November 21, 2018

‘শুধু ৩০ লাখ নয়, খালেদা আরো ৭টি বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন’

ঢাকাঃ  বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী সভাপতি অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শুধু ৩০ লাখ শহিদের সংখ্যা নিয়েই প্রশ্ন তুলেননি, তিনি আরো ৭টি বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু সেই বিষয়গুলো মিডিয়াতে উঠে আসেনি। শুধুমাত্র ৩০ লাখ শহিদের বিষয়টা মিডিয়াতে তুলে ধরা হয়েছে। ঐ ৭টি বিষয়ের মধ্যে বলা হয়েছে- আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়নি, স্বাধীনতা চায়নি।

শনিবার একাত্তর টেলিভিশনে ‘একাত্তর সংযোগ’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ড. মুনতাসীর মামুন। অনুষ্ঠানে আলোচনার বিষয় ছিল ‘সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় ২০১৬’। আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল এবং সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাষ্ট্রদূত সমশের মবিন চৌধুরী (বীরবিক্রম)।

তিনি বলেন, জনাব সমশের মবিন চৌধুরী আশা করি আমার কথা শুনে আপনি ক্ষুব্ধ হবেন না, আবার কিছু মনে করবেন না। আপনি ( সমশের মবিন) বিএনপির প্রশ্নে এমন যুক্তিবাদী কথা বলছেন যা বিএনপির অন্য কোনো নেতা বলতে পারবেন না। এদেশে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে পৌঁছাতে হবে।

মাবতাবিরোধী সম্পর্কে তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধকে রাজনৈতিক দল সমর্থন করে না। কিন্তু আমাদের দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ জামায়াত-বিএনপি সমর্থন করে। কারণ জামায়াত মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে আর বিএনপি এর সমর্থন করছে।

তিনি বলেন, এখন বিএনপি-জায়ামাত যে বক্তব্য দিচ্ছে তা শুনে মনে হয়- এ দু’দলের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে পার্থক্য শুধু এক দলের লোকজন পাশ্চাত্যের পোশাক পড়ে আর আরেক দলের লোকজন পাশ্চাত্যের পোশাক পড়ে না।

অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, পাকিস্তান পার্লামেন্ট থেকে শুরু করে পাকিস্তানের রাষ্ট্র নায়ক যেসব কথা বলছেন- ঠিক তারেই প্রতিফলন বিএনপি-জামায়াত। সেজন্যই এখন আমরা বলছি ‘পাকিস্তানী বাঙালি’। আগে কিন্তু আমরা ‘পাকিস্তানী বাঙালি’ শব্দটি ব্যহবহার করিনি।

এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল বলেন, ২০১৩ সাল থেকে শুরু করে ’১৫ সালে ডিসেম্বর মাসে খালেদা জিয়া যেসব ‘স্টেটম্যান্ট’ দিয়েছেন সেগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে এসব স্টেটম্যান্ট একই সূত্রে গাঁথা। এখনো বিএনপি তার পৃথক সত্তা প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। এমনকি এ দলটা তা চেষ্টাও করছে না।

অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল বলেন, সমশের মবিন চৌধুরী একজন মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার পরেও বিএনপিতে টিকে থাকতে পারেননি। এ দলের ভেতর আরো অনেক মুক্তিযুদ্ধা রয়েছেন। তারা কতদিন টিকে থাকতে পারবেন তা বলা কঠিন। তবে তারা যদি এখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেন তাহলে বিএনপিতে থাকতে পারবেন না। কেন না বেগম খালেদা জিয়া গোটা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাল্টে দিতে চাচ্ছেন। আজকে তিনি (খালেদা জিয়া) যে ভাষায় কথা বলছেন তাতে বোঝা যায় তিনি দেশের জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাদ দিয়ে জামায়াত-পাকিস্তানকে খুশি রাখতে চান। এদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবাদ দিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল টিকতে পারবে না। ডিসেম্বর মাসে যুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিষয় প্রশ্ন তুলছেন।

পৌর নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পৌর নির্বাচনের ফলাফল দেখলে বোঝা যায় বিএনপির জনসমর্থন কমে গেছে। তবে এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার সুযোগ পেয়েছে এবং তা গ্রহণ করেছেন। আ.লীগের প্রার্থীর জয় লাভ তা সরকারের জন্য ইতিবাচক।

বিরোধী দলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল আরো বলেন, বাংলাদেশে একটা শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন। আর সেই বিরোধী দলকে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে শক্তি হতে হবে।আস

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts