April 20, 2019

শেরপুরে বিএনপির দুর্গ আ.লীগের দখলে!

শেরপুর থেকেঃ  শেরপুর জেলার ৪ পৌরসভার মধ্যে ৩টি ছিল বিএনপির দখলে। আর একটি ছিল আওয়ামী লীগের। এবার বিএনপির তিন দুর্গ দখলে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। অর্থাৎ বিএনপির ওই ৩টিসহ ৪টিতেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে।

শেরপুর জেলার সদর পৌরসভায় নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক মেয়র গোলাম কিবরিয়া লিটন ২৩ হাজার ৪০৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির সাবেক মেয়র আব্দুর রাজ্জাক আশীষ পেয়েছেন ২৩ হাজার ১৪০ ভোট।

এখানে আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়র হুমায়ুন কবীর রুমান দলীয় মনোনয়ন পায়নি। তার পরিবর্তে সাবেক মেয়র গোলাম কিবরিয়া লিটনকে দেয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগের লিটন এবং বিএনপির আশীষের সমপর্যায়ের জনপ্রিয়তা থাকলেও সরকার দলীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়া এবং দলীয় মেয়রের প্রত্যাশায় সাধারণ ভোটার আওয়ামী লীগ প্রার্থীকেই বিজয়ী করে বলে সচেতন মহল মনে করছে। এখানে বিএনপি প্রার্থী মাত্র ২৬৭ ভোটে পরাজিত হয়।

নকলা পৌরসভায় নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাফিজুর রহমান লিটন ৭ হাজার ৭০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জগ প্রতীকের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নূরে আলম সিদ্দিকী উৎপল পেয়েছেন ৫ হাজার ১২৩ ভোট । এখানে বিএনপি মনোনীত ও বর্তমান মেয়র মোখলেছুর রহমান তারা একক প্রার্থী থাকলেও দলীয় নেতাদের একনিষ্টভাবে নির্বাচনী মাঠে নামাতে না পরার কারণে তার ভরাডুবি হয়েছে বলে স্থানীয় সচেতন ভোটাররা অভিমত প্রকাশ করেছেন।

অনেকেই আবার মনে করছে, বিগত সময়ে তিনি এলাকার তেমন কোনো উন্নয়ন করতে পারেনি। ফলে সাধারণ ভোটাররা তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সরকার দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করেছে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে। যদিও নির্বাচনের মাঠে এখানে আওয়ামী লীগের শক্ত বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। শেষ পর্যন্ত ওই বিদ্রোহী প্রার্থীর সাথেই তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।

নালিতাবাড়ী পৌরসভার মেয়র পদে নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক ৪ হাজার ৭১২ ভোট পেয়ে নিবাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি মনোনীত বর্তমান মেয়র আনোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৭১ ভোট। এখানেও আওয়ামী লীগের শক্ত বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল সাবেক মেয়র আব্দুল হালিম উকিল।

অপরদিকে, এখানে সামছুল আলম সওদাগর নামে বিএনপির একজন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বিএনপির বিদ্রোহীদের কেউই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেনি। লড়াই হয় আওয়ামী লীগ বিএনপির দলীয় মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গেই।

শ্রীবর্দী পৌরসভায় নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু সাঈদ ৭ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র আব্দুল হাকিম পেয়েছেন ৬ হাজার ৭৭৭ ভোট। এখানে আল বেরুনী নামে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও ভোটে মাঠে তিনি কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। এখানে সচেতন ভোটাররা মনে করছে বিএনপির বর্তমান মেয়র পরাজিত হওয়ার মূল কারণ হলো বিগত সময়ে বর্তমান মেয়র উন্নয়নমূলক তেমন কোনো কাজ করতে পারেনি।

এছাড়া আওয়ামী লীগের ওই তরুণ প্রার্থী আবু সাঈদের এলাকায় দলমত নির্বিশেষে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং সরকার দলীয় মেয়র থাকলে এলাকার উন্নয়ন হওয়ার আশায় সাধারণ ভোটার তাকেই নির্বাচিত করেছে।বামে

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts