September 22, 2018

শেষ মুহূর্তে নাটকীয়তার পরও সিলেটে বিদ্রোহ

শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় প্রার্থী বদল হলো সিলেটের গোলাপগঞ্জে। আগে ঘোষণা করা হয়েছিল এ পৌরসভায় প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ মিসবাহ আহমদ। কিন্তু গতকাল প্রার্থী বদল করে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলো দুই বারের মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলুকেই। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহউদ্দিন আহমদ এ পৌরসভায় মেয়র পাপলুকে মনোনয়নের কথা নিশ্চিত করেছেন। এরপরও গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহ দমাতে পারছে না

আওয়ামী লীগ। শেষ মুহূর্তে গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের দুই নেতা বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন। এতে করে আওয়ামী ঘরানার ভোট ভাগাভাগি হবে বলে জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। এ পৌরসভায় এবার আওয়ামী লীগের সমর্থনের অপেক্ষায় ছিলেন বর্তমান মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক পৌর প্রশাসক সিরাজুল জব্বার চৌধুরী, লন্ডন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাবেল ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ মিসবাহ আহমদ। সৈয়দ মিসবাহ আহমদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও পৌর নির্বাচনে আঁটঘাট বেঁধে লড়াইয়ে নেমেছেন সিরাজুল জব্বার চৌধুরী ও আমিনুল ইসলাম রাবেল। এই দুই নেতা সহ বর্তমান মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচন উপ-কমিটির ডাকে সাড়া দেননি। এর ফলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায়ও তাদের নাম ছিল না।

কিন্তু পাপলু শেষ মুহূর্তের ডাকে সাড়া দেয়ায় তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আর অন্য দুই প্রার্থী দলের কাছ থেকে মনোনয়ন চাননি। তারা স্বতন্ত্র হয়েই নির্বাচন করবেন। এই দুই প্রার্থীর সমর্থকরা জানিয়েছেন, গতকালও তারা দুইজন পৌর শহর সহ বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী গণসংযোগ চালিয়েছেন। এ পৌরসভায় বিএনপিরও বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তবে, গতকাল পর্যন্ত তাদের প্রার্থিতা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন। সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহমদ জানিয়েছেন, মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন দিতে গত রাতে বৈঠকে বসেছেন নেতারা। এ পৌরসভায় ইতিমধ্যে পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া শাহীনের পক্ষে বেশিরভাগ নেতাকর্মীরা মত দিয়েছেন। তবে, আইনি জটিলতায় তার মনোনয়ন আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় এ পৌরসভায় বিএনপি দ্বিতীয় পছন্দের তালিকায় রেখেছে পৌর বিএনপির সভাপতি মশিকুর রহমান মহিকে।

এছাড়া, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন। তবে, তার সঙ্গে দলের পক্ষ থেকে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। জকিগঞ্জে একক প্রার্থী মনোনীত করে বেশ সুসংহত অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। বিএনপির পক্ষ থেকে এ পৌরসভায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বিএনপি নেতা অধ্যাপক বদরুল হক বাদলকে। তার সঙ্গে আরও দুই নেতা মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু দলের সিদ্ধান্ত আসার পরপরই তারা নীরব হয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছড়াছড়ি বেশি। জকিগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাজী খলিল উদ্দিনকে এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে মাঠ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমদ। তিনি নির্বাচন করবেনই।

একই সঙ্গে এখন মাঠে সক্রিয় রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাছিম আহমদ, সাবেক মেয়রপুত্র আব্দুল আহাদ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র বাবুল হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগ সদস্য আব্দুর রহমান লুকু ও যুবলীগ আহ্বায়ক আব্দুশ শহীদ। স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোষণাকারী ফারুক আহমদ জানিয়েছেন, পৌর শহরের বাসিন্দা ও তৃণমূলের নেতারা তার পক্ষে রয়েছেন। সুতরাং তিনি নির্বাচন করবেন। কানাইঘাটে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমান। তিনিও পড়েছেন বিদ্রোহীদের কবলে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আল মিজান প্রার্থী হয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

শেষ মুহূর্তেও তিনি নির্বাচনী মাঠে থাকবেন বলে গতকাল তার অনুসারীরা জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম খোকন এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকলেও তিনি শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়াতে পারেন। বিএনপিতে এ পৌর নির্বাচনে তেমন কোনো বিদ্রোহ নেই। ইতিমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বিএনপির সিনিয়র নেতা আব্দুর রহিম ভরসাকে। তবে, এখনও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বিএনপি নেতা শরিফুল হক শরীফ ও নুরুল ইসলাম। জেলা নেতাদের আহ্বানে তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে ইতিমধ্যে তাদের সমর্থকরা জানিয়েছেন। মা.জ.

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts