September 22, 2018

‘রোয়ানু’র তান্ডবে লন্ডভন্ড কক্সবাজার সৈকতের ঝাউবিথি

অজিত কুমার দাশ
কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের বিস্তর্ণ সমুদ্র সৈকতের শোভাবর্ধনকারী গাছ ঝাউবিথি। ঘুর্ণিঝড় কিংবা জলোচ্ছাস সহ প্রকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে সৈকতের সুন্দর্য রক্ষাকর্তা এই ঝাউগাছ। অথচ আজ অব্যবস্থাপনার কারণে ধ্বংসের মুখে ঝাউবিথি। গত শনিবার ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে উপড়ে গেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টের ঝাউ গাছ গুলো। সাগরের জোয়ারের পানিতে প্রচুর ঝাউগাছ উপড়ে গেছে বলে ধারণা করছেন বন কর্মকর্তারা। বাতাসের তিব্রতায় সৃষ্ট প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে উপড়ে পড়া অধিকাংশই ঝাউগাছ।

প্রায় প্রতি বছর মৌসুমী ঘূর্ণিচাপের প্রভাবে জোয়ারের পানি ঝাউগাছ উপড়ে নিলেও সৈকতের সৌন্দর্য বর্ধনকারী এসব গাছ রক্ষায় প্রয়োজনীয় কোন পদক্ষেপ নেই। ফলে ঝাউবাগান আজ বিলীন হতে বসেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট, নাজিরারটেক, সুগন্ধা পয়েন্ট, শৈবাল, লাবণী, কলাতলী ও সী-ইন পয়েন্টসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সাগরের বালিয়াড়িতে উপড়ে পড়ে আছে অসংখ্য ঝাউগাছ। রোয়ানুর তান্ডবে সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও প্রবল জোয়ারের পানির ঢেউয়ের ধাক্কায় সৈকতের ঝাউগাছের গোড়া থেকে বালি সরে গিয়ে এসব গাছ উপড়ে গেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। এভাবে চলতে থাকলে সৈকতের সৌন্দর্য বিলীনের পাশাপাশি পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বনবিভাগ সূত্র জানায়, কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলের প্রায় ৫৪০ হেক্টর জমিতে ১৯৯৩-৯৪ সালে লাগানো হয় এসব ঝাউগাছ। এগুলো দিনে দিনে সবুজের সমারোহ ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি সৈকতে বেড়াতে আসা লোকজনকে একটি অন্যরকম সুরের মূর্চনায় অভিভূত করে রাখে ঝাউগাছ গুলো। গাছগুলো পরিচর্যার দায়িত্বে কাগজে কলমে রয়েছে উপকূলীয় বনবিভাগ।

অপর এক সূত্র জানায়, সৈকত এলাকার এসব ঝাউবাগান এখন বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির আওতায় রয়েছে। পুরো ১২০ কিলোমিটার অখন্ড বালিয়াড়ির নিয়ন্ত্রক কক্সবাজার বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি। তাই এটি আজ পর্যটনের শ্রী বর্ধনে একটি অংশ হয়ে উঠেছে এ ঝাউগাছ। দৃশ্যত এসব গাছের এখন দু’টি অভিভাবক হয়ে উঠায় সঠিক পরিচর্যা পাচ্ছে না এসব গাছ। অযত্নঅবহেলায় অনেক গাছের গোড়া থেকে দুই-তিন ফুট পর্যন্ত বালি সরে গিয়ে শিকড় বেরিয়ে পড়েছে। তাই হালকা বাতাসেও উপড়ে পড়ছে অসহায় গাছগুলো। অনেক সময় হত্যার শিকারও হচ্ছে ঝাউগাছ।

কক্সবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা তাপস কুমার দেব বলেন, আমরা বন, পাহাড় ও ঝাউগাছ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে আছি। বনকর্মীদের চেষ্টায় গাছগুলো এখনো টিকে আছে। কিন্তু স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রকৃতির কাছে (রোয়ানুর কাছে) শনিবার নতি স্বীকার করেছে শতাধিক গাছ। এরপরও আমাদের সিপিজি সদস্যরা গাছগুলো রক্ষার্থে প্রাণান্ত চেষ্টা করেছে। কিন্তু সৈকতে উপড়ে পড়া কিছু ঝাউগাছ উদ্ধার করতে পারলেও বেশির ভাগ গাছ জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে স্থানীয়রা মনে করেন, সমুদ্র সৈকতের ঝাউগাছ বিলীন হওয়ার কারণে হুমকির মুখে রয়েছে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকা। তাই শহর রক্ষায় এসব স্থানে জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ না দিলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। গাছগুলো রক্ষা করতে হলে জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ তৈরি করা দরকার।

আমাদের প্রতিনিধি অজিতের পাঠানো কক্সবাজারের আরো খবর।

কক্সবাজারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হল মহিমান্বিত শবে বরাত

‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ শব্দের অর্থ সৌভাগ্য। এটি ফারসি শব্দ। হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত মুসলমানরা পালন করে ‘ভাগ্য রজনী’ হিসেবে। রোববার দিবাগত রাতটিই পবিত্র শবে বরাত ছিল। সারাদেশের ন্যায় কক্সবাজারেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয় মহিমান্বিত এ রাত।

কক্সবাজারের সকল মসজিদে বা ঘরে ঘরে রাত জেগে ইবাদত বন্দেগি করেছে মানুষ। ফজর ওয়াক্তের আগ পর্যন্ত এভাবে আমল করেন অনেকে। অনেকে রোববার রোজাও রেখেছিলেন।
বিশেষ করে কক্সবাজারের মাজার ও কবরস্থান কেন্দ্রিক মসজিদগুলোতে বিপুল সংখ্যক মানুষ মিলাদ মাহফিলে জড়ো হয়ে দোয়া দরুদ ও নফল নামাজ আদায় করছেন। অনেকে মসজিদের বাইরে বসে থাকা শত শত ভিক্ষুককে দান খয়রাতও করছেন।

মর্যাদাপূর্ণ এ রাতে মহান আল্লাহ তা’আলা বান্দাদের জন্য তার অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। মহিমান্বিত এই রাতে কক্সবাজারের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময় আল্লাহর অনুগ্রহের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকিরে মগ্ন থাকেন। জীবনের পাপ মার্জনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করেন।

ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি হরেক রকমের হালুয়া, ফিরনি, রুটিসহ উপাদেয় খাবার তৈরি হয়েছে। এসব খাবার বিতরণ করা হয় আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে। সন্ধ্যার পরে অনেকে কবরস্থানে গিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত আপনজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

প্রসঙ্গ, আরবি দিনপঞ্জিকা অনুসারে শাবান মাসের পরে আসে পবিত্র রমজান মাস। শবে বরাত মুসলিমদের কাছে রমজানের আগমনী বার্তা বয়ে আনে। তাই শবে বরাতের রাত থেকে রমজানের প্রস্তুতিও শুরু করেন মুসলমানরা।

ভরা মৌসুমেও সাগরে মাছের দেখা নেই

ভরা মৌসুমেও বঙ্গোপসাগরে মাছের দেখা নেই। সাগরে মাছ না থাকায় কর্মহীন অলস সময় পার করছেন কক্সবাজারের জেলেসহ সংশ্লিষ্ট প্রায় অধলাখ মানুষ। এতে জেলে পরিবারগুলো হয়ে পড়েছে অসহায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, সাগরের লবণাক্ত বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যত্রতত্র মশারির জাল দিয়ে পোনা নিধন এবং ট্রলি দিয়ে মাছ শিকারের কারণে সাগরে মাছের সংখ্যা দিন দিন কমতে শুরু করেছে। আর তাতেই এই ভরা মৌসুমেও মাছের দেখা মিলছে না বলে মনে করেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।

ভরা মওসুমে সাগরে মাছ না পাওয়ায় এবং  ঘন ঘন প্রকৃতিক দুর্যোগের কারণে সিগন্যাল থাকায় বসে বসে দাদনের টাকা খরচ করছেন জেলেরা।

কেউ কেউ জাল বুনে কিংবা বসে থেকে অলস সময় কাটাচ্ছেন। সাগরে মাছ না থাকায় মালিকের কাছ থেকে নেয়া দাদনের নেয়া টাকা কিভাবে শোধ করবেন তা নিয়ে দু:চিন্তায় জেলেরা।

মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জানালেন, সাগরে গিয়ে মাছ না পাওয়ায় দিশেহারা জেলেরা।
জেলায় জেলে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার। সাগরে মাছ না থাকায় তাদের পরিবার পরিজন অনেকটা দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে।

রোয়ানুর প্রভাবে ভেসে গেছে ফসল-মাছের ঘের

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকাগুলোর বেড়িবাঁধ ভেঙে বোরো ও আউশ ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে মাছের ঘের।

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাব ও জোয়ারের পানির চাপে কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, উখিয়া, টেকনাফের বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন শস্যের ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। ভেসে গেছে পুকুর ও ঘেরের মাছ। ঝড়ের তাণ্ডবে নষ্ট হয়েছে সবজির বাগান। গবাদি পশুর খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে।

কক্সবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আ ক ম শাহরিয়ার জানান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে নাভী জাতের আউশ ধানের ভাসমান বীজতলা তৈরির ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে, যেন পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ওই বীজতলা ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

অন্যদিকে জনগণের ফসল, গবাদিপশু ও মাছের পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষয়ক্ষতি সঠিকভাবে নিরূপণ করে মঙ্গলবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন।

প্রাথমিক হিসেবে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কক্সবাজার প্রায় এক হাজার সাতশ’ ৮০ হেক্টর জমিতে আউশের বীজতলা, এক’হাজার এক’শ হেক্টর জমিতে রোপণ করা আউশ এবং প্রায় ১২শ’ হেক্টর সবজি ক্ষেত ডুবে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অন্য ফসলের মধ্যে রয়েছে ডাল, কাঁচা মরিচ, চীনা বাদাম এবং মিষ্টি আলু।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৩ মে ২০১৬

Related posts