November 21, 2018

শেষ ওভারে সিলেট সিক্সার্সের নাটকীয় জয়

IMG_20171105_194812_192বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি  :: দারুণ খেলতে থাকা সিলেট সিক্সার্স শেষ দুই ওভারে এসে এভাবে চাপে পড়বে, কে ভেবেছিল! ভাবনায় থাকে না বলেই খেলাটা ক্রিকেট। ভাবনায় থাকে না বলেই সোহানের ব্যাটে সিলেট সিক্সার্সের জয়টা ধরা দেয় নাটকীয় হিসেবে।
শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য সিলেট সিক্সার্সের প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। ১৯তম ওভার থেকে এলো ৬ রান। ওই ওভারের শেষ বলে অহেতুক রান আউট হয়ে দলের বিপদ আরো বাড়িয়ে যান রস হুইটলি।
জয় পেতে শেষ ওভারে প্রয়োজন ১০ রান। স্টেডিয়ামের গ্যালারিজুড়ে চরম উত্তেজনা, রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। ব্র্যাভোর হাতে বল তুলে দিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের দলনায়ক নবী। প্রথম বলেই শুভাগত হোমের স্ট্যাম্প উড়িয়ে যেন বিজয় সুবাস পেতে শুরু করেছিলেন ব্র্যাভো, কুমিল্লার উল্লাস ছিল বাঁধভাঙ্গা। ৫ বলে চাই ১০ রান। উইকেটে এসে প্রথম বলেই উড়িয়ে মারলেন নুরুল হাসান সোহান। লং অনে ক্যাচ শিকারের আশায় ছিলেন রশিদ খান। কিন্তু বল তার মাথার উপর দিয়ে পড়লো সীমানার ওপারে। ৪ বলে প্রয়োজন চার রান। তৃতীয় ও চতুর্থ বলে এলো এক রান করে। শেষ দুই বলে চাই দুই রান। ওভারের পঞ্চম বলে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ব্র্র্যাভোর শর্ট বলটিকে শর্ট থার্ড ম্যান দিয়ে সীমানা ছাড়া করে শুন্যে লাফিয়ে ওঠলেন সোহান, হুড়মোড় করে নাসির, সাব্বিররা ঢুকে পড়লেন মাঠে। চার উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয়োল্লাসে মাতলো সিলেট সিক্সার্স!
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এ যেন কাল বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেট সিক্সার্স-ঢাকা ডায়নামাইটস ম্যাচের পুনরাবৃত্তি! টস জিতে ফিল্ডিং নাও, প্রতিপক্ষকে দেড়শ’র মধ্যে আটকে রাখো, ব্যাটিংয়ে লেলিয়ে দাও থারাঙ্গা-ফ্লেচারকে, কাজ শেষ। বাকিটা জয়োৎসবের গল্প! অবশ্য, শেষার্ধে ওই নাটকীয়তাটুকু বাড়তি আবহ যোগ করেছে আজকের ম্যাচে। ঘরের মাঠে টানা দ্বিতীয় জয়ে হিসেবনিকেশ উল্টে দিচ্ছে এবারের আসরে কাগজে-কলমে ‘দুর্বল’ দল সিলেট সিক্সার্স।
আগের ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন উপুল থারাঙ্গা। সাথে আগের ম্যাচের আরেক হাফ সেঞ্চুরিয়ান আন্দ্রে ফ্লেচার। কাল বিপিএলের প্রথম ম্যাচে এ দুজনের উদ্বোধনী জুটিতেই জয়ের ভিত গড়েছিল সিলেট সিক্সার্স। একই কাজ আজ আরো একবার করেছেন থারাঙ্গা-ফ্লেচার। দুজনের ৮.৪ ওভার স্থায়ী জুটির ৭৩ রানেই মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দলকে ৭৩ রানে রেখে ফ্লেচার যখন স্বদেশী ব্র্যাভোর স্লোয়ার বলে রশিদ খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরছিলেন, তার নামের পাশে তখন ২৯ বলে পাঁচ চার ও দুই ছয়ে ৩৬ রান। কাল ৫১ বলে ৬৩ করেছিলেন এই উইন্ডিজ ব্যাটসম্যান।
এরপর সিলেটকে কিছুটা চেপে ধরে কুমিল্লা। স্কোর বোর্ডে আরো দশ রান যোগ হতেই ভিক্টোরিয়ান্সের দলপতি মোহাম্মদ নবীর বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন সিক্সার্সের আইকন প্লেয়ার সাব্বির রহমান। কিছুক্ষণ পর নাসিরের সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটের হতাশায় পুড়েন থারাঙ্গা। তার ৪০ বলের ৫১ রানের ইনিংসে পাঁচটি চারের সাথে ছিল দুটি বিশাল ছক্কা। সিক্সার্স অধিনায়ক নাসিরও টিকেন নি বেশিক্ষণ। ২০ বলে দুই চারে ১৮ রান করে রশিদ খানের বলে লিটন দাসের স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ফিরেন নাসির।
এরপর ১৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি হয় রস হুইটলি ও শুভাগত হোমের মধ্যে। পরপর দুই বলে এ দুজনের বিদায়ে যে সংশয়ে পড়েছিল সিলেট সিক্সার্সের জয়, সোহানের ৩ বলে ১১ রানের ইনিংসে সেই সংশয় গিয়ে পড়ে সুরমা নদীর বুকে!
এর আগে, সিলেট সিক্সার্সের সামনে ১৪৬ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। উদ্বোধনী ম্যাচে দলকে শুরুতেই উইকেট এনে দিয়েছিলেন দলনায়ক নাসির। সেই নাসিরই আজ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে আবারও সিলেট সিক্সার্সকে এনে দেন আনন্দের বাতাবরণ।
প্রথম দুই ওভারে ১০ রান স্কোরবোর্ডে যোগের পর, তৃতীয় ওভার থেকে রানের চাকা গতিশীল করার চেষ্টা করেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের লিটন দাস আর ইমরুল কায়েস। ৪.৩ ওভারে রান ওঠে ৩৬। নাসিরের নিজের দ্বিতীয় এবং ইনিংসের পঞ্চম ওভারের চতুর্থ বল। নিরীহ বলটিকে কাভারে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পে টেনে আনেন ইমরুল কায়েস (১১ বলে ১২)।
এরপর তাইজুল ইসলামের জোড়া আঘাত। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে তাইজুলের বল দেন সিক্সার্স দলপতি নাসির। ওই ওভারের শেষ বলটি অফ স্ট্যাম্পের শর্ট ছিল; শট খেলতে গিয়ে মিস করেন দারুণ খেলতে থাকা লিটন। উইকেটের বাইরে থাকা লিটনকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলতে সমস্যা হয়নি নুরুল হাসান সোহানের। ফেরার আগে ১৯ বলে দুই চার ও এক ছয়ে ২১ রান করেন লিটন। নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই আবারও আঘাত হানেন তাইজুল। বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান জস বাটলার ইংল্যান্ড দলে তারই সতীর্থ প্ল্যাঙ্কেটের হাতে লং অফে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগালেও স্যামুয়েলস উইকেট দেননি তাইজুলকে।
৪৪ রানে উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ইনিংস মেরামত শুরু করেন স্যামুয়েলস ও সিলেটের ঘরের ছেলে অলক কাপালি। এ দুজনের ৩৭ বলে ৪২ রানের জুটিতে পথ খুঁজে পায় কুমিল্লার ইনিংস। নিজের চেনা মাঠে দারুণ খেলতে থাকা কাপালি রান বাড়ানোর চেষ্টায় ডিপ মিড উইকেটে ক্রিশমার সান্টোকির বলে সাব্বির রহমানের তালুবন্দী হন। এই সান্টোকির বলেই দুটি বিশাল ছক্কা আর নাসিরের বলে একটি চার হাঁকিয়ে ১৯ বলে ২৬ রান করে বিদায় নেন কাপালি।
এরপর দ্রুতই ফিরে যান মোহাম্মদ নাবী। সান্টোকির বলে শুভাগত হোমের তালুবন্দী হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৫ রান। শুরুতে ধীরে খেলতে থাকা স্যামুয়েলস পরে বলকে সীমানার উপর দিয়ে উড়িয়ে ফেলেছেন তিনবার। ৪১ বলে অর্ধশতক করা স্যামুয়েলস ইনিংসের শেষ ওভারে লং অনে প্ল্যাঙ্কেটের বলে নাসিরের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন। তার ৪৭ বলে ৬০ রানের ইনিংসে ছিল তিনটি ছয় আর দুটি চার।
ওভারপ্রতি ৭.২৫ গড়ে ছয় উইকেটে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে শেষ হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ইনিংস।

Related posts