December 10, 2018

লেবাননে প্রবাসীদের জন্মাষ্টমী উদযাপন

2222

বাবু সাহা, লেবাননঃ জন্মাষ্টমী বা কৃষ্ণজন্মাষ্টমী একটি হিন্দু উৎসব। এটি বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণের জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়। এর অপর নাম কৃষ্ণাষ্টমী, গোকুলাষ্টমী, অষ্টমী রোহিণী, শ্রীকৃষ্ণজয়ন্তী ইত্যাদি। হিন্দু পঞ্জিকা মতে, সৌর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে যখন রোহিণী নক্ষত্রের প্রাধান্য হয়, তখন জন্মাষ্টমী পালিত হয়।শাস্ত্রীয় বিবরণ ও জ্যোতিষ গণনার ভিত্তিতে লোকবিশ্বাস অনুযায়ী কৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল ৩২২৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ১৮ অথবা ২১ জুলাই।শ্রী কৃষ্ণের জীবনী পাঠ ও কর্মকান্ড মানব সমাজকে শিক্ষা দেয় যে, সৌভ্রাতৃত্ব ও স্ব-প্রীতির বন্ধনে বিশ্ব সমাজকে আবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর দর্শন ও প্রেমের বাণী রাখতে পারে কার্যকরী ভূমিকা। তাইতো শুধু দুষ্টের দর্শনই নয় এক শান্তিময় বিশ্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতি বছর শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন তথা জন্মাষ্টমী আমাদের মাঝে নিয়ে আসে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এক শুভ আনন্দময় বার্তা।

লেবাননের ডিক্কনিতে ৪ঠা সেপ্টেম্বর রোববার ডেস ফেরেস ইউনিস কলেজের অডিটোরিয়ামে প্রবাসী হিন্দু সম্প্রদায় ও  ইসকন-লেবানন এর যৌথ আয়োজনে সারা দিন ব্যাপি জাঁকজমক ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে শ্রী শ্রী কৃষ্ণের ৫২৪২তম জন্মাষ্টমী পালন করলো। জন্মাষ্ঠমী উৎসবে বিশেষ আয়োজনের মধ্যে ছিল কীর্তন, ভোগ আরতি, কৃষ্ণ কথা, প্রসাদ বিতরন ও আলোচনা অনুষ্ঠান।মোঃ সোহেল মিয়া’র সঞ্চালনায় জন্মাষ্টমী উৎসব এ প্রধান অতিথি ছিলেন লেবাননে দায়িত্বরত বাংলাদেশ দূতাবাসের মান্যবর রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার।বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, ইসকন-লেবানন প্রতিনিধি শ্রী প্রেমাধান দাস ও শ্রী মধুকরন, শ্রী শ্রী বাবা লোকনাথ সম্প্রদায় এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বাবুল ধর ও বিমল কর্মকার এবং বিশিষ্ট ভারতীয় ব্যবসায়ী মিঃ পাম্মা।মঞ্চে আসনকৃত অতিথিদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান, শ্রী শ্রী বাবা লোকনাথ সম্প্রদায় এর সদস্যা স্বর্ণা পাল, সুমী সাহা, আল্পনা কর্মকার, কাজল দাস  ও মুন ধর। আলোচনার শুরুতেই গীতা পাঠ পরিবেশন করেন শ্রী মধুকরন।বক্তব্য রাখেন, শিমুল মজুমদার ও প্রেমাধান দাস।পরে জন্মাষ্ঠমী উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত মহোদয়কে সম্মান সূচক ক্রেষ্ট ও নামাবলী প্রদান করা হয়।

Untitled-1

রাষ্ট্রদূত বক্তব্যের শুরুতেই, প্রবাসে এমন একটি সুন্দর ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ ও অভিন্ন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ঐক্যবোধ আর ধর্মনিরপেক্ষতা এ দেশের মানুষের ধর্ম। আবহমানকাল থেকে এ দেশের সকল ধর্মের অনুসারীরা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও বন্ধুত্ব বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছে। সব ধর্মের মূল বাণী মানব কল্যাণ।ধর্মকে ব্যবহার করে বা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে কেউ যাতে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে লক্ষ্যে সবাইকে সজাগ থাকারও আহ্বান জানান।

জন্মাষ্ঠমী উৎসবে কীর্তন পরিবেশন করেন প্রবাসী সনাতন সংগঠন ‘‘নামহট্ট সংঘ’’।পূজার্চ্চনা করেন, গৌরাঙ্গ বৈষ্ণব। উপস্থিত ছিলেন, আমরা সনাতন ও প্রবাসী সংগঠনের সভাপতি ডঃ গৌরচাঁদ শংকর, জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির পক্ষে সন্তোষ ভৌমিক, সুব্রত সাহা, রিপন দেবনাথ, লিটন দেবনাথ,  মানস নন্দন, উজ্জ্বল কর্মকার, গণেশ মজুমদার, অভিজিৎ.বিপ্লব ভক্তা, রনজিৎ পাল, রাজীব দাস, খোকন, দুলাল, প্রশান্ত পাল, রকি, সমীর,  শিমুল, রাজু, দীপংকর, দীপকদা, লিটন সহ আরো অনেকে।এছাড়া এদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অনুষ্ঠান স্থলে বাংলাদেশী ও ভারতীয় প্রচুর দর্শকের সমাগম ঘটেছিল।সবশেষে দর্শনার্থীর মাঝে প্রসাদ বিতরন করা হয়।

 

Related posts