November 20, 2018

“ র.আমীররা কেনো পতিতা হয়ে যায় ? ”

মীর্জা শ. হাসান
আমাদের দেশে এখন অনেক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি আছে, সেখানে নানান ধরনের কাজ রয়েছে মাহিলাদের জন্য । রেস্টারেন্টে, টিকেট কাউন্টারে, কলসেন্টারে, বই বিক্রয়কেন্দ্র, নানান ধরনের জায়গাতে কাজের সুযোগ রয়েছে । তবে ইচ্ছে করে কেনো পতিতাবৃত্তিকে বেছে নিতে হবে ।

আমাদের মাঝে শুকরিয়া স্বভাবটা কম । যে যেখানে আছে সে পুরোটা সুখী না । যে তিন বেলা খেতে পারে, সে সুখী না । সে গাড়ী-বাড়ী পেয়েছে সেও সুখীনা । যার কোন কিছুই এক্সটা প্রয়োজন নেই সেও সুখী না । যে যেখানে আছে সে আরও একটু বেশী চায় ।
আমি প্রায় ধনী একটি নারীকে খুজে পেয়েছিলাম । যার সম্পদ আছে এবং তিন বেলা কোন চিন্তা করতে হয় না । মোটামুটি কিছু ডিগ্রিওে অজন করেছিলো, তাতে বলতে হয় শিক্ষিতা । তাকে প্রশ্ন করেছিলাম , “আপনার তো এতো কিছু আছে, তাও আপনি কেনো পাতিতা পেশায় নিজেকে জড়িয়ে ফেললেন ? ” তিনি সুন্দর একটি যুক্তি দিলেন ।

আসলে শয়তানীদের যুক্তির কোন অভাব থাকে না । তার প্রথম যুক্তি ছিলো, পুরুষরা তার সামনে কুকুরের মতো এসে লাইন করে । তাতে সে কিছু সুযোগ করে নেয় আর বিনিময়ে সামান্য সময় নিজেকে দিতে হয় । যদি বলি আপনি কেনো দেন ? তিনি বলেন দিলে কি হয় ? এটা কিচ্ছুনা । সাময়িক একটি মিথ্যা ঘটনা । কিন্তু বিনিময়ে যা পাচ্ছি তা দিয়ে আমার জীবনের মোড় ঘুড়ে যাচ্ছে, আমি চাকুরীর ক্ষেত্রে আরও একটু উচুতে যাচ্ছি । আর একজন এটা না করলে তো অন্যজন করবেই । তার যুক্তির সামনে আমার কিছু করার থাকে না । সে র.আমীর নামে পরিচিতো ।

এবার আসা যাক নিম্ন শ্রেণীতে যাদের পরিবার নেই, শিক্ষা নেই । কেউ আসে সৎমায়ের অত্যাচারের তাড়নায়, কেউ নায়িকার হতে এসে বাধ্য হয়ে এ পেশাতে চলে আসে, কেউ নিজের দৈনন্দিন খরচা চালাতে এ পথ বেছে নেয় । এটা নাকি সহজ পেশা ঝামেলা মুক্ত ।
র.আমীর’কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি এ পথ কেনো বেছে নিলেন ? তিনি সুন্দর যুক্তিতে আমাকে বোঝালেন, “ আমি যা ইনকাম করি তা পুরোটাই ব্যাংকে জমাই ।

আর আমার পোশাক, বাচ্চার স্কুলের বেতন, যাতায়াত, বিশেষ কেনাকানা ইত্যাদি কিছু চরিত্রহীনদের কাছে থেকে করে নিই । ওরা আসে, আমি তাদের ব্যবহার করি । ক্ষতি কি ? ” । বেশ দৃঢ়তার সাথে ঠান্ডা মাথায় জবাব দেয় সে । অবাক হবার কিছু নেই । স্কুল জীবন থেকে তিনি এ পেশায় আছেন । প্রথমত পরিবার জানতো না, পরে জানলেও মেনে নেয় । কেননা, সে পরিবার থেকে এক্কেবারে চলে যাবার হুমকি দিতো ।

র.আমীরকে বলেছিলাম, এটা তো আর যাই হোক আপনার পাপের কামাই । তা দিয়ে কি আপনার উন্নতি হবে ? তিনি বল্লেন, কামাই তো কামায়ই, পাপের বলে মনে করি না । দোকানদার কিছু দিলে টাকা চাইবে, আমি তখন তা দেই ।

তাতে আবার পাপ কি । আমি কেয়ার করি না । আমি সুখ চাই ।

র.আমীরের সাথে কথা বলেই আর্চিকেলটি লিখলাম, কেকনা এ থেকে মানুষকে ফেরানোর আর কোন সূত্র আমার যানা নেই বা সামর্থ্য নেই ।।

ভেবে দেখুন : যারা নিজেদের আবাসিক হোটেরে বা একাকী বাসা ভাড়া নিয়ে পতিতা পেশা চালাচ্ছেন, তা বন্ধ করে দিয়ে সেখানে মার্কেট, পোশাক শিল্প বা হস্তশিল্প দিন। আজকের পতিতাদের সেখানে ভালো পরিচয়ে কাজ করান। তারা সুন্দর পরিচয় পাবে এবং আপনিও সুস্থ মনে ভালো দেশ গঠনে অংশ নিতে পারেন। অনেক হয়েছে আসুন না দেশটাকে ভালোবাসি ।।

মীর্জা শ. হাসান

Related posts