November 19, 2018

শেরপুরে শীতকালীন সবজি চাষে ভাগ্য বদল কৃষকের

 

shepur-vegitable-pic-2

সানী ইসলাম, শেরপুর:

শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার মানুষের আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে ভাগ্য বদলে যাচ্ছে। এ পাহাড়ি এলাকায় এক সময় বিস্তীর্ণ জমি পতিত থাকতো। আর এখন ওই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে দু’চোখ যতদূর যায় শুধু সবুজ আর সবুজ।

পাহাড়ের এই বিস্তীর্ণ এলকায় এখন বছরজুড়েই চাষ হচ্ছে বেগুন, শসা, করলা, কাকরোল, বরবটি, সীম, চিচিঙ্গা, লাউসহ বিভিন্ন সবজি। বিশেষ করে শীতকালীন আগাম বেগুন, লাউ, বরবটি, সীম, বাঁধাকপি চাষ করে ভাগ্য বদলে যাচ্ছে সীমান্তবাসী মানুষের।
বিশেষ করে জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাঁতী উপজেলার পাহাড়ি গ্রামগুলোতে এখন বছরজুড়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। অথচ গত কয়েক বছর আগেও সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর হতদরিদ্র মানুষ কেবলমাত্র বছরে এক ফসলি ধান চাষ করে বছরের বাকি সময় বেকার সময় কাটাতেন।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাঁতী ও শ্রীবর্দী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকার প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজির চাষ করা হচ্ছে। সারাদেশে অগ্রহায়ণ মাস থেকে শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করলেও ওই সব গ্রামে কার্তিক মাস থেকেই শীতকালীন আগাম সবজি পাওয়া যাওয়ায় শেরপুরসহ ঢাকা থেকে বিভিন্ন পাইকাররা আসতে শুরু করেছে এ বাজারে। মাত্র ৩ ঘণ্টার বাজারে বেচা-বিক্রি শেষে পাইকাররা পিকআপ ও ভটভটি করে তাদের সবজি নিয়ে যাচ্ছে।
জেলার সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ি, ঝিনাইগাঁতী ও শ্রীবর্দী উপজেলার পাহাড়ি প্রায় ৩০টি গ্রামে এ সবজির চাষ করা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি ঝিনাইগাঁতী উপজেলার হলদিগ্রাম, ফাকরাবাদ, গোমরা, বারুয়া, মানিককুড়া, সন্ধ্যাকুড়া, রাংটিয়াসহ প্রায় ১০টি গ্রামে সবজি চাষ হওয়াতে ওই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে ভিড় করছেন স্থানীয় হলদিগ্রাম চৌরাস্তার সকাল বাজারে।

সবজি চাষি জামাল মিয়া জানান, সকালে সবজি  বাজারে নিয়ে আসলে তা বেচা-বিক্রি শেষ হয়ে যায় সকাল ৯ টার মধ্যেই। সবজি দামও ভালো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আশরাফ উদ্দিন বলেন,  চাহিদা ও দাম ভালো  থাকায় কৃষকরা আগাম শীতকালীন সবজির দিকে  ব্যাপক ভাবে ঝুঁকছেন। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগীতা দিচ্ছি।

Related posts