November 13, 2018

শিরোপা এনে দেয়ার অঙ্গীকার জিদানের

জিনেদিন জিদান

স্পোর্টস ডেস্কঃ   মাত্র ছয় বছরের খেলোয়াড়ি জীবনেই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিজেকে কিংবদন্তিতে পরিণত করেছিলেন জিনেদিন জিদান। জুভেন্তাস থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেয়ার পর ক্লাবের মিউজিয়ামে একটি করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লা লিগাসহ যোগ করেছেন ছয়টি বড় শিরোপা। রিয়ালের কোচ হিসেবেও নিজেকে একই উচ্চতায় দেখতে চান ফরাসি কিংবদন্তি।

চলতি মৌসুমেই রিয়ালকে শিরোপা এনে দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে জিদান বলেন, ‘অগণিত ভক্তদের নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ বিশ্বের সেরা ক্লাব। মৌসুম শেষে রিয়ালকে একটি ট্রফি এনে দেয়ার জন্য আমি সবকিছু করব।’

বার্সেলোনার সঙ্গে এল ক্লাসিকোতে লজ্জাজনক হারের পরই রাফায়েল বেনিতেজকে সরিয়ে জিদানকে দায়িত্ব দেয়ার দাবি ওঠে। এরপর ভিলারিয়ালের কাছে হারের পর সে দাবিটি জোরালো হয় আরো। গত রবিবার ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ড্রয়ের পর বেনিতেজ প্রচণ্ড চাপে ছিলেন। সব মিলিয়ে বেনিতেজকে সরিয়ে জিদানকে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে তাই মোটেও সমস্যা হয়নি রিয়াল পরিচালকদের এবং সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ গত সোমবার রাতে নতুন কোচের নাম ঘোষণা করেন।

পেরেজ তার ঘোষণায় বলেন,‘জিদান যে খেলাটির সর্বকালের সেরাদের একজন, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অন্য যে কারো চাইতে জিদান ভালভাবেই জানেন যে রিয়াল মাদ্রিদকে নেতৃত্ব দেয়ার মানে কতখানি। এটা কতখানি কঠিন এবং একই সাথে এই পদটি কতখানি উদ্দীপক সে ব্যাপারেও সতর্ক আছেন তিনি। তাছাড়া জিদান খেলোয়াড়দের জানেন, কেননা তাদের অনেকেই লিসবনে সহকারী কোচ হিসেবে তার সাথে ক্লাবের ১০ম শিরোপাটি তুলেছিল। ’

জিদান অবশ্য কয়েকদিন আগেই জনিয়েছিলেন, এখনই ক্লাবের দায়িত্ব নিতে রাজি নন তিনি। কিন্তু হতাশার বৃত্তে ক্লাবে আটকে থাকাকে হয়তো মেনে নিতে পারেননি রিয়াল কিংবদন্তি। জিদানের কণ্ঠেও সেই আবেগময় অভিব্যক্তি, ‘সবাইকে ধন্যবাদ। যেদিন ক্লাবে যোগ দিয়েছিলাম তার চেয়ে এটা আমার জন্য আবেগময় দিন। হূদয়ের সর্বোচ্চ ভালোবাসা দিয়ে ক্লাবের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব।’

দায়িত্বটি যে মোটেও সহজ হবে না সেটা নিশ্চয়ই জানেন জিজু। বড় কোনো দলের দায়িত্বে এবারই প্রথম। এর আগে কোচ হোসে মরিনহোর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন জিদান। কার্লো আনচেলোত্তি যেবার রিয়ালকে দশম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এনে দিয়েছিলেন, সেবার তার সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের ‘বি’ দলের কোচ হিসেবে আছেন দুই মৌসুমে ধরে।

তিন মৌসুম ধরেই লা লিগার শিরোপা জেতেনি রিয়াল। এবারের মৌসুমে না জিতলে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো টানা চার মৌসুম লিগ শিরোপা খরায় ভুগবে রিয়াল। তাই কিছুটা চাপ থাকবেই ৪৩ বছর বয়সী নতুন কোচের উপর। আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন জিদান। কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের কোচ হিসেবে ব্যর্থতার নজির বিরল নয়। অ্যালান শিয়ারের কিংবা দিয়েগো ম্যারাডোনা কিংবদন্তি হওয়া সত্ত্বেও কোচ হিসেবে ছিলেন হতাশার আরেক নাম।

চলতি মৌসুমে ২৫ ম্যাচ শেষে গত দুই মৌসুমের চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে রিয়াল। মৌসুম শেষেও জিদানকে কোচ হিসেবে রাখা হবে কিনা-সেটা নির্ভর করবে তিনি রিয়ালকে কতটা হতাশার বৃত্ত থেকে বের করে আনতে পারেন কিনা, তা দেখার উপর। তবে জিদানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারে রিয়ালে তার ভাবমূর্তি। ক্লাবের প্রশাসন কিংবা খেলোয়াড় সবার সঙ্গেই হূদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ফরাসি তারকাটির। শিয়ারের কিংবা ম্যারাডোনার পরিবর্তে তাই জোহান ক্রুইফ কিংবা ক্যানি ড্যালগ্লিস হওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারেন জিজু।

এক সময়ের সতীর্থ ইংলিশ কিংবদন্তি ডেভিড বেকহামের প্রত্যাশাটা সেরকমই। কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর জিদানকে অভিনন্দন জানিয়ে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বেকহাম লেখেন, ‘এর চেয়ে ভালো আর কি হতে পারতো? কোনো পর্যায়েই যিনি ব্যর্থতাকে মেনে নেন না। রিয়ালের কোচ হওয়ার সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি তিনিই।’

সৌজন্যে:ইত্তেফাক
দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts