September 26, 2018

শীতলক্ষ্যায় জাহাজ ডুবি

ফাইল ছবি

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ  রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি মালবাহি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় আড়াই‘শ টন লবনসহ একটি কাঠের জাহাজ ডুবে গেছে। এসময় জাহাজে থাকা ৮ জন শ্রমিক-নাবিকের মধ্যে ৭ জনকে স্থাণীয়রা উদ্ধার করলেও নিঁখোজ রয়েছেন একজন। গত শনিবার জাহাজ দূর্ঘটনার পর রোববার (১০ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে তলিয়ে যাওয়া জাহাজটি সনাক্ত করতে পেরেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। উপজেলার তারাব পৌরসভার রূপসী অংশের শীতলক্ষ্যা নদীতে এই দূর্ঘটনা ঘটে।
ডুবে যাওয়া লবন বোঝাই জাহাজের সারেং আলতাফ হোসেন জানান, গত শুক্রবার রাতে প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ২৫০ টন অপরিশোধিত লবণ বোঝাই করে তাদের “এমভি জাহেদা” চট্রগ্রামের বাশঁখালী থেকে উপজেলার মুড়াপাড়া এলাকার ক্রিস্ট্রাল সল্ট মিলের পথে রওয়ানা দেয়।

লবণ বোঝাই কাঠের জাহাজটি শনিবার উপজেলার তারাব পৌরসভার রূপসী এলাকা অতিক্রম করার পথে স্থানীয় সিটি ওয়েল মিলের নিজস্ব কার্গো জাহাজ ‘এমভি সিটি-৩৪’ তাদের জাহাজে সরাসরি এসে ধাক্কা মারে। এতে লবণ বোঝাই জাহাজটি সহ জাহাজে থাকা ৮ নাবিক-শ্রমিক তাৎক্ষনিক শীতলক্ষ্যা নদীর পানিতে ডুবে যায়। আশেপাশের লোকজন ডুবে যাওয়া জাহাজের নাবিক মানিক সাড়েং, আব্দুল মালেক, আলতাফ মাঝি, আবুল হাসেম, মঈনুদ্দিন, আব্দুর রহমান ও আবুল কালামকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করলেও জাহাজের সুকানি রশিদ সারেং (৪৮) উদ্ধার করতে পারেনি।

নিখোঁজ সুকানি রশিদ সারেং লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরপাগলা গ্রামের অলিউলাহ সাড়েং এর ছেলে। এদিকে জাহাজ ডুবির পর গত শনিবার রাতেই ফায়ার সার্ভিসের হেড কোয়ার্টারের একটি দক্ষ ডুবুরি দল রাতেই উদ্ধার কাজ শুরু করে। ডুবুরি দলের প্রধান ও ফায়ার সার্ভিসের হেড কোয়ার্টারের ষ্টেশন অফিসার সারোয়ার খান জানান, রোববার দুপুর ২টার দিকে ডুবে যাওয়া জাহাজটির অবস্থান সনাক্ত করা গেছে। তবে জাহাজটি উদ্ধারের জন্য আরো সময় লাগবে। তবে এখনো নিখোঁজ শ্রমিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ লবন কার্গো শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদুল ইসলাম বলেন, মালামাল আর জাহাজসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ২ কোটি টাকার উর্ধে। তবে এটা একজন মানুষের জীবনের চেয়ে বেশী ক্ষতি নয়। গতকাল থেকে নিখোজ শ্রমিক মারা গেছে দাবি করে তিনি বলেন, সিটি অয়েল মিল নিহত শ্রমিকের উপযুক্ত ক্ষতিপূরন না দেয়া পর্যন্ত নৌপথে আমরা সল্ট মিলগুলোতে অপরিশোধিত লবন দেয়া বন্ধ রাখবো।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, জাহাজ ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ শ্রমিককে খুজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাকে খুজে পাওয়ার পর আইনানুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১০ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts