September 20, 2018

শিশু সোমাইয়া অপহরণের ৮ দিন পর লাশ উদ্বারঃ প্রধান আসামি গ্রেফতার

মোঃ আজিজুর রহমান ভূঞা বাবুল, ময়মনসিংহ ব্যুরোঃ
ময়মনসিংহে ধোবাউড়ায় শিশু সোমাইয়া অপহরণের আট দিন পর বাড়ির কাছে একটি ধান ক্ষেতের পাশে মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বতিহালা বাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি আলমগীরকে গ্রেফতার করা হয়।পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই গভীর রাতে বাড়ির কাছে একটি ধান ক্ষেতের পাশে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় শিশুটির মরদেহ।

বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর)ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
গ্রেফতারকৃত আলমগীর পুলিশকে জানিয়েছেন, মেয়েটিকে জিম্মি করে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে চেয়েছিলেন তিনি। ৮ নভেম্বর শিশুটিকে ধরে নেয়ার পর পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল তারা।
আলমগীর আরো জানান, প্রথম দিনই শিশুটির মুখ চেপে ধরলে দম বন্ধ হয়ে মারা যায়। এরপর তাকে বাড়ির পাশে মাটি খুঁড়ে চাপা দেয়া হয়।

জানা যায়, উত্তর গামারীতলা গ্রামের জুয়েল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তারকে জুয়েলের চাচাতো ভাই আলমগীর হোসেন (২০) তারই ছোট বোন ইতি নামের একটি মেয়েকে দিয়ে দাওয়াত খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নেয়। এসময় একই গ্রামের আবুল কাশেম সুমাইয়াকে কোলে তুলে নিয়ে যাবার পর থেকে পরিবারের লোকজনের কাছে মোবাইল ফোনে ২ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। মুক্তিপণ না দিলে সুমাইয়াকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় তারা।

এ ঘটনায় সুমাইয়ার বাবা রোববার রাতে ধোবাউড়া থানায় আলমগীর, আবুল কাশেম, রিপন ও মজু মিয়া মিলে আমার মেয়েকে অপহরণ করেছে এমন উল্লেখ করে একটি মামলা (মামলা নং-০৫) দায়ের করেন ।

পরে এ ঘটনায় আলমগীরের মা, রিপনের স্ত্রী ও মজুর স্ত্রীকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এদিকে সোমবার ময়মনসিংহ আদালতে আলমগীরের ছোট বোন ইতির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ প্রধান আসামিকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত আলম জানান, প্রধান আসামি আলমগীরকে গ্রেফতারের পর তার দেয়া তথ্যে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর)ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।##

 

Related posts