November 16, 2018

রূপালী ইলিশকে ‘ব্রান্ডিং জেলা’ চাঁদপুরের ব্রান্ড ঘোষনা

এ কে আজাদ, চাঁদপুর: ‘ব্রান্ডিং জেলা চাঁদপুরকে নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের ভূমিকা’ শীর্ষক ‘স্বপ্নমেলা’ নামক মতবিনিময় সভা রোববার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে (৩য় তলা) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) মোহাম্মদ আব্দুল হাই। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বিএম হান্নান। ব্র্যাডিং জেলা চাঁদপুর স্বপ্ন মেলার মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রোটারিয়ান কাজী শাহাদাত।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদীর পরিচালনায় ব্র্যান্ডিং কার্যক্রমকে সামনে রেখে দেশ-বিদেশে চাঁদপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক নিদর্শনসহ পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনার বিষয়াদি তুলে ধরে বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও পরামর্শ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, অ্যাড. ইকবাল বিন বাশার, ইকরাম চৌধুরী, গোলাম কিবরিয়া জীবন, শাহ মোহাম্মদ মাকসুদ, উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক ওচমান গণি পাটওয়ারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, গিয়াস উাদ্দিন মিলন, রহিম বাদশা, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সধারণ সম্পাদক জিএম শাহীন, সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি ফারুক হোসেন, দৈনিক মেঘনা বার্তার সাবেক সম্পাদক ও প্রকাশক আব্দুল আউয়াল রুবেল, দৈনিক ইলশেপাড়ের যুগ্ম সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শান্ত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার সাইফুর রহমান, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শহীদ পাটওয়ারী, শরীফ চৌধুরী, দৈনিক চাঁদপুর সংবাদের সম্পাপদক ও প্রকাশক আব্দুর রহমান, দৈনিক চাঁদপুর দিগন্তের প্রকাশক ও সম্পাদক অ্যাড. শাহজাহান মিয়া, দৈনিক আলোকিত চাঁদপুর এর সম্পাদক ও প্রকাশক জাকির হোসেন, দৈনিক ইলশেপাড়ের প্রধান সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান সুমন সহ চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সকল পর্যায়ের সদস্য এবং সর্বস্তরের গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল বলেন, ব্রান্ডিং এর উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাপী চাঁদপুরকে তুলে ধরা। রূপালী ইলিশকে আমরা চাঁদপুরের ব্রান্ড হিসেবে ঘোষনা করেছি। এই ইলিশকে ব্রান্ড হিসেবে ধরে নিয়ে চাঁদপুরকে একটি আদর্শিক জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই ব্রান্ডিংয়ের মাধ্যমে চাঁদপুরের রাস্তাঘাট, অবকাঠামো, পরিবেশগত সহ সকল দিকে উন্নতি হবে।

বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতেই কিছু না কিছু প্রাকৃতীক সম্পদ রয়েছে। তবে এমন কোনো জেলা নেই যেখানে প্রাকৃতীক সম্পদগুলো নিরাপদ। আমরা আমাদের প্রাকৃতীক সম্পদ রূপালী ইলিশ নিরাপদ রাখার উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। সদর উপজেলা হানারচর ইউপি চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এবছর ওই ইউনিয়নে প্রায় ২শ’ কোটি টাকার ইলিশ বিক্রি হয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও এটিই সত্য। হাইমচরেও প্রায় ৫শ’ কোটি টাকার ইলিশ বিক্রি হয়েছে। আমাদের ইলিশ রক্ষার এই কর্মর্সূচি সফল হলে প্রতি বছর চাঁদপুরে ৫ হাজার কোটি টাকার ইলিশ বিক্রি হবে।

ব্রান্ডিং বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ব্রান্ডিংয়ে আরো অনেক কিছুই যুক্ত হবে। আমরা মাত্র শুরু করেছি। এ বিষয়ে জেলার ৯টি সম্যসাকে চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। আশা করি সেগুলো অতিদ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় চাঁদপুরকে দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আর এজন্য জেলার সর্বদলীয় এবং সুধিজনের সাইনবোর্ড খুবই জরুরী। ব্রান্ডিং জেলার বিষয়ে ইতিমধ্যে জনমত তৈরী হয়েছে। এখন জাতীয়ভাবে এর প্রচারণা চলছে, এখন আন্তর্জাতিভাবে এর প্রচারণা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, আগামি বছরের মধ্যে এই জেলা মাদক নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে। জুন মাসের মধ্যে বাল্য বিয়ে চরমভাবে নিমূল হয়ে যাবে। ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচি ইতিমধ্যে সফল হয়েছে। এবারা জেলেরাই নদীতে মাছ পাহারা দিয়েছে। চাঁদপুরের পর্যটনখ্যাতকে সমৃদ্ধ করতে হলে এখানকার সড়ক, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, সাহিত্য-সাংস্কৃতির উন্নতি ঘটাতে হবে। লন্ডনের মতো ‘চাঁদপুর আই’ টাওয়ার গড়ে তোলা হবে। যে টাওয়ার থেকে চাঁদপুরের ত্রিনদীর মোহনা, নদী চাঁদপুর শহরের সোন্দর্যকে দেখা যাবে।

স্বাগত বক্তব্যে প্রেসক্লাবের সভাপতি বিএম হান্নান বলেন, আমাদের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক চাঁদপুরকে ব্রান্ডিং জেলা হিসেবে গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, আমরা তা স্বাগত জানাচ্ছি। সরকার ইতিমধ্যে দেশের ৬টি জেলাকে ব্রান্ডিং জেলা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষনা দিয়েছে। এই উদ্যোগ সফল করতে সর্ব প্রথম চাঁদপুরে ব্রান্ডিং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন চাঁদপুরের সন্তান হিসেবে আমরা যারা গণমাধ্যমে কাজ করি তাকে সহযোগিতা করা আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করছি। ব্রান্ডিং এর মাধ্যমে চাঁদপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য কিভাবে বিশ্বের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া যায় সে বিষয়ে সবার সাথে আলোচনা করা হয়েছে। যে সকল গণমাধ্যমকর্মীরা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হয়েছেন তাদের আমি অন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

 

Related posts