September 25, 2018

লন্ডনে জাতীয় ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভা

মুহাম্মদ নূরে আলম লন্ডন থেকে: যুক্তরাজ্য বিএনপির উদ্যোগে ৭ নভেম্বর জাতীয় ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের মেনর পার্কের রয়াল রিজেন্সি সেন্টারে  অনুষ্ঠিত হয়েছে।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস, অধ্যাপক ড. কেএম এ মালিক, যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী, আকতার হোসেন, আব্দুল হামিদ চোতারেক রহমানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম এ সালাম, মেজর আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ ।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর যেদিন বাংলাদেশ রক্ষা পেয়েছিল ভারতীয় ব্রাহ্মণ্যবাদী ষড়যন্ত্রের হাত থেকে। আজও বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে আরও একটি ৭ নভেম্বর দরকার। ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির জন্য এই দিনটি “ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস” নামে পরিচিত। বিএনপি যখন ক্ষমতায় থাকে এই দিনটিকে মর্যাদা দেবার জন্য রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করে থাকে। আমার আজকের লেখার প্রধান উদ্দেশ্য ইতিহাসের আলোকে এই দিনটিকে স্বল্প পরিসরে মূল্যায়ন করা। সেই দিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর  রহমানের হাতে বাংলাদেশ রক্ষা পেয়েছিল ভারতীয়  ষড়যন্ত্রের কবল হতে।

অধ্যাপক ড. কেএম এ মালিক বলেন, ৭ নভেম্বর আলোচনা করার পূর্বে আমরা একটু পিছনের ইতিহাসে যাই। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ তার কাংখিত স্বাধীনতা লাভ করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশু দেশটির লালল পালনের দায়িত্ব অর্পিত হয় শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে। সাধারণ জনগণের চোখে তখন কষ্টার্জিত দেশ নিয়ে গড়া আকাশচুম্বী স্বপ্ন। কিন্তু জনগণের সে স্বপ্ন চুরমার হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ইতিহাস বলে, স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারের একনায়কতন্ত্র, স্বজনপ্রীতি আর দুর্নীতির ভারে জনগণের জীবন পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে, বলতে গেলে মুজিব সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। দুঃশাসনের প্রতিবাদ স্বরূপ ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি অর্ধবেলা হরতাল ডাকে। সাধারণ জনগণ সে হরতালের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী একটি দেশের সরকারের জন্য এই হরতাল হতে পারতো একটি সতর্কবার্তা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি আওয়ামীলীগের কতিপয় ব্যক্তি তখনও একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭৩ সালের মার্চের প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত ইলেকশন ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্কিত ইলেকশন বলে চিহ্নিত। ভোট চুরি, স্বজনপ্রীতি, পেশী শক্তি এবং কালো টাকায় মোড়ানো একটি ইলেকশন। ৭৩ এর নির্বাচন ছিল ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতোই বিতর্কিত। আসলে আওয়ামী লীগের ইতিহাস ভোট চুরির ইতিহাস, এর পর ১৯৭৪ সালে আসে ইতিহাসের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে খাদ্যমূল্যের সীমাহীন মূল্যস্ফীতি এবং অনাহারে মানুষের মৃত্যু সাধারণ জনগণের মাঝে তত্‍কালীন সরকারের উপর চরম অসন্তোষ বয়ে আনে।

আওয়ামী লীগের মাঝেই তৈরি হয় বিভিন্ন গ্রুপ। ধারনা করা হয়, সেসময় সরকারের কাছের লোকেরাই ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করে। পরিণতিতে সংঘটিত হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে কলংকিত হত্যাকান্ড  ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট। ১৫ আগস্ট স্বপরিবারে  শেখ মুজিবুর রহমানকে  নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়। কাপুরুষদের ঘৃণার ছোবল থেকে শেখ পরিবারের কেউ রেহাই পাননি। নারকীয় এ হত্যাযজ্ঞের পর খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

এছাড়া এ সভায় ব্যারিস্টার তারিক বিন আজিজ, নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, তাজ উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, যুক্তরাজ্য বিএনপির দফতর সম্পাদক নাজমুল হুসেন জাহিদ, প্রচার সম্পাদক মোতাহার হোসেন লিটন, পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক আবুল হাসনাত রিপন, ল ফোরাম নেতা হামিদুল হক আফিন্দী, আবু নাসের অপু,  সিনিয়র মেম্বার সাদিক মিয়া, স্বেচ্ছাসেবক দল প্রেসিডেন্ট নাসির আহমেদ শাহীন ও আবুল হোসেন, জাসাস প্রেসিডেন্ট এম এ সালাম,  যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ ক্রীড়া সম্পাদক সরফরাজ সারফু, সেচ্ছাসেবক দল নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া উপস্থিত ছিলেন।

Related posts