September 26, 2018

শহীদ মিনারে হাজারো মানুষের ভালবাসায় সিক্ত খালিদ মাহমুদ মিঠু

12799367_596934057123170_2100509895768787466_n

ষ্টাফ রিপোর্টার: সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে সদ্য প্রয়াত নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠুর মরদেহ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন পর্বে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিল্পী-সাহিত্যিক, নাট্যব্যক্তিত্ব, শিক্ষক ও বন্ধু-সতীর্থসহ বিভিন্ন সংগঠন এই নির্মাতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। এদের মধ্যে ছিলেন ড. ইনামুল হক, খুশি কবীর, ফরিদুর রেজা সাগরসহ আরো অনেকে।

সদ্য প্রয়াত নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠুর মেয়ে শিরোপা পুন্যা বলেন, ‘বাবার মৃত্যুটা অপ্রত্যাশিত। তিনি সমাজের জন্য অনেক কিছু করেছেন। বিশেষত তার চিত্রকর্ম ও চলচ্চিত্রগুলোকে সবার মনে রাখা দরকার। আপনারা আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। তার অসমাপ্ত কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহযোগীতা করবেন।

এদিকে বাবার মুত্যুর খবর পেয়ে প্রবাস থেকে ছুটে আসেন মিঠুর ছেলে আর্য শ্রেষ্ঠ। তিনি বলেন, ‘বাবার সঙ্গে অনেক কাজ করেছি। তিনি আমার অনেক বড় অনুপ্রেরণা। তার অসমাপ্ত কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’

চ্যানেল আইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘মিঠু আমার এত কাছের একজন মানুষ ছিলেন তাকে নিয়ে বলার কিছু নেই।’

চিত্রশিল্পী হাসেম খান বলেন, ‘শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনকে সবে মাত্র আলোকিত করতে শুরু করেছিলেন খালিদ মাহমুদ মিঠু। এমন সময় তার চলে যাওয়া মেনে নেয়া কষ্টকর। বিশেষত সেটা যখন দুর্ঘটনা। তাই তার মুত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রত্যেক বছরই কালবৈশাখীর মৌসুমে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এ জন্য আমাদের সাবধানতা অবলম্বণ করা প্রয়োজন।’

ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন বলেন, ‘যাদের বেঁচে থাকা দরকার তারাই চলে যাচ্ছেন। ফলে শিল্প সাহিত্য অঙ্গনে তৈরি হচ্ছে শূন্যতা।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ‘আমাদের সেই ভাষা জানা নেই, যে ভাষায় একজন অনুজ শিল্পীকে বিদায় জানাতে পারি। খালিদ মাহমুদ মিঠুর মৃত্যু সংবাদটি সেদিন দুপুর বেলা যখন শুনলাম, তখন বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিলো। ভাবতে অবাক লাগে তাকে আর কখনও দেখবো না।’

খালিদ মাহমুদ মিঠুর শিল্পী সত্তার পরিচয় দিতে গিয়ে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ  আরো বলেন, ‘শিল্পীদের মধ্যে প্রচন্ড অভিমান থাকে।  মিঠুরও খুব অভিমানী ছিলো। সেই সঙ্গে উচ্ছ্বল ও প্রাণবন্তও ছিলো। শিল্পীদের কাজ কর্ম নিয়ে আলোচনা সমালোচনা থাকে। মিঠু তা সহজেই গ্রহণ করতেন। তবে উপেক্ষা সহ্য করতে পারতেন না।’

খালিদ মাহমুদ মিঠু শিল্পকর্মের পাশাপাশি দেশের চলচ্চিত্র নিয়েও ভাবতেন। এ প্রসঙ্গে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘তিনি চিত্রকর হলেও, সখ্যতা ছিলো চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে। মিঠুর চলচ্চিত্র স্বীকৃতি পেয়েছে বিভিন্ন অঙ্গনে। তার কাছে প্রত্যাশাও ছিলো অনেক, সম্ভাবনাও ছিলো। কিন্তু দেয়ার আগেই তিনি চলে গেলেন। মিঠুর পরিবার তার অসম্পূর্ণ কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে, এটাই এখন প্রত্যাশা।’

অধ্যাপক আবুল বারাক আলভী বলেন, শুধু চত্রশিল্পী নয় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেও নিজে নাম করেছেন মিঠু। চিত্রশিল্পী হিসেবে তিনি যেমন অসাধারণ ছিলেন তেমনি চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও দারুন। চিত্রশিল্পী হওয়ার কারনে তার নির্মাণে সৃজনশীলতা ছিল। তিনি ভালো সংগঠকও ছিলেন। চারুশিল্পী সংস্থা নিয়ে তিনি কাজ করেছেন।

শহীদ মিনার থেকে খালিদ মাহমুদ মিঠুর মরদেহ নেয়া হয় তার শিক্ষাপ্রাঙ্গণ চারুকলা ইনস্টিটিউটে। সেখানে তার মরদেহে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন ইনস্টিটিউটের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরা। চরুকলা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজে জানাযা শেষে মিঠুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে এফডিসিতে।

এফডিসিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন পর্ব ও জানাযা শেষে মরদেহ আনা হবে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। এখানেই শেষ নামাজে জানাযা হওয়ার পর বাদ আসর বনানী কবরস্থানে খালিদ মাহমুদের দাফন সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ দুপুরে রিকশা  করে বাসায় ফেরার পথে ধানমন্ডি ৪ নম্বর রোডের পাশের একটি গাছ আকস্মিক ভেঙ্গে পড়ে মারা যান খালেদ মাহমুদ মিঠু।

Related posts