December 19, 2018

শব্দদূষণে কতটুকু ক্ষতির মুখে আছেন

ক্ষতি

শব্দদূষণ মানুষের স্বাস্থ্য এবং আচার-আচরণ উভয় ক্ষেত্রেই সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত শব্দের কারণে শারীরিক ও মানসিক স্বাভাবিক কার্যকলাপ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শব্দদূষণের কারণে দুশ্চিন্তা, উগ্রতা, উচ্চরক্তচাপ, টিন্নিটাস, শ্রবণশক্তি হ্রাস, ঘুমের ব্যাঘাতসহ অন্যান্য ক্ষতিকর ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে। এছাড়াও, অন্যান্য শারীরিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভুলোমন, মানসিক অবসাদ ইত্যাদি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ভয়াবহ শব্দদূষণ থেকে মানবদেহে নানা কঠিন রোগ জন্ম নিচ্ছে। মানুষের হার্ট, কিডনি এবং মস্তিষ্কের ওপর দারুণ ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করছে এই উচ্চমাত্রার শব্দ। কানে কম শোনা, গ্যাস্ট্রিক ও ডায়াবেটিসের একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে উচ্চমাত্রার শব্দ। এই শব্দদূষণে ৯টি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমন হঠাৎ উচ্চশব্দ কানের পর্দায় আঘাত করলে তার প্রভাবে হৃত্স্পন্দন দ্রুত হয়। রক্তনালি সঙ্কুচিত হয়ে আস্তে আস্তে চোখের মণি প্রসারিত হয়। পাকস্থলী, খাদ্যনালিসহ শারীরিক দুর্বলতা, বিরক্তি, ক্রোধ, বিষণ্নতা, হতাশা, টেনশন, উত্তেজনা ছাড়াও নানা ধরনের মানসিক রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। সেইসঙ্গে রয়েছে বদহজম, পেপটিক আলসার, মেরুদণ্ড বেঁকে যাওয়া, হাড় ফেটে যাওয়া এবং শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধির আশঙ্কা। বিকট শব্দ যে কোনো সময় মস্তিষ্কে আঘাত করতে পারে।

University of Texas at Dallas-এর বিশেষজ্ঞরা কিছু ইঁদুরের ওপরে গবেষণা করে জানিয়েছেন যে, শব্দদূষণে মানবদেহের মস্তিষ্কের ক্ষতিসাধন করতে পারে। অনবরত মাত্রাতিরিক্ত শব্দের মাঝে থাকতে থাকতে আমাদের শ্রবণক্ষমতা লোপ পায়। গবেষণায় দেখা যায়, শব্দদূষণের ফলে একজনের ২০-৬৯ বছর বয়সে প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শ্রবণশক্তি লোপ পেয়ে যায়। এছাড়া মস্তিষ্কে অনবরত আঘাতের ফলে বিভিন্ন মানসিক সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।

Related posts