November 19, 2018

লিংক মুছে ফেলতে গুগলে দৈনিক ২০ লাখ অনুরোধ

গুগল

বিশ্বের অনুসন্ধান সেবা খাতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি গুগল। যদিও এর কার্যক্রম শুধু সংশ্লিষ্ট খাতেই সীমাবদ্ধ নয়।

প্রতিদিন কোটি কোটি গ্রাহক বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধানের পাশাপাশি নানা বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত যোগ করছে গুগলে, যা প্রতিষ্ঠানটির অনুসন্ধান সেবাকে আরো তথ্যবহুল করে তুলছে।

কিন্তু এসব তথ্য-উপাত্তের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য পাইরেটেড কনটেন্ট। অনুসন্ধান ফলাফল থেকে এ ধরনের কনটেন্টের লিংক মুছে দিতে প্রতিদিন ২০ লাখ অনুরোধ পায় গুগল। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

টরেন্টফ্রিকের তথ্যমতে, গত এক মাসে প্রতিষ্ঠানটি পাইরেটেড কনটেন্টের লিংক মুছে দিতে ৫,৬০৯ ভিন্ন ভিন্ন কপিরাইট হোল্ডারদের কাছ থেকে সাড়ে ছয় কোটি অনুরোধ পেয়েছে। এ হিসাবে প্রতি মিনিটে অনুরোধের সংখ্যা দাঁড়ায় ১,৫০০ যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

যেসব প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি অনুরোধ পাঠিয়েছে, তার মধ্যে মাল্টিমিডিয়া প্রটেকশন ফার্ম ডেগবান অন্যতম।

এছাড়া তালিকায় ব্রিটিশ রেকর্ডেড মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি (বিপিআই) ও রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা (আরআইএএ) রয়েছে। যে কনটেন্টগুলোর লিংক মুছে দেয়ার অনুরোধ পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে নকল ও ভুয়া লিংকের সংখ্যাই বেশি। কপিরাইট হোল্ডারদের নিজস্ব সিস্টেমের লিংক মুছে দিতেও অনেক অনুরোধ আসে।

আনুষ্ঠানিকভাবে এমপিএএ ও আরআইএএর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো পাইরেটেড কনটেন্টের লিংক যাতে সার্চ রেজাল্টের মাধ্যমে না ছড়ায়, সে অনুরোধ জানিয়েছে।

যে সাইটগুলোয় পাইরেটেড কনটেন্ট বেশি থাকে, সেগুলোকে পৃথকভাবে উপস্থাপনের ব্যবস্থার কথাও বিবেচনা করা হয়েছে। তবে অনুরোধের ভিত্তিতে কনটেন্টের লিংক মুছে দেয়াকেই এখন সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গুগলের মতো বেশকিছু প্রযুক্তি কোম্পানি নিয়মিত তাদের স্বচ্ছতা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। মূলত তাদের কাছে আসা বিভিন্ন অনুরোধের বিষয়গুলোই প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে গ্রাহক তথ্য চেয়ে সরকারি অনুরোধ ও পাইরেটেড কনটেন্ট ও সংশ্লিষ্ট লিংক মুছে দিতে আসা অনুরোধ অন্যতম।

গুগলের তথ্যমতে, পাইরেটেড কনটেন্ট বা তার লিংক মুছে দিতে তাদের কাছে যে অনুরোধ আসে, সেগুলো নিরীক্ষা করেই পদক্ষেপ নেয়া হয়। কপিরাইট হোল্ডাররা যাতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

বর্তমানে পাইরেটেড কনটেন্ট ইস্যু একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের কনটেন্ট ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া রোধে হিমশিম খেতে হচ্ছে সার্চ সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

মূলত ইউরোপে ‘রাইট টু বি ফরগটেন’ নীতিমালার আওতায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লিংক মুছে দেয়ার দাবি প্রথম ওঠে। এ নীতিমালার আওতায় কোনো ব্যক্তির অনুরোধের ভিত্তিতে সেই ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লিংক মুছে দিতে বাধ্য থাকবে গুগল।

প্রথমে এর বিরোধিতা করলেও পরবর্তীতে শুধু ইউরোপ অঞ্চলের জন্য এ নীতি অনুসরণের নিশ্চয়তা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করে, এমন অসংখ্য লিংক মুছে দিয়েছে গুগল।

পরবর্তীতে এ নীতিমালা বিশ্বব্যাপী চালুর নির্দেশ দেয় ইউরোপের পর্যবেক্ষণ সংস্থা, যাতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।

কিন্তু ওই ঘটনার পর থেকে পাইরেটেড কনটেন্ট মুছে দেয়ার অনুরোধ বাড়তে থাকে প্রতিষ্ঠানটিতে। অবশ্য স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টরাও বিষয়টিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

সূত্র: দ্য নেক্সট ওয়েব

Related posts