November 16, 2018

রামসুন্দর হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক লিয়াকত আলী স্যারকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

12241293_1016620201722632_3785771309489478823_n-236x300

মোঃ আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:: চিকিৎসার অভাবে মরতে বসেছেন বিশ্বনাথের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ রামসুন্দর অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক মোঃ লিয়াকত আলী । টাকার অভাবে চিকিৎসাতো দূরের কথা, স্ত্রী ও ছোট্ট শিশু পুত্রকে নিয়ে বেচে থাকাটা তার জন্য এখন নিতান্তই কঠিন হয়ে পড়েছে । অথচ সূদূর প্রবাসেই তার শত শত প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছেন। এই অবস্থায় একজন শিক্ষক এভাবে টাকার অভাবে চিকিৎসা না করিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবেন, এর দায় কি প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা এড়াতে পারেন ! বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন সময় মত চিকিৎসা না হলে দ্রুত তিনি সম্পূর্নরুপে পঙ্গু হয়ে যাবেন এবং তখন তাকে বাঁচানোটা হয়ত আর সম্ভব না ও হতে পারে। মাত্র কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করলে হয়ত বাঁচানো যাবে একজন শিক্ষককে।

সম্প্রতি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সোসিয়াল মিডিয়া ফেইসবুক এর কল্যানে শিক্ষক লিয়াকত আলীর অসুস্থতার কথা জেনে সূদূর প্রবাস থেকে তার কিছু প্রাক্তন ছাত্র তাদের প্রিয় শিক্ষকের বর্তমান শারিরীক অবস্থা জানতে আমাদের কাছে একাধিক ফোন করেন । এর অংশ হিসেবে গত শুক্রবার সন্ধায় বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব এর সাবেক সভাপতি ও সম্পাদক মাসিক বিশ্বনাথ ডাইজেস্ট রফিকুল ইসলাম জুবায়ের ও রামসুন্দর অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল বারী বিশ্বনাথ ইউনিয়নের মন্ডলকাপন গ্রামে স্যারের বাড়ী যান।

প্রসংগত শিক্ষক লিয়াকত আলী দীর্ঘদিন সুনামের সাথে রামসুন্দর অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরী শাখার শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ১৯৯৭ সালে শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দিয়ে নিজেই ওয়ার্কশপের ব্যবসা শুরু করেন ।

জানাগেছে ২০১৪ সালের নভেম্বরে হঠাৎ করে স্ট্রোক করলে তার সম্পূর্ন দেহের অর্ধেক অংশ পুরোপুরিভাবে প্যারালাইসড হয়ে যায়। সময়মত বন্দু সিরাজ (বিশ্বনাথেরগাঁও গ্রামের ব্রিটেন প্রবাসী ) ও অন্যান্য বন্দু-বান্দব এবং আত্মীয় স্বজনের আর্থিক সহযোগিতায় চিকিৎসার কাজ শুরু করেন । একসময় চিকিৎসার জন্য আরো টাকার প্রয়োজন হলে উপায়ান্তর না পেয়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্টানের সব মালামাল বিক্রি করে চিকিৎসার জন্য ব্যয় করেন। তখন নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়ার ফলে বর্তমানে তাকে আর বিছানায় পড়ে থাকতে হয়না । তবে দেহের অর্ধেক অংশ এখনও প্যারালাইসড রয়ে গেছে এবং অন্যের সহযোগিতা ছাড়া বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। এখন টাকার হবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছেনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে অল্প একটু জায়গায় উপর টিনশেডের দুটি রুমে স্ত্রী ও দুই শিশু পুত্রকে নিয়ে প্রতিনিয়ত দ্রারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে অনেকটাই ক্লান্ত একসময় সততার যুদ্ধে বিজয়ী হওয়া এই শিক্ষক । এখন প্রতি সপ্তাহে নূন্যতম ১০ হাজার টাকা তাদের প্রয়োজন ঔষধ, ফিজিওথেরাপি এবং সংসার খরচ চালানোর জন্য । কিন্তু জানেন না কোথায় থেকে আসবে এ অর্থ ? তার চিকিৎসার ব্যাপারে প্রাক্তন ছাত্রদের আগ্রহের কথা জানালে, শুধু অবাক বিস্ময়ে কেবল তাকিয়ে রইলেন ! স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার কারণে মনের কথা প্রকাশ করতে না পারলেও তার চোখের চাহনি বলে দেয় ছাত্রদের আগ্রহের কথা শুনে কৃতজ্ঞতায় তার মনে ক্ষনিকর জন্য হলেও প্রশান্তির আমেজ এনে দিয়েছিল। আর তার ১০ ও ৫ বছরের ২ শিশু পুত্র যখন বুঝতে পারে তার বাবার চিকিৎসা এবার হবে, তাদের বাবা আবার ভাল হয়ে যাবেন । তখন তাদের মুখে দীর্ঘদিন পর হাসির যে ঝিলিক দেখা গেছে তখন উপস্থিত

অনেকেরই চোখে জল আটকাতে পারেননি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন অন্তত এক বৎসর নিয়মিতভাবে ঔষধ সেবন ও ফিজিওথেরাপি করলে খুব বেশী সম্ভাবনা রয়েছে তিনি সম্পূর্ন রুপে সুস্থ হয়ে যাবেন । এর জন্য নূন্যতম প্রয়োজন ৫ লক্ষ টাকা । রামসুন্দর অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয়ের নূন্যতম ৪০ জন ছাত্র যদি ১০০ পাউন্ড করে সহযোগিতা করেন তাহলে অনায়াসেই এবং খুবই দ্রুত প্রয়োজনীয় এ অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব আপনাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ । কেউ চাইলে সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে ও জমা দিতে পারেন । উত্তরা ব্যাংক , বিশ্বনাথ শাখা । একাউন্ট নম্বর ৬০৮৬ ( স্যার বর্তমানে একাউন্ট পরিচালনা করতে অক্ষম বিধায় তার নামীয় একাউন্টই তার স্ত্রী পরিচালনা করেন) মানুষ মানুষেরই জন্য আর জীবন জীবনেরই জন্য । তাই একটি জীবন বাঁচাতে রামসুন্দর অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্ররা নিজ নিজ উদ্যোগে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করবেন সেই প্রত্যাশা সকলের।

Related posts