November 16, 2018

‘শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর একটি মানুষকেও না খেয়ে থাকতে হয়নি’

তিস্তা থেকে ফিরে
মহিনুল ইসলাম সুজনঃ
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের পুর্ণবাসনের দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। তিস্তার বন্যার পানি সড়ে না যাওয়া পর্যন্ত শেখ হাসিনার সরকার আপনাদের খাওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারের পাশে সব সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আছে। প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশেই আমি আপনাদের খোঁজ খবর নেয়ার জন্য বন্যা দূর্গত এলাকায় এসেছি। আপনাদের কোন ভয় নেই, আপনারা নির্ভয়ে ধৈর্য ধারন করুন। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর একটি মানুষকেও না খেয়ে থাকতে হয়নি। আপনাদেরকেও না খেয়ে থাকতে হবেনা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সকলের জন্য পর্যাপ্ত পরিমানের ত্রানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তানদীর বন্যা দূর্গতদের এ কথা বলেন, দূর্যোগ ব্যবস্হাপনা ও ত্রান মন্ত্রী বীর বিক্রম মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি অতিদ্রুত বন্যা ও ভাঙ্গনের কবলে বসত বাড়ী বিলীন হওয়া পরিবারের তালিকা তৈরী করে তাদের প্রতিটি পরিবারের মাঝে ৩ বান্ডিল টিন ও ৩ হাজার করে টাকা বিতরনের জন্য নীলফামারী জেলা প্রশাসককে নির্দেশ প্রদান করেন। এ সময় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্হরা তিস্তা নদীতে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের দাবী জানালে, মন্ত্রী উত্তরে জানান, তিস্তা নদীতে অতিদ্রুত বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মানের আশ্বাস প্রদান করেন। এবং বন্যার কারনে ক্ষতিগ্রস্থ স্কুল,ব্রীজ,কালভার্ট ক্লিনিক,বাঁধ, রাস্তাঘাটসহ সবকিছুই খুব শীঘ্রই মেরামত করা হবে ।

তিনি তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন হেলিপ্যাড মাঠে তিস্তার বন্যায় ও ভাঙ্গনে নিঃস্ব পরিবারে মাঝে ত্রান বিতরন করেন। নীলফামারীর জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, নীলফামারী-১(ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার, দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের সচিব শাহ্ কামাল, মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মেদ, পরিচালক (ভিজিএফ) গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা-তবিবুল ইসলাম,ভুমি কর্মকর্তা (সহকারী কমিশনার ভুমি) মিল্টন চন্দ্র রায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নায়েমা তাবাচ্ছুম শাহ, টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন ও একই ইউনিয়নের সরকার দলীয় আওয়ামীলীগের মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ময়নুল হক।এ ছাড়াও এতে অন্যান্যদের মধ্যেও উপস্হিত ছিলেন, খালিশা চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার, খগাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান-রবিউল ইসলাম লিথন,নাউতরা ইউপি চেয়ারম্যান-সাইফুল ইসলাম লেলিন, গয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শরিফ ইবনে ফয়সাল মুন,টেপাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন,একই ইউনিয়নের সরকার দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাত্রনেতা-ময়নুল হকসহ উপজেলা আওয়ামীলীগের সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং তিস্তা অবস্হিত খালিশা চাপানী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও এর সকল নেতাকর্মীবৃন্দ।

এর আগে একই দিনের সকালে একই স্হানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন ও ত্রান বিতরন করতে এসে বলেন, তিস্তা নদী দ্রুত সময়ের মধ্যে পলি অপসারনের জন্য ডেজিং (খনন) করা হবে। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর একটি মানুষকেও না খেয়ে থাকতে হয়নি,এবং হবেও না। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সকলের জন্য পর্যাপ্ত পরিমানের ত্রানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।প্রয়োজনে আরো করা হবে।

অতিতের সে কোন সরকারের চেয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার নদী নাব্যতা নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।

৫ সদস্যের ওই প্রতিনিধি দলের মধ্যে এসব কথা বলছিলেন, সাবেক বানিজ্যমন্ত্রী (কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত) ফারুক খান এমপি,ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, বেসরকারী বিমান পর্যটন ও পরিবরহন মন্ত্রানালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি।

বলা যেতে পারে তিস্তার পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে,যার কারনেই মঙ্গলবার (২ই জুলাই)সকালে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এই প্রতিনিধি দল এখানে আসেন।যে প্রতিনিধি দলে ছিলেন, বে-সরকারী বিমান পর্যটন ও পরিবহন স্থায়ী কমিটির সভাপতি,সাবেক বানিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল ফারুক খান এমপি, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক অসীম কুমার উকিল,নীলফামারী-১(ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার, সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩০২ লালমনিরহাটের এ্যাডভোকেট সফুরা বেগম, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মতিয়ার রহমান।পরিদর্শন শেষে তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন হেলিপ্যাড মাঠে তিস্তার বন্যায় ও ভাঙ্গনে নিঃস্ব ২ হাজার পরিবারে মাঝে ৩০ কেজি করে চাল ও ৭শ পবিারের মাঝে নগদ ১ হাজার করে টাকা বিতরন করা হয়।

এ সময় প্রতিনিধি দলের সাথে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, ভুমি কর্মকর্তা(সহকারী কমিশনার ভুমি) মিল্টন চন্দ্র রায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নায়েমা তাবাচ্ছুম শাহ,টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন,একই ইউনিয়নের সরকার দলীয় আ”লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী- ময়নুল ইসলাম,খালিশা চাপানী ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখিতঃ নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তার ভাঙ্গনে সর্বশান্ত হয়ে দুই সহস্রাধিক পরিবার বাঁধসহ উচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। তিস্তা নদীর মূল অংশ ভরাট ও অসম্পন্য বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে গত ২০দিনে তিস্তার মূল অংশের বাইরে চরখড়িবাড়ী হয়ে নতুন দুটি চ্যানেল তৈরি হয়েছে। টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী, মধ্য খড়িবাড়ী, পুর্ব খড়িবাড়ী, একতার বাজার, দীঘির পাড়, টাবুর চর সহ ১০টি গ্রামের ২ হাজার ২৪০টি পরিবার বসবাস করলেও ইতিমধ্যে ১ হাজার ৮৩৬টি পবিবারের বসতভিটা, আবাদী জমি, বিদ্যালয়, রাস্তাঘাট পুল কালভার্ট বিলিন হয়েগেছে। বাকী পরিবারগুলি রয়েছে পানিবন্দি অবস্থায়। হুমকীর মুখে রয়েছে চড়খড়িবাড়ী বিজিবি ক্যাম্প। এছাড়া ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ছাতুনামা ও ফরেষ্টের চরের ৩৪৫টি পরিবার। খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের কিসামত ছাতনাই গ্রামের ৩৫টি পরিবার তিস্তা নদীতে বিলিন হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা যায়, তিস্তার বাঁধসহ উচু স্থানে ১ হাজার ৮৭৫টি পরিবার বসতভিটা ভেঙ্গে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও ত্রান মন্ত্রানালয়ের উদ্দোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুত সহ সহযোগীতার জন্য ৭টি তথ্য কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তথ্য কেন্দ্রে সুত্রে জানা যায়, তিস্তার সিলট্রাপে ৪৯৭টি পরিবার, তিস্তার ক্যাঞ্জার ড্যাম (কলম্বিয়া বাধে) ১৪৭টি পরিবার, তেলির বাজার ১২০টি, চেয়ারম্যান বাড়ী সংলগ্ন বাধে ৮৪টি, যৌথ বাঁধে ১৭৭টি, সানিয়াজান বাঁধে ২১৭টি, ফ্লাড ফিউজ সংলগ্ন বাঁধে ১৮৭টি পরিবার, খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোহলপাড়া বাঁধে ৫০টি পরিবার, কালীগঞ্জ যৌথ বাঁধে ৪০টি পরিবার, ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের পুর্ব ছাতুনামা ৩১৭টি পরিববার আশ্রয় নিয়েছেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts