September 18, 2018

ল্যাপটপ জিতে আবেগে কাঁদলো শিক্ষার্থী

704
রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ   সরকারী মহিলা কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠানের মে  প্রধান অতিথি আহবানে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উপর বক্তব্য রেখে ৩টি ল্যাপটব জিতে নিলেন তিন শিক্ষার্থী। এ সময় ল্যাপটপ বিজয়ীদের মধ্য থেকে একজন আবেগাপ্লুত হয়ে কেদেঁ ফেলেন।

মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজে বার্ষিক ক্রিড়া, অভ্যন্তরীন ক্রিড়া ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান উপস্থিত ২১ ফেব্রুয়ারী সম্পর্কে কলেজের শিক্ষার্থীদের বক্তব্য দিতে দিয়ে পুরস্কার তিনটি তাদের হাতে তুলে দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বক্তব্য দিতে এসে তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মে  ডেকে ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার কথা বলেন। পরে ভাষা আন্দোলনের উপর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বক্তব্য রাখলে তাদের মধ্য থেকে কলেজের একাদশ শ্রেনীতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী নাদিয়া আক্তার ডলি, শারমিন আক্তার প্রিয়া ও রাবেয়া সুলতানা জুড়ালো বক্তব্য উপস্থাপন করলে সেলিম ওসমান তাদের জন্য ৩টি ল্যাপটপ দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং তাৎক্ষনিক ৩টি ল্যাপটপ এনে তাদের হাতে তুলে দেন।

এছাড়াও সেলিম ওসমান আগামী ২১ ফেব্রুয়ারী মহান ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উপর রচনা প্রতিযোগীতা আয়োজন করার কথা বলেন। আর প্রতিযোগীতার তৃতীয় পুরস্কার ২ লাখ, দ্বিতীয় পুরস্কার ৩ লাখ এবং প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৫ লাখ টাকা ঘোষণা করেন। বিজয়ীদের পুরস্কারের ওই লাখ টাকার অর্ধেকটা দিয়ে একটি ফান্ড তৈরি করে কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্যান্টিন পরিচালনা করার কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের মাঝে নির্বাচনের মাধ্যমে ৩ মাস অন্তর অন্তর ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব পরিবর্তন করার কথা বলেন। আর ক্যান্টিন থেকে যে লভাংশ আসবে সেটা দিয়ে কলেজের সামনের জায়গায় সৌন্দয্য বর্ধন করার কথা বলেন।

সেই সাথে তিনি কদম রসুল কলেজের মত সরকারী মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রয়োজনে ওসমানী স্টেডিয়ামে বিশাল আকারে জমকালো সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে বলেন। যেখানে আমি থাকবো  সেখানে ফাটাফাটি অনুষ্ঠান হতে হবে।

সংসদ সদস্যের কাছে কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কলেজের সামনের কিছু জমি জনৈক রাজনীতিবিদের দখলে রয়েছে বলে জমিটি দখলমুক্ত করে দেওয়া দাবি করেন। সেই সাথে কলেজের পরিত্যক্ত ঘোষণা করা কলাভবনটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান। প্রতি উত্তরে সেলিম ওসমান বলেন, কলেজের সামনের জায়গা কোন রাজনীতিবিদের দখলে থাকবে না। পরিত্যক্ত ভবন ভেঙ্গে দিয়ে অত্যাধুনিক ভবন হবে। লাইন্সল্যাব, কম্পিউটার ল্যাব, উন্নত মানের পাঠাগার, কমনরুম, উন্নত মানের হোস্টেল, ক্যান্টিন সহ সরকারী মহিলা কলেজকে একটি আধুনিক কলেজে রূপান্তর করা হবে। প্রয়োজনে ব্যবসায়ীদের সহযোগীতা নিবো প্রধানমন্ত্রী পা ধরবো। কোন বাধাঁই আর সরকারী মহিলা কলেজের উন্নয়ন আটকে রাখতে পারবে না।

আমি যেমন নারায়ণগঞ্জ কলেজ ও কদম রসুল কলেজের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছি। তেমনি মহিলা কলেজের প্রতিও আমি দৃষ্টি দিবো। এই কলেজের দায়িত্ব আমি নিজে নিবো কোন প্রতিনিধি দিবো না। আমার দাদা খান সাহেব ওসমান আলী, বাবা শামসুজ্জোহা, বড় ভাই নাসিম ওসমান যেটা করে যেতে পারেননি আমি আমার ছোট ভাই শামীম ওসমানকে সাথে নিয়ে এবং মেয়রের সহযোগীতায় সেই সকল কাজ গুলো সম্পন্ন করবো। নারায়ণগঞ্জ থেকে অপরাজনীতি হত্যা করতে হবে। যে অপরাজনীতির কারণে আমি পড়ালেখা করতে পারিনি। আমার সন্তানেরা লেখাপড়া করতে পারেনি।

২১টি বছর আমাদের জীবন থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এক বছর আগেও বঙ্গবন্ধু সড়কে বাসে আগুন দিয়ে ছোট্ট শিশুকে পুড়িয়ে মারা চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই সকল অপরাজনীতি হত্যা করতে হবে। এরজন্য তোমাদের সহযোগীতা প্রয়োজন। বাসে আগুন দেওয়া সন্ত্রাসী এখনও কেন ধরা পড়লোনা তাদেরকে ধরা পড়তেই হবে। সবাই অপরাধের কথা বলে কিন্তু কেউ অপরাধীর নাম বলে কোন তথ্য দেয়না। এতো ভয় কিসের? এ ভয় ভাঙ্গতে হবে। আমাকে এসএমএস করে নাম বলবেন আমি আপনাদের পরিচয় গোপন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্যের সহধর্মিনী নাসরিন ওসমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মহিলা কলেজ থেকে অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে দেশের অনেক উচু স্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছে। তোমরা সেই সকল মানুষদের অনুসরন করবে। তাদের অনুসরন করলে আরও বড় জায়গায় নিজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। আমি জানি তোমরা পারবে সেটা তোমাদের ফলাফল দেখলেই বুঝা যায়। তোমরা তোমাদের চেষ্টাটুকু করবে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান সব সময় তোমাদের পাশে আছেন থাকবেন।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ওহাব চৌধুরির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আক্তার চৌধুরী, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক, সরকারী মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ গোপাল চন্দ্র সাহা, প্রফেসর শিরিন বেগম, উপাধ্যক্ষ শাহীন সুলতানা, আঞ্জুমান আরা আকসির প্রমুখ।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts