September 21, 2018

রুশ দুনিয়ায় আরও ৫ জন আছেন পুতিনের সাথে !

ভ্লাদিমির পুতিন যখন রাশিয়ার ক্ষমতায় আসেন তখন এক সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তার বিশ্বস্ত সঙ্গী কারা। তিনি পাঁচ জন মানুষের নাম বলেছিলেন :

> নিকোলাই পাতরুশেভ
> সের্গেই ইভানভ
> দিমিত্রি মেদভেদেভ
> আলেক্সি কুদরিন
> আইগর সেচিন

এটা পনেরো বছর আগের কথা। কিন্তু পনেরো বছর পরেও এই মানুষগুলোই এখনো পুতিনের দলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এবং রুশ সরকার পরিচালনাসহ অনেক বড় বড় ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন তারা। যেমন :

নিকোলাই পাতরুশেভ ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ছিলেন রাশিয়ার এফএসবি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থার পরিচালক। ২০০৮ সাল থেকে তিনি রুশ নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।

সের্গেই ইভানভ ছিলেন একইসাথে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী। ২০১১ সালের পর থেকে তিনি প্রেসিডেন্ট অ্যাডমিনিসট্রেশনের প্রধান।

দিমিত্রি মেদভেদেভ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত। তারপর পুতিনের সাথে দ্বৈত সমঝোতা ‘তানদেম’ করে তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী, পুতিন হয়েছেন প্রেসিডেন্ট।

আলেক্সি কুদরিন ২০১১ সালের আগ পর্যন্ত ছিলেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমানে পদে বহাল না থাকলেও উপদেষ্টা হিসেবে তিনি এই সংক্রান্ত বেশিরভাগ জায়গায় উপস্থিত থাকেন।

আইগর সেচিন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জায়গা করে নিলেও বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি রোসনেফতের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পুতিনের মূল দলের এই সদস্যদের ভেতর দুটো জিনিস লক্ষ্যণীয়-

প্রথমত, পুতিনের দলের এই কাছের ব্যক্তিরা অনেকদিন যাবত একসাথে রয়েছেন। দলে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি, কিংবা কেউ বাদ পড়েননি।

দ্বিতীয়ত, যারা এই মূল দলের সদস্য তার মূলত ১৯৯০ সালে পুতিন যখন সেন্ট পিটার্সবুর্গে কেজিবিতে ছিলেন তখন একত্রে কাজ করতেন।

পুতিনের বিশ্বস্ত দলে এই পাঁচজন ছাড়াও আরো রয়েছেন অনেকে। রাষ্ট্রীয় যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে তারা ভূমিকা রাখেন। যেমন, আরকেদি রতেনবার্গের মতো ব্যক্তিরা যারা অলিম্পিক খেলা এবং উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক কাজে অংশ নেন। পুতিন ক্ষমতায় আসার পরে এই ধরনের ব্যক্তিদের অনেকেই এখন সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই শইগু একসময় জরুরি অবস্থার মন্ত্রী ছিলেন এবং ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি থেকে তিনি একজন নামকরা রাজনীতিবিদ। এছাড়া তিনি ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ছিলেন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির নেতা। এই ধরনের নেতারা বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্বে আছেন, যেখানে দেশের সবচাইতে বড় বড় সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়।

একইসাথে বর্তমান রুশ ব্যবস্থাপনায় প্রেসিডেন্ট পুতিনের আনা তথাকথিত ‘ভার্টিক্যাল পাওয়ার’ বা ক্ষমতাকে আবার কেন্দ্রিভূত করার প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রেই ঠিকমত কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে। যে কারণে দলের অন্যদেরকে সবসময়ই নতুন নতুন চিন্তাভাবনা এবং কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এটাকে উন্নত করার চেষ্টা করতে হয়। যারাই এক্ষেত্রে প্রতিভা দেখিয়েছে তারাই হয়েছেন পুতিনের প্রিয়জন।

এই রকম একজন হচ্ছেন ইউরি ত্রুৎনেভ। তিনি ২০০০ সালে একটি এলাকার গভর্নর নির্বাচিত হন, তারপর ২০০৪ সালে হয়ে যান প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী । ২০১৩ সালে তিনি উন্নিত হন উপ-প্রধানমন্ত্রীতে।

তাছাড়া ২০১১ সালে পুতিনের রাজনৈতিক ভূমিকাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ভায়াচেসলাভ ভোলোদিন। তিনি ২০১১ তে প্রতিষ্ঠা করেন পপুলার ফ্রন্ট। এতে রুশ নেতৃত্বের নীতিনির্ধারণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। পুতিনের প্রিয়জনদের মধ্যে একজন হয়ে ওঠেন ভোলোদিন।

কাজেই পুতিনের সাথে ঠিক কারা কারা রাশিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছেন সে ব্যাপারে একটা পরিষ্কার চিত্র এখান থেকে পাওয়া যায়। পুতিন রাশিয়ার মূল নিয়ন্ত্রক হলেও তার দলে রয়েছে আরো অনেক প্রতিভাধর গুণী নেতা, যারা দেশের উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা রেখে হয়ে উঠেছেন পুতিনের প্রিয়পাত্র। তবে পুতিন ব্যক্তিগতভাবে সেই সমস্ত মানুষদের পছন্দ করেন যারা শেষ পর্যন্ত কাজ সমাধা করতে পারেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts