November 16, 2018

লালাবাজারে বাস চাপায় ব্যবসায়ী নিহত : সড়ক অবরোধ

IMG_20180828_165857মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ থেকে :: সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের লালাবাজারে সিলেটগামী মামুন পরিবহনের একটি বাসের চাপায় কামরুল ইসলাম (৪৩) নামের এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের গোয়ালগাঁও গ্রামের মৃত মনির মিয়ার পুত্র ও লালাবাজারের ল্যান্ডমার্ক শপিং সেন্টারস্থ শিফা ফার্মেসীর পরিচালক। আজ মঙ্গলবার (২৮আগষ্ট) সকাল ১১টায় এঘটনাটি ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ব্যবাসয়ী কামরুল ইসলামের। ঘটনার প্রতিবাদে প্রায় আড়াই ঘন্টা সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন উত্তেজিত জনতা। এসময় কয়েকটি গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া যায়।

এদিকে মামুন পরিবহনের ঘাতক বাসটি আটক করেছে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ।

প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১১ টার দিকে লালাবাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে রাস্তা পারাপার করছিলেন। এসময় মামুন পরিবহনের সিলেটগামী একটি বাস শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসকে অভারট্রাইক করে কামরুল ইসলামকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তখন ঘাতক বাসটি কামরুল ইসলামকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে গেলে উত্তেজিত জনতা সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এসময় কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। ঘাতক বাস ও চালককে গ্রেফতার, লালাবাজারে স্পীড ব্রেকার নির্মাণ ও ট্রাফিক নিয়োজিত করার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠে লালাবাজার। জনতা সড়ক অবরোধ করে রাখলে প্রায় আড়াই ঘন্টা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিলো। ফলে দূর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রী সাধারণকে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জনতার দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয় এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জজ কোর্টের এভিপি এডভোকেট সামছুল ইসলাম, দক্ষিণ সুরমা থানার এসি নির্মল কান্তি, লালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পীর ফয়জুল হক ইকবাল, সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুল আফিয়ান চৌধুরী প্রমুখ।

উল্লেখ্য লালাবাজারে গত এনিয়ে সড়ক দূঘটনায় ৪জনের মৃত্যু হয়েছে।

লালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পীর ফয়জুল হক ইকবাল বলেন, একের পর এক দূর্ঘটনায় আমরা খুবই মর্মাহত। ঘাতক বাস ও চালককে আজ বিকেলের মধ্যে গ্রেফতার, লালাবাজারে স্পীড ব্রেকার নির্মাণ এবং আজ (মঙ্গলবার) থেকে ট্রাফিক পুলিশ সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রাখার দাবি জানিয়েছি। আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আবুল ফজল বলেন, আমরা ঘাতক বাসটি আটক করেছি এবং চালককে গ্রেফতার করতে আমরা চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি। ঘটনার পর থেকেই লালাবাজারে ট্রাফিক পুলিশ নিয়োজিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতার দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। যাতে দ্রুত স্পীড ব্রেকার নির্মাণ করা হয় সেজন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।

Related posts