November 16, 2018

‘লক্ষ্যে পৌঁছুনো সরকারের মুখের কথা নয়’

ঢাকাঃ   ২০২১ সালে মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয় ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত আয়ের দেশে রুপান্তরের ক্ষেত্রে সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা তা পূরণ করা খুব একটা সহজ হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। এর জন্য সরকারকে কিছু সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) রাজধানীর ম‌তি‌ঝি‌লে এফবিসিসিআই সম্মেলন কক্ষে ‘তরুণ উদ্যোক্তাদের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শাহরিয়ার আলম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সালে ও ২০৪১ সালে ঠিক যে জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে সেখানে যাওয়ার মত অবস্থায় এখনো আমরা নেই- এটা সত্য। এর জন্য আমাদের যে সমালোচনাগুলো হয় তার অন্তত ৫০ শতাংশ আমাদের গ্রহণ করতে হবে। কিছু লক্ষ্যে পৌঁছুনোর পথে চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলো শক্তভাবে মোকাবিলা করতে হবে। লক্ষ্যে পৌঁছুনো মুখের কথা নয়।’

সরকারের অনেক জায়গায় অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘সরকার যেসব কাজ করে সেখানে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতি রয়েছে। তার পরও আপনাদের (সকল ব্যবসায়ী) কাছ থেকে যদি বড় ধরনের সহযোগিতা পাই তবে আমরা অনেকটাই দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবো। যেখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে তরুণ উদ্যোক্তারা।’

তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা বাজেটের আগে আগে একটা দুটো অনুষ্ঠান না করে, সারা বছর ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলুন, কাজ করুন। অপনারা বছরের ১২ মাসে ১২টা কাজ হাতে নিন। সরকারের এক একটা সেক্টরের সঙ্গে যেমন এনবিআর, ব্যাংক, কাস্টমস, পোর্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে বসুন। মাসজুড়ে আলোচনা করে সেটার সমাধান করুন। এভাবে যখন করবেন দেখবেন সরকার আপনাদের কথা শুনতে বাধ্য হবে। কাজটাও সহজ ও দ্রুত হয়ে যাবে।’

সেমিনারে তরুণ উদ্দ্যোক্তাদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি দাওয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে তুলে ধরবেন বলে কথা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সেমিনারে উত্থাপিত তরুণদের দাবিগুলোর মধ্যে শুধু নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা বরাদ্দ না দিয়ে ১৮-৪০ বছর বয়সের সকল তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। কারণ নারী-পুরুষ সকল উদ্যোক্তারা একসঙ্গে কাজ করলে তা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বেশি ভালো হবে বলে মনে করছেন তারা। বড় ব্যবসায়ীরা সিঙ্গেল ডিজিট ও সহজ শর্তে ঋণ পেলেও তরুণদের এক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা দূর করারও আহ্বান জানান তারা।

জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যশনালের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন মামুন বলেন, ‘আমাদের জন্য মেধাস্বত্ব আইনটা খুব বেশি জরুরি। কারণ তরুণ উদ্যোক্তারা যখন একটা আইডিয়া নেয় ফান্ডের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাফেরা করে তখন দেখা যায় কোনো এক পুঁজিপতি সেটার খবর পেয়ে যায়। তখন সেই পুঁজিপতি সেটা কপি করে ফেলে। যার আইডিয়া তার আর কোনো গুরুত্ব থাকে না।’ এ সময় তিনি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফের দাবি জানান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। তরুণরা যেহেতু আইসিটিতে বেশি উদ্ধুদ্ধ হচ্ছে সেহেতু আসন্ন জাতীয় বাজেটে ই-কমার্স ও আইসিটি খাতে বড় বাজেট প্রত্যাশার কথা তুলে ধনে তিনি।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/১৯ মে ২০১৬

Related posts