September 24, 2018

শতাধিক ট্রাভেল এজেন্সি নজরদারীতে!

যে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ওমরাহর নামে মানবপাচারে জড়িত, তাদের কঠোর নজরদারীতে রেখেছে সরকার। বন্ধ করে দেওয়া শতাধিক এজেন্সি ছাড়াও আরও শতাধিক এজেন্সিকে নজরদারীতে রাখা হয়েছে। এজন্য গঠিত ১০টি কমিটির অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

সৌদি আরবের দীর্ঘ দিনের অভিযোগ- ওমরাহর নামে মানবপাচার হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। এরই জের ধরে গত মার্চে বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা বন্ধ করে দেয় সৌদি আরব সরকার। তাদের অভিযোগ, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি ওমরাহ ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে যান। তাদের মধ্যে ১১ হাজার ৪৮৫ জন এখনও দেশে ফেরেনি। এ অভিযোগে সৌদি আরব বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা বন্ধ করে দেয়। সৌদি আরবের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ধর্মমন্ত্রণালয় শতাধিক এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও জরিমানা করে।

ওমরাহ হজ

সংশ্লিষ্টরা জানায়, ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব গিয়ে অনেকের না ফেরার বিষয়টির সত্যতা মিলেছে। এজন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গঠিত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গত মাসে ১০৪টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও জরিমানা করা হয়। ১০৪ এজেন্সির মধ্যে মানবপাচারের অভিযোগে ৯৫টি এজেন্সিকে শাস্তি দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে ৬৯টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্তসহ বিভিন্ন অংকের জরিমানা করা হয়। শুধু জরিমানা করা হয়েছে ২৬টি এজেন্সিকে।এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পর নতুন করে ১০টি কমিটি গঠন করা হয়। নতুন আবেদনকারীদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখছে কমিটিগুলো।

ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান বলেন, মানবপাচারের অভিযোগে বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি ছিল আমাদের জন্য বিব্রতকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এ বিষয়ে দেন-দরবার করতে মন্ত্রী নিজেই কয়েক দফা সৌদি আরবে যান বলে জানান। মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আরও কেউ জড়িত কি-না তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালানোর বিষয়টি সৌদি আরবকে বোঝাতে তারা সক্ষম হন বলেও জানিয়েছেন তিনি। এরপরই সৌদি সরকার চলতি মাসে ওমরাহ ভিসার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, ওমরাহ ব্যবস্থাপনাকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য যা যা করণীয় তাই করা হবে। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাধানে ওমরা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৭০টি অনুমোদিত এজেন্সির প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে যাদের কারণে দেশের সুনাম নষ্ট হয়েছে তাদের আর কখনও লাইসেন্স দেওয়া হবে না।

ধর্মমন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত কমিটিগুলোর একটির আহবায়ক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, দেড়মাস ধরে তারা বিভিন্ন এজেন্সির খোঁজ-খবর নিয়েছেন। অনেক এজেন্সিরই অফিস খুঁজে পাওয়া যায়নি। শিগগিরই তারা এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠনের (হাব) সভাপতি ইব্রাহীম বাহার বলেন, ওমরাহর নামে যারা মানবপাচার করে অবশ্যই তাদের শাস্তি হওয়া উচিৎ। তবে এ প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও নিরপরাধ এজেন্সি হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও মন্ত্রণালয়কে নজর দিতে হবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts