২০০১)।

মায়ের মৃত্যু
ওবামা তখন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ল’স্কুলে লেকচারার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। সময়টা ছিল ১৯৯৫ সাল। এসময় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ওবামার মা। বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে ওবামা একেবারে একা হয়ে যান কিন্তু দিশেহারা হননি।

ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছেন শৈশবের সেই লক্ষ্যের দিকে
অনেক চড়াই-উৎরাই পাড়ি দিয়ে সে ১৯৯৬ সালে ইলিনয়ের সিনেটর নির্বাচিত হন ওবামা। একইভাবে ১৯৯৮ এবং ২০০২ সালেও তিনি পূণর্বার নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৪ সালে তার ঝুলিতে জমা হয় আরেকটি সাফল্য। সে বছর বোস্টনে ডেমোক্রেটিক দলের জাতীয় সম্মেলনে এক বক্তৃতা দেন তিনি। সেই ভাষণে সে মার্কিন অর্থনীতি ও সামাজিক অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো পাল্টানোর কথা এবং ইরাক যুদ্ধে বুশ প্রশাসনের ঘৃণ্য ভূমিকার কথা বলেছিলেন। আরও বলেছিলেন, “উদারনৈতিক আমেরিকা বা রক্ষণশীল আমেরিকা বলে কোন কথা নেই। আমরা জানি আমেরিকা একটাই আর সেটা হলো ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা।” তার এই যুগান্তকারী ভাষণের কারণেই সেদিন জাতীয় এক ব্যক্তিত্ব বনে যায় ওবামা।
এরপর ২০০৪ সালে আমেরিকার সিনেট নির্বাচনে অংশ নিয়ে ওবামা ৭০% ভোট নিয়ে জিতে যান। এ জয়ের পেছনে তার ২০০৪ সালের বোস্টনের ভাষণের প্রভাব আছে বলে অনেকেই মনে করেন। ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয় তার বেষ্ট সেলার মর্যাদা পাওয়া বই ‘অডাসিটি অব হোপ’। এরপর ২০০৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদপার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান ডেমোক্রেটিক দল থেকে। তারপর এলো ২০০৮ সালের ঐতিহাসিক ৪ নভেম্বর। সেদিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিপক্ষ রিপাবলিক দলের পদপার্র্থী জন ম্যাককেইনকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হন বারাক ওবামা। সেই সাথে সে হয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের মহানায়ক।

দাস থেকে হয়ে গেলেন শাসক
সে অনেক দিন আগের কথা। প্রায় চারশত বছর। বারাক ওবামাদের পূর্ব পুরুষরা এসেছিলেন আমেরিকাতে। সে সময় তারা আমেরিকানদের দাসত্ব করতেন। শ্বেতাঙ্গদের বর্ণবিদ্বেষের কারণে তাদের চরম অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করে বেঁচে থাকতে হয়েছিল। ভাবতে অবাক লাগে, আজ সেই বর্ণবিদ্বেষী সমাজের মানুষের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
শৈশবের সেই লক্ষ্য
স্কুল জীবনেই যার লক্ষ্য ছিল বড় হয়ে প্রেসিডেন্ট হবে সে তার লক্ষ্য অর্জন করে দেখিয়েছেন। এই লক্ষ্য সে কীভাবে অর্জন করলো তা তো সকলেরই জানা। অনেক চড়াই-উৎরাই ও ত্যাগের মাধ্যমে সে তার লক্ষ্য অর্জন করেছেন। মানুষের একান্ত চেষ্টা, ইচ্ছা থাকলে পৃথিবীতে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

বারাক ওবামার প্রিয় কিছু বিষয়:
শখঃ বাস্কেটবল, লেখালেখি, বাচ্চাদের সাথে খুনসুটি।
প্রিয় বইঃ সং অব সলোমন (টনি মরিসন), মবি ডিক, শেক্সপিয়ারের ট্র্যাজেডি, পার্টি দি ওয়াটার, জিলেড (রবিনসন), সেলফ রিলায়েন্স (এমারসন), বাইবেল, লিংকন’স কালেক্টেড রাইটিংস।
প্রিয় মুভিঃ কাসাব্লাংকা, গড ফাদার, লরেন্স অব অ্যারাবিয়া এবং ওয়ান ফ্লিউ ওভার কাক্কু’স নেস্ট।
প্রিয় গায়কঃ মাইলস ডেভিস, জন কলট্রেন, বব ডিলান, স্টিভ ওয়ান্ডার ইত্যাদি।

ওবামা-মিশেলের ছাড়াছাড়ি

২০১৬ সালে ওবামার প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মিশেলের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হবে তার। ওবামা চলে যাবেন নিজের শৈশব-কৈশোরের শহর হাওয়াইয়ে, আর মিশেল থাকবেন ওয়াশিংটনে। দুই মেয়েকে ওয়াশিংটনে পড়াশোনা করাবেন তিনি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘আদর্শ দম্পত্তি’ হিসেবে বিবেচিত ওবামা-মিশলের মধ্যে ফাটলটা বেড়েছে। নেলসন ম্যান্ডেলার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠানে তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ওবামা যখন ডেনিস প্রধানমন্ত্রী হেলে থরনিং শিমিড ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে মোবাইলে ছবি তোলার সময় হাসিতে ফেটে পড়ছেন তখন পাশে গোমড়া মুখে বসে আছেন মিশেল। দ্য ইনকোয়ারারের দাবি, আলাদা শোবার ঘরে ঘুমাচ্ছেন ওবামা-মিশেল। গত ক্রিসমাস দিবসে হাওয়াইয়ে এক সঙ্গে বেরুতে গিয়েছিলো ওবামার পরিবার। কিন্তু ফেরার সময় স্ত্রীকে একা ফেলে দুই মেয়ে মালিয়া ও শাশাকে নিয়ে ওয়াশিংটনে আসেন ওবামা। এর আগেও ওবামা দম্পত্তির ছাড়াছাড়ি হওয়ার খবর শোনা গিয়েছিল। তারা বিয়ের কয়েক বছর পরে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমনকি বিচ্ছেদের কাগজপত্রও প্রস্তুত করা হয়েছিল। ওবামারা রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ততা, পরিবারকে সময় না দেওয়া ইত্যাদি কারণে সম্পর্কের ইতি টানতে চেয়েছিলেন মিশেল। ২০০৯ সালে ওয়াশিংটনের প্রবীণ সাংবাদিক রিচার্ড উলফে লিখেছিলেন, নয় বছর আগে ওবামার রাজনৈতিক উত্থান-পতন ও পরিবারের অনাটনের কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটতে ধরেছিল।

Related posts