November 21, 2018

লন্ডনে বাঁশখালী পরিবেশ কর্মীদের হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

FB_IMG_1460162198638পরিবেশ জীব বৈচিত্র ধ্বংস করে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ মানি না।

মুহাম্মদ নূরে আলম বরষণ লন্ডন থেকে।
পরিবেশ ভিত্তিক সংগঠন প্রোটেকটিং বায়ো_ ডাইভার্সিটি ইউকের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাঁশখালীতে অন্যায়ভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনকে কেন্দ্র করে সাধারণ জনগনের সাথে সরকারের পেটোয়া বাহিনীর সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন লোক নিহিত হন। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভে সমাবেশ অনুষ্ঠীত হয়। এই সমাবেশে বক্তারা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে দেয়া হবে না। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র মানি না, মানব না। জনগনের উপর অন্যায় হত্যা কান্ড বন্ধ কর, করতে হবে। পরিবেশ জীব বৈচিত্র ধ্বংস করে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ মানি না।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে লন্ডনে আলতাফ আলী পার্কে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এইসব কথা বলেন ।
সংগঠনের আহ্বায়ক সাংবাদিক মাহবুব আলী খানশূর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, পরিবেশ আইনজীবী ইউসুফ আলী, মানবাধিকার কর্মী ফরিদুল ইসলাম, পরিবেশ কর্মী আব্দুর রউফ রুবেল, বাহার উদ্দিন, আব্দুল বাসিত সেলিম, মানবাধিকার কর্মী রায়হান সাব্বির, ছাত্রনেতা মাসুদুর রহমান,
তরিকুল ইসলাম, আল আমিন, আব্দুর রহমান, ছাত্রদল নেতা গরীব হোসেন প্রমুখ।
পরিবেশ কর্মী আব্দুর রউফ রুবেল বলেন, শুধুমাত্র বাঁশখালীতেই নয় বাংলাদেশের কোথাও আমরা কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন মানি না । আমরা বাংলাদেশের জীব বৈচিত্র ধ্বংস করে বিদ্যুত্ কেন্দ্র হতে দিব না।
পরিবেশ আইনজীবী ইউসুফ আলী বলেন, শুধুমাত্র বাংলাদেশেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো প্রতিবাদী পরিবেশ কর্মীদের নির্যাতন করছে। এটা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় । আমাদের সবাইকে বিশ্বের পরিবেশ রক্ষায় প্রতিবাদী কর্মীর ভূমিকা পালন করতে হবে।
মানবাধিকার কর্মী ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলছি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডমারা এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলো পরিবেশ জীব বৈচিত্র ব্যাপক হুমকির মুখে পড়বে। আমার প্রিয় বাংলাদেশের পরিবেশ ধ্বংস করে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন হতে দেয়া হবে না।
তিনি লাতিন আমেরিকার আদিবাসীদের কথা দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন এইভাবে, লাতিন আমেরিকার আদিবাসীদের মধ্যে বহুল প্রচলিত একটি মন্ত্র চালু আছে , ‘মুনাফার লোভে আমরা একে একে আমাদের পানি, আমাদের বন, আমাদের ভূমি, আমাদের বাতাস বিষাক্ত করার পর দেখব, টাকা ছাড়া আমাদের কাছে আর কিছুই নেই। কেবল তখনই আমরা বুঝব, টাকা খেয়ে আমরা বাঁচতে পারব না।’ বাঁচতে গেলে আমাদের বিশুদ্ধ পানি লাগবে, খাদ্য লাগবে, শ্বাস নেওয়ার জন্য বিশুদ্ধ বাতাস লাগবে, আমাদের অস্তিত্বের জন্য বন লাগবে, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থান লাগবে। অসংখ্য প্রাণবিনাশী কাজ করে মানুষ প্রাণী বাঁচতে পারবে না। তাই বাচঁতে চাইলে এখনই পানি বায়ু দূষণ বন্ধ করি। পাশাপাশি জীববৈচিত্র বন রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি। বাঁচাও পরিবেশ জীব বৈচিত্র বাচাঁও দেশ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডমারায় ৬০০ একর জমির উপর বেসরকারিখাতে নির্মিত হচ্ছে এক হাজার ২২৪ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র । কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে পরিবেশ বিপর্যয় হবে এবং পৈতৃক বসতভিটা হারাবেন অনেকে—এমন শঙ্কা করেছে এলাকাবাসী।
পরিবেশ দূষণের জন্য যে ক’টি প্রতিষ্ঠান দায়ী তার অগ্রভাগে রয়েছে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ থেকে এক-তৃতীয়াংশ কার্বনডাই-অক্সাইড, ৪০ শতাংশ মার্কারি (পারদ), এক-চতুর্থাংশ নাইট্রোজেন অক্সাইড ও দুই-তৃতীয়াংশ সালফার ডাই-অক্সাইড উত্পন্ন হয়। সালফার ডাই-অক্সাইডের কারণে হৃদরোগ ও অ্যাজমা এবং নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের কারণে ফুসফুসের টিস্যুর মৃত্যু হয়। গবেষণায় বলা হয়, কয়লাচালিত বিদ্যুেকন্দ্র থেকে উপজাত হিসেবে আর্সেনিক, ক্রোমিয়াম, কোবাল্ট, লেড (তামা), ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, রেডিওনিউক্লাইড (তেজস্ক্রিয় পদার্থ) প্রভৃতি উত্পন্ন হয়। সব ধরনের কয়লা থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে এসব দূষিত পদার্থ উত্পন্ন করা হয়। এছাড়া গড়ে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনে ২৫ পাউন্ড মার্কারির নির্গমন হয়। সে হিসেবে আনোয়ারায় ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতিদিন ৩২৫ পাউন্ড পারদ নির্গত হবে। এগুলোর সবই পরিবেশ, মানবদেহ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

Related posts