November 17, 2018

শেরপুরে ২৭ ঘন্টা পর ফের হাতির আক্রমণে নিহত ১: মাসে প্রাণ গেল ৭ জনের

মোঃ আজিজুর রহমান ভূঞা বাবুল, ময়মনসিংহ ব্যুরো: শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা ঝিনাইগাতীতে ২৭ ঘন্টা পর ফের ভারতীয় বন্য হাতির আক্রমনে পদপিষ্ট হয়ে তাওয়াকুচা টিলাপাড়া গ্রামের ফজল হকের স্ত্রী মমেনা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার তাওয়াকুচা টিলাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকার লোকজন জানান, শুক্রবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৭০/৮০টি বন্য হাতি তাওয়াকুচা টিলাপাড়া গ্রামের বসত বাড়িতে হামলা করে। এসময় মমেনা বেগম এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাওয়ার সময় একটি হাতি তাকে শুঁড দিয়ে পেঁচিয়ে পদপিষ্ট করে মেরে ফেলে।

কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জহুরুল হক বন্য হাতির আক্রমনে মমেনাা বেগমের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তনি আরও বলেন ,গত একমাসে বন্যহাতির তান্ডবে জেলায় নিহত হয়েছেন সাত জন। ধ্বংস হয়েছে ঘরবাড়ি ও শতশত একর ফসলি জমি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৯ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত শতাধিক বন্য হাতির দল দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে সীমান্ত পিলার পেরিয়ে পানবর ও দুধনই গ্রামে তান্ডব চালিয়ে হামলা করে তিন ব্যক্তিকে পায়ে পিষে পানবর গ্রামের সুন্নত আলীর স্ত্রী আয়তন নেছা (৪৬), জহুরুল (৫৬) ওরফে কালা জহুরুল এবং গুরুচরণ দুধনই গ্রামের আব্দুল হাই (৫২) কে মেরে ফেলে।

এছাড়াও সম্প্রতি হাতের আক্রমণে নিহত হন বাকাকুড়া গ্রামের কেন্ডরাম সাংমার ছেলে বাসিরাম চাম্বুগং (৬০), চিবিরণ বেওয়া (৫০) ও ললেন মারাক (৬২)। আহত হয়েছেন অগণিত নিরীহ গ্রামবাসী।

এ ভাবেই প্রায় প্রতি রাতেই বন্যহাতির দল অবিরাম তান্ডব চালিয়ে ভাংচুর করেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বসতবাড়ি, ধ্বংস করেছে শতশত একর ধানক্ষেত, গাছ-গাছালি ও সবজির ক্ষেত।

বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাসু মিয়া, রেবা বেগম, ইন্নত মিয়া, আলম ও রতন মিয়া জানায়, সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পানবর গ্রামের ফসলি জমিতে রোপিত আমন ধানের থোর খাওয়ার জন্য এক দল বুনোহাতি আসে। এসময় গ্রামবাসী মশাল ও সার্চ লাইট জ্বালিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে হৈ-হুল্লোর করে হাতির দলকে তাড়া করে।
এতে হাতির দলটি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে পানবর ও গুরুচরণ দুধনাই গ্রামের লোকালয়ে ঢুকে ঘরবাড়িতে হামলা চালায়। এসময় হাতির তাড়া খেয়ে নিজের কাঁচা বাড়ি ছেড়ে প্রায় তিনশ গজ দূরে কালা জহুরুল একটি সেমিপাকা ঘরে দৌঁড়ে আশ্রয় নেন। তার পেছনে ধাওয়া করে হাতির দলটি ওই বাড়িতে গিয়ে ওঠে এবং সেমিপাকা ঘরটির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
এতে প্রাণভয়ে জহুরুল ও ঘরে থাকা নারী আয়তন নেছা খাটের নিচে আত্মগোপন করলে একটি হাতি সেখান থেকে তাদের টেনে বের করে ঘরের মেঝেতেই উভয়কে পায়ে পিষ্ট করে। এসময় ঘরের সব আসবাবপত্রও ভাঙচুর করে।

এলাকার লোকজন জানান, ২১ বছরের মধ্যে এবারই হাতির আক্রমণে এতো হতাহতের ঘটনা ঘটলো।##

 

Related posts