November 15, 2018

রুয়েটে ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিলের দাবীতে আন্দোলন : শিক্ষকের হাতে শিক্ষার্থী লাঞ্ছিতের অভিযোগ

RUET Pic 1রাবি প্রতিনিধি: ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) তৃতীয় দিনের আন্দোলনে শিক্ষকের হাতে শিক্ষার্থী লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে লাঞ্ছিত হওয়ার এ ঘটনা ঘটেছে। পরে শেখ হাসিনা হলের সামনে ১৪ ও ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টার দিকে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করেছে। এদিকে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি মীমাংসার জন্য চেষ্টা করলেও তা ভেস্তে যায়।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রুয়েটে দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের সামনে আন্দালনরত শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, ‘সকাল সাড়ে ৭টার দিকে টিনশেড হলে  ও মেয়েদের শেখ হাসিনা হলে যেয়ে আন্দোলন না করার জন্য শিক্ষকরা হুমকি প্রদান করে। পরে আমরা সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিছিল নিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনের দিকে যেতে চাইলে বঙ্গবন্ধুৃৃ হলের সামনে শিক্ষকরা বাঁধা প্রদান করে। এসময় আমাদের ৫/৭জনকে জামার কলার ধরে টানা হেঁচড়া করে, গলা চেপে ধরে এবং মারধর করে। এমনকি মেয়েদেরকেও শিক্ষকরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এ সময় তাদের ছবি তুলে নিয়ে বলা হয়, বহিষ্কার করা হবে। পরে শিক্ষকরা মেয়েদেরকে জোরপূর্বক হলে ফিরে যেতে বাধ্য করে এবং হল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তাই বাধ্য হয়ে হলের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।’ সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘আমাদের দাবী না মানা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যহত থাকবে।’
এদিকে সকালে শেখ হাসিনা হলে মেয়েদেরকে আটকে রাখার পর থেকে ১৪ ও ১৫ সিরিজের প্রায় তিন শতাধিক ছেলে হলের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করেছে। এসময় তারা প্রশাসন বিরোধী ও ৩৩ ক্রেডিট বাতিলের দাবীতে স্লোগান দিতে থাকে। এছাড়া লঞ্ছিতকারী শিক্ষকদের শাস্তি দাবী করে। পরে রুয়েট ভিসিসহ প্রশাসনিক ব্যক্তিরা তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
শেখ হাসিনা হলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকালে আন্দোলন যাওয়ার পরে মেয়েদের জোরপূর্বক হলে এনে আটকে দেয় এবং ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দেয় শিক্ষকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি প্রফেসর ড. মোহা. রফিকুল আলম বেগ শিক্ষার্থীদেরকে মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে শিক্ষার্থীদেরকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, যাতে করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে পিছু হটে।’
প্রসঙ্গত, রুয়েটে ১৩ সিরিজের ব্যাচ বা ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের নূন্যতম ৩৩ ক্রেডিট প্রাপ্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। এই পদ্ধতিতে স্নাতক পর্যায়ে একজন শিক্ষার্থীদেরকে ১৬০ ক্রেডিটে পরীক্ষা দিতে হয়। প্রথম বর্ষের দুই সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষায় ৪০ ক্রেডিটের মধ্যে শিক্ষার্থীরা ৩৩ ক্রেডিট পেলে পরবর্তী বছরে বর্ষে পদার্পনের কথা বলা হয়।

Related posts