November 15, 2018

ধর্ষনকারী পল্লী চিকিৎসক কিন্তু দোষ পড়লো চটপটি বিক্রেতার!


নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়িয়া শরীয়তপুর: ধর্ষনকারী পল্লী চিকিৎসককে বাঁচাতে স্থানীয় মাতুব্বররা জোর করে অপকর্মের দায় চাপিয়ে ধর্ষিত নারীকে বিয়ে দিলেন চটপটি বিক্রেতা জয়নাল খন্দকারের সাথে।

শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব কেদারপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিয়েতে অসম্মতি জানায় তবুও জোরপূর্বক মাতুব্বররা ধর্ষনকারী পল্লী
চিকিৎসকে বাঁচিয়ে মেয়েটিকে ভয়ভীতির মাধ্যমে বিয়ের সময় ছাপানো নীল কাগজে স্বাক্ষর নেয় এবং চটপটি বিক্রেতা জয়নাল খন্দকার (৩২) সাথে বিয়ে দেয় বলে অভিযোগ মেয়েটির পরিবারের।

বর্তমানে মেয়েটি ৭ মাসের অন্তঃসত্তা। কিন্তু জয়নাল ৮ বছর পূর্বে বিবাহ করলেও এখনো কোন সন্তানের বাবা হতে পারেনি তাহলে কি করে চটপটি বিক্রেতা জয়নাল বাবা হতে চললো এটাও একটা প্রশ্ন হয়ে এখন ঘোরপাক খাচ্ছে নড়িয়ার পূর্ব কেদারপুর গ্রাম বাসীর কাছে।

এই ঘটনায় পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত ডাঃ নাজমুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে ডিএনএ
পরিক্ষা করলে প্রকৃত অপরাধীকে সনাক্ত করা যাবে।

মেয়েটি অভিযোগ করে জানান, নামধারী ডা: নাজমুল হাসান আমার চিকিৎসা করে এবং আমাকে বিয়ে করতে চায়। বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আমার সাথে মেলামেশা করে। আমার পেটে বাচ্চা এলে আমি নাজমুলকে বিয়ের জন্য চাপ দেই। যে দিন বিয়ের জন্য চাপ দেই তার পরেই আমাদের গ্রামের স্থানীয় মাতুব্বর- মোজাম্মেল ফকির, কুদ্দুস খালাসী, রাজ্জাক ফকির, সাঈদ মাদবর
এবং ধর্ষক নাজমুলের শশুর সহ আরো ৮ থেকে ১০ জনকে নিয়ে সালিশ বসিয়ে জোর করে আন্তঃসত্তা অবস্থায় চটপটি বিক্রেতা জয়নালের সাথে আমার বিয়ে দেয়। আমরা গরিব হওয়ায় এলাকার মাতুব্বররা জোর করে ছাপানো নীল কাগজে আমার টিপ নেয়।

সরেজমিনে গিয়ে অনুসন্ধান করে জানা যায়, নড়িয়ার চন্ডিপুর বাজারের স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক নিলিমা ফার্মেসীর মালিক একই উপজেলার নসাশন ইউনিয়নের নামধারী ডা: নাজমুল হাসান।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চন্ডিপুরের বাসার চৌকিদারের ধর্ষিত মেয়ে তার নিকট ফোঁড়ার অপারেশন করানোর পরে ডেসিং করতে নিয়মিত যেত। এই সুযোগে নামধারী ডাক্তার নাজমুল বিয়ের প্রলোভনে মেয়েটিকে ধর্ষন করে। এক সময় মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পরে। স্থানীয় ভাবে জানা জানি হয়ে গেলে নামধারী ডাক্তার নাজমুলের শশুর মোসলেম বেপারী স্থানীয় প্রভাবশালী মাতুব্বর- মোজাম্মেল ফকির, কুদ্দুস খালাসী, রাজ্জাক ফকির, সাঈদ মাদবর, বিল্লাল ফকির মোতালেব বেপারীগণদের সহযোগীতায় সাম্পতি গ্রাম্য সালিশ বসিয়ে একই গ্রামের বিবাহিত চটপটি বিক্রেতা জয়নাল খন্দকারের
উপরে দোষ চাঁপায়।

কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন হল ৮ বছর পৃর্বে জয়নাল খন্দকার বিবাহ করলেও এখনো কোন সন্তানের বাবা হতে পারেনি।

ধর্ষিত মেয়ের মা বকুলী বেগম বলেন, আমার মেয়ের বুকে ফোঁড়া উঠেছে। ফোঁড়ার ব্যাথায় কান্নাকাটি করে। একদিন ওর কান্না দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্য বিল্লাল এর সহযোগীতায় চন্ডীপুর বাজারে ডা: নাজমুলের কাছে নিয়ে যাই। নাজমুল ফোঁড়া অপারেশন করে।

বিল্লাল বলে কিছুদিন ডাক্তারের কাছে গিয়ে ধোয়াতে হবে। ফোঁড়া ভালো হওয়ার কিছুদিন পর আমি দেখি আমার মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে জানাই নাই। গত কয়েকদিন আগে মেয়ে বলে নাজমুলডাক্তার তার গর্ভের বাচ্চার বাবা। মাদবররা জোর করে আটকুরা জয়নালের সাথে আমার মেয়েকে বিয়ে দেয়। তাই আমি নাজমুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।

এবিষয়ে স্থানীয় মাতুব্বর রাজ্জাক ফকির মেয়ের অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি জানান, জয়নালের দোকানে মেয়েটি চটপটি খেতে যেত। দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়া আসা করতো। তাই আমরা জয়নালকে সন্দেহ করি এবং ওকে বিয়ে করতে বাধ্য করি। তবে মেয়েটি নাজমুলের নিকট চিকিৎসা নিলেও সে ভালো ছেলে আমাদের গ্রামের জামাই। তার কোন দোষ নেই। তার উপর খালি খালি দোষ চাপানো হয়েছে।

ইউপি সদস্য বিল্লালেকে পাওয়া না গেলে মুঠোফোনে তার শালী রোজিনা বলেন, মেয়েটি খারাপ তাই এমন ঘটনা ঘটেছে। তা না হলে আমাদের সাথে তো কেউ এমন করেনি। ঘটনার জন্য সম্পূর্ণ মেয়েটিই দায়ি।।

ধর্ষিত মেয়েটির দাবী, আমার গর্ভেরসন্তানের পিতা ডা: নাজমুল আমি আমার সন্তানের পিতৃ পরিচয় দাবী করছি। আর, আমার সাথে প্রতারণার কারার বিচার চাই।

এ ব্যাপারে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম আলী  বলেন, মেয়েটির মা অভিযোগ করায় পুলিশ অভিযুক্ত  নাজমুলকে গ্রেফতার করে হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে ডিএনএ পরিক্ষা করলে প্রকৃত অপরাধীকে সনাক্ত করা যাবে।

Related posts