November 21, 2018

‘শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক’ (ভিডিও)

নাজমুল হোসেন, লন্ডন থেকেঃ শফিক রেহমানের গ্রেফতারকে বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপর বাংলাদেশ সরকারের নির্যাতনমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আখ্যায়িত করে তাঁকেসহ গ্রেফতারকৃত সকল সাংবাদিকের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয় লন্ডনের বাঙ্গালী অধ্যুষিত টাওয়ার হেমলেটসের হোয়াইটচেপলে ‘সাপোর্ট লাইফ, ইউকে’ কর্তৃক আয়োজিত এক নাগরিক প্রতিবাদ সভায়।

আলতাব আলী পার্কে সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন’এর সভাপতিত্বে ও ব্যারিস্টার বিপ্লব পোদ্দার ও ব্যারিস্টার তমিজ উদ্দিনের পরিচালনায় বক্তারা সমাবেশে সাংবাদিক শফিক রেহমানকে যে অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কাল্পনিক বলে উল্লেখ করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানের শফিক রেহমানের ছেলে সুমিত রেহমান ও তাঁর পরিবারসহ সমাবেশের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে পরিবারের পক্ষ থেকে কান্না বিজড়িত কণ্ঠে বক্তব্য রাখেন।( বক্তব্য নীচে ভিডিওতে)

বক্তারা বলেন, ইতিমধ্যে মার্কিন আদালত প্রধানমন্ত্রী পুত্রকে খুন করার পরিকল্পনা সংক্রান্ত অভিযোগ সেই মামলার রায়ে নাকচ করে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ওই ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী পুত্র কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত নয়’ বলে তাদের রায়ে উল্লেখ করেছেন । মূলত ওই মামলার নথিপত্রে প্রধানমন্ত্রী পুত্র-এর ৩০০ মিলিয়ন ডলার (২৪ হাজার কোটি টাকা) সন্দেহজনক লেনদেনের/সম্পদের তদন্ত সংক্রান্ত সুস্পষ্ট তথ্য রয়েছে। বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী পুত্রের এই ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদের বিষয় ধামাচাপা দিতেই শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে ।

বক্তারা আরো বলেন, একই উদ্দেশে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার এবং এর আগে নানা ভিত্তিহীন অভিযোগে চার বছর কারাগারে নির্যাতন ও তার সম্পাদনার পত্রিকা ‘আমারদেশ’-এর প্রকাশনা বন্ধ করা এবং শওকত মাহমুদ’কে গ্রেফতার এবং বিপুল সংখ্যক মামলায় তাদের হয়রানি’র তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবী জানানো হয় । সাম্প্রতিক সময়ে ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম ও প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ সারাদেশে সাংবাদিকসহ সকল গণতান্ত্রিক কর্মী সংগঠকের উপর নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার নিন্দা ও তাদের মুক্তির দাবী জানান।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার (৮০০ কোটি টাকা) লোপাটের ঘটনা, শত শত গুম- খুন ও সহিংস ঘটনা মোকাবেলায় চরমভাবে বার্থ বাংলাদেশ সরকার মিডিয়া ও সিভিল সমাজকে ভয় ভীতি দেখিয়ে সমালোচনা থেকে বিরত রাখতেই এই ধরনের নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে বলে সমাবেশে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

ভিডিওঃ  লন্ডনে সমাবেশে বক্তারা  ( ভিডিওর নীচে বাকী সংবাদ ও শফিক রেহমানের ছেলের বক্তব্যের ভিডিও )

বক্তারা বলেন,এই গ্রেপ্তার ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা বাংলাদেশে মানবাধিকার কর্মী, , সাংবাদিক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হয়রানির দীর্ঘ দিনের প্রবণতার অংশ এবং অবিলম্বে সরকার দমনের পথ পরিহার না করলে সকল পেশাজীবী মহল দেশে ও বিদেশে সমম্বিত হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনমত গড়ে তুলবে এবং সকল আন্তর্জাতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সহযোগিতার আহবান জানাবে।

বক্তারা লন্ডনের মার্কিন দুতাবাসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ও স্টেট ডিপার্টমেন্ট’কে ব্রিটিশ-বাংলাদেশী নাগরিক শফিক রেহমানের ব্যপারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাবীর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য জোর দাবী জানানো হবে বলে সভায় জানানো হয় ।

শফিক রেহমান প্রতিষ্ঠিত সংগঠন সাপোর্ট লাইফ ইউকে’র আজকের সমাবেশের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন পেট্রিওট বাংলাদেশের শামসুল আলম চৌধুরী, ভয়েস ফর জাস্টিস’এর ড. এম হাসনাত হোসেইন, কার্ডিফ ইউনিভার্সিটি’র সাবেক অধ্যাপক ড. কে এম অ মালেক, বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ইউ কে’র প্রেসিডেন্ট আবু তাহের চৌধুরী, লন্ডন-বাংলা প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী, বিশিষ্ট সাংবাদিক মুসফিকুল ফজল আনসারী, ইউ কে বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট চ্যানেল আই ইউ কে’এর এম ডি শোয়েব চৌধুরী, এসেম্বলি ফর ডেমোক্রেসির মনোয়ার বদরুদ্দোজা, বাংলাদেশ ওয়াচের মেজর (অবঃ) সিদ্দিক, কন্ঠ প্রবাসের প্রেসিডেন্ট নাজমুল হোসেন, এক্সপার্টাইস ফোরাম ইউ কে’র প্রেসিডেন্ট আলিয়ার হোসেন ও বারিস্টার মমাজিবুর রহমান আইনজীবী ফোরাম লিডার ব্যারিস্টার তমিজ উদ্দিন, সলিসিটার বিপ্লব পোদ্দার, সাবেক ডেপুটি মেয়র অহিদ আহমেদ, নিউহাম কাউন্সিলের কাউন্সিলর আয়েশা চৌধুরী, রাজনীতিবিদ আব্দুল মালিক কুটি, গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি মনছব আলী ও সাউথ ইস্ট রিজিওন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইসবা উদ্দিন প্রমুখ।

 ভিডিওঃ শফিক রেহমানের ছেলে সুমিত রেহমানের বক্তব্য 

Related posts