September 19, 2018

শিমুলিয়া-রানীগাঁও-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে নতুন দিগন্তের যাত্রা

11

আতিকুর রহমান টিপু, মুন্সিগঞ্জ : অবশেষে কমে গেল দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া-রানিগাঁও ঘাট- কাঁঠালবাড়ি ঘাটের দুরত্ব।জাজিরা পয়েন্টে সকাল ১১টায় নৌমন্ত্রী শাজাহান খান কাঁঠালবাড়ী ফেরীঘাটের শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর থেকে পদ্মা পারাপারের যাত্রিদের দূরত্ব ও সময় অনেকটা কমে গেল সময়ের পরিক্রমায়। দীর্ঘদিন পর শিমুলিয়া-রানিগাঁও-কাওড়াকান্দি নৌরুটের শিমুলিয়া ঘাটের অপর প্রান্তের কাওড়াকান্দি ফেরী ও লঞ্চঘাট রোবাবার থেকে আর থাকছে না। স্মৃতি আর ব্যস্ততার মাঝে কেবল ফ্রেমবন্দী হয়ে থাকবে অপর প্রান্তের কাওড়াকান্দি ফেরী ও লঞ্চঘাট। ১৫ জানুয়ারি রোববার মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িতে স্থানান্তরিত হলো এ ঘাটটি। এতে করে বর্তমানে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এ নৌরুটের দূরত্ব প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার কমে হবে মাত্র ৮ কিলোমিটার। তবে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা কাঁঠালবাড়ি নতুন এ ঘাটটি পদ্মাপাড়ে কখনো শরীয়তপুর ঘাট আবার কখনো ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ঘাট হিসেবে অনেকটাই পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের ২৩ জেলার পদ্মা পারাপারের যাত্রীরা কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া-রানীগাঁও ফেরীঘাট ব্যবহার করে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করছে। মাত্র দেড় মাস আগেও কাওড়াকান্দি থেকে শিমুলিয়া নৌপথের দূরত্ব প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার ছিল।
১৪ নভেম্বর বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ মূল পদ্মায় চর কেটে প্রায় ৩ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করে সরাসরি নতুন একটি চ্যানেল খুলে দেয়ায় শিমুলিয়া কাওড়াকান্দি নৌরুটের দূরত্ব প্রায় ৩কিলোমিটার কমে আসে।এই নৌপথ পারাপারের জন্য বর্তমানে ৮৬টি লঞ্চ, ২শতাধিক স্পীডবোট ও ১৮টি ফেরী রয়েছে। পদ্মা পার হতে লঞ্চ ও ফেরীতে প্রকারভেদে নৌযাগুলোর দেড় ঘণ্টা থেকে দুই ঘণ্টা সময় লেগে যায়।বৈরী আবহাওয়ায় কখনো কখনো দুই ঘণ্টারও বেশী সময় লেগে থাকে। কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ এই নৌপথের দূরত্ব কমিয়ে আনতে ঘাট স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত আগে থেকেই প্রক্রিয়াধীন ছিল। অতীতে বিভিন্ন সময়ে ঘাট পরিদর্শনে এসে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান দূরত্ব কমিয়ে আনার বিষয়টি যাত্রীদের আশ্বাস দিয়েছেন। অবশেষে কর্তৃপক্ষ কাওড়াকান্দি-রানিগাঁও ফেরীঘাটটি স্থায়ীভাবে কাঁঠালবাড়ি এলাকায় স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই মধ্যে নতুন এ ঘাটের পার্কিং ইয়ার্ড, লঞ্চ জেটি, প্যাসেঞ্জার লোডিং, টিকেট কাউন্টার, টয়লেট কমপ্লেক্স,পুলিশ বক্স,ব্যাংক প্রটেকশন,লঞ্চ জেটি,আভ্যন্তরীণ রাস্তাসহ আনুসাঙ্গিক সকল কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।এদিকে কাঁঠালবাড়ীতে পদ্মা সেতুর জন্য সেতু বিভাগ যে দুইটি অ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরী করেছে সেগুলো দিয়েই এ ঘাট থেকে ফেরীর যানবাহন পাঁচ্চর পৌঁছাবে ও ঘাটে আসবে। অ্যাপ্রোচ রাস্তা দুইটি হচ্ছে নাওডোবা-পাঁচ্চর ও বাংলাবাজার-পাঁচ্চর অ্যাপ্রোচ সড়ক। এছাড়া রো রো ফেরী পন্টুন ও অন্যান্য ফেরী পন্টুন স্থাপন প্রক্রিয়ার কাজও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
মাওয়া বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশল ও বিআইডব্লিটিসির মেরিন বিভাগ সূত্রে জানা যায়,এ রুটটি মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া-রানিগাঁও ঘাটের দূরত্ব প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার কমবে। এতে করে নদী পারাপারে যাত্রীদের লঞ্চ বা ফেরিতে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হবে না। প্রতিটি নৌযানের ক্ষেত্রে ৩০/৩৫ মিনিট সময় কম লাগবে। অন্যদিকে ফেরীসহ সকল নৌযানের চলাচলের ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের জ্বালানী সাশ্রয়ের সাথে সাথে এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটা কমে আসবে।এদিকে ঘাটটি স্থানান্তরে জন্য বিআইডব্লিউটিএর পুরকৌশল বিভাগের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এছাড়া বিআইডব্লিউটিসি রো রো ফেরী পন্টুন ও অন্যান্য ফেরী পন্টুন স্থাপনসহ ও বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের পৃথক ব্যয় রয়েছে। চুড়ান্তভাবে এরকমই নির্দেশনা রয়েছে। এতে করে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার দূরত্ববিশিষ্ট এ নৌরুটের দৈর্ঘ্য হবে মাত্র ৮ কিলোমিটার। একইসাথে এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটা কমে আসবে। এরই মধ্যে নতুন এ ঘাটের আভ্যন্তরীণ রাস্তাসহ আনুসাঙ্গিক সকল কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া রো রো ফেরী পন্টুন ও অন্যান্য ফেরী পন্টুন স্থাপন প্রক্রিয়ার কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
এ ব্যাপারে মাওয়া বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক খন্দকার খালিদ নেওয়াজ জানান, কাওড়াকান্দি-রানিগাঁও থেকে ঘাট সরিয়ে কাঁঠালবাড়ীতে স্থানান্তরে ফেরীসহ সকল নৌযানের চলাচলে সময় প্রায় ৩০/৩৫ মিনিট কম লাগবে। এতে বিপুল অঙ্কের জ্বালানী সাশ্রয়ের সাথে সাথে ঘাট এলাকার যানজটও অনেক কমে যাবে। তখন যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে স্বল্প সময়ে পদ্মা পারাপার হতে পারবে।

Related posts