November 21, 2018

রামগতিতে ব্রীজ সংস্কারের অভাবে ১২ বছর চাঁদাবাজী!

মোঃসহিদুল ইসলাম,লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভুলুয়া নদীর উপর নির্মিত স্টীল ব্রীজটি সংস্কার না হওয়ায়, সুযোগটি কাজে লাগিয়ে স্থানীয় এক শ্রেনীর প্রভাবশালী চক্র তাদের দোসরদের দিয়ে দিনের পর দিন নীরব চাঁদাবাজী করে যাচ্ছে । এতে দু’পাড়ের কয়েক হাজার মানুষকে চরম দূভোগ পোঁহাতে হচ্ছে । আর প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা। যেন দেখার কেই নেই।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নোয়াখালীর আদী নাম ‘ভুলুয়া’ নদীর উপর তৎকালীন সরকার লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার সীমানা ঘেঁষে গত ২০০২-২০০৩ অর্থ বছরে প্রাক্কলিত ৩৮,৯৭,০০০ টাকা ব্যয়ে ২০০ মিটার দৈর্ঘের এ ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন সময় দুই উপজেলার বাসিন্দাদের যাতায়তের সুবার্থে ১০নং চর রমিজ উদ্দিন ইউনিয়নের চর আফজল গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডে ব্রীজটি করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। অথচ ব্রীজটি নির্মাণের তিন বছর যেতে না যেতে প্রথমে দু-পার্শ্বের মাটি ধ্বসে সড়ক থেকে ব্রীজটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দেখা গেছে ব্রীজের পাটাতনগুলোতে মরিচা ধরে ভেঙ্গে গিয়ে এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় দীর্ঘ এক যুগেও ভুলুয়া স্টীল ব্রীজটি সংস্কার এটি প্রভাবশালীদেরও চাঁদাবাজীর হাতিয়ার হয়ে দাড়িয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, ব্রীজটির দুই দিকে (পূর্ব-পশ্চিম মুখী) পাকা রাস্তা। নদীর তীব্রসোতের কারণে ব্রীজের সামনের মাটি ধ্বসে নদীতে পড়ে যায়। এতে ব্রীজ থেকে রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ব্রীজের উপরের পাটাতন নষ্ট হয়ে ছোট বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ১ যুগেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় কিছু লোক, বিচ্ছিন্ন হওয়া ব্রীজের সাথে কাঠযুক্ত করে হালকা যান চলাচলের ব্যবস্থা করে। এ জন্য তাদের প্রতিটি মটর সাইকেল (প্রতিবার) আসা-যাওয়ার জন্য ২০ টাকা, সিএনজি-ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা ৪০টাকা, রিকশা- ২০ টাকা করে চাঁদা দিতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা চাঁদা আদায় করছে সরকারি দলের পরিচয়ধারী বেশ কিছু যুবক। সিএনজি অটোরিকশা চালক মুরাদ জানান, কয়েকজন যুবক স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদদে ব্রীজের গার্ডার স্থানে কাঠ দিয়ে কোনমতে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে।

তবে এ জন্য তারা সকল যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করছে। দিনে যতবার যাতায়াত করা হয়, ততবারই চাঁদা দিতে হয় তাদের। না হয় নানা কায়দায় হয়রানি। অপরদিকে সীমান্তবর্তী দুই পার্শ্বের একাধিক ব্যক্তি জানান, ব্রীজটি বর্তমানে কিছু অসাধু লোকের চাঁদাবাজীর উত্তম একটি পন্থা হওয়ায় এটি সংস্কার হচ্ছে না। তাছাড়া সীমানা জটিলতাতো রয়েছেই। দুই উপজেলার সাধারণ মানুষ দ্রুত ব্রীজটি সংস্কার করে দুই এলাকার মানুষের পুন:মিলন ও অর্থনীতিতে সহযোগিতা করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবী জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্ধাদের মতে ব্রীজটি নির্মাণ হওয়াতে দুই অ লের জনপদের মানুষের মধ্যে মিলন ঘটে। আর এ ব্রীজটি দিয়ে লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ নোয়াখালীর সুবর্ণচর হয়ে জেলা শহর মাইজদী, দেশের অন্যতম ব্যবসায়ীক কেন্দ্র চৌমুহনী, পাশ্ববর্তী জেলা ফেনী এবং ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় সহজে যাতায়াত করার সুযোগ পায়। এ ছাড়া ভোলা জেলার মানুষও চৌধুরীরহাটের খেয়া ঘাট হয়ে এ ব্রীজটির উপর দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত সুবিধা পায়।

এ ছাড়া ব্রীজটি নির্মাণের পর থেকে রামগতি উপজেলায় কৃষিতেও বড় ধরনের বিপ্লব সহ দুই অ লের মাঝে গড়ে উঠেছিল এক ধরণের অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন। অথচ বর্তমানে ব্রীজটি দিয়ে কোন গাড়ি পারাপার হতে না পারায় লোকসান গুণতে হচ্ছে দু’পাড়ের কৃষকদের। আর ব্রীজ দিয়ে প্রতিদিন শিশু, মহিলা, বৃদ্ধ, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অসুস্থ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে। অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পুঙ্গত্ব বরণও করেছে। এ ব্যাপারে আংকুরের নেছা নামের এক পথচারী জানান, ব্রীজতো নয় যেন এটি একটি মরনফাঁদ। এটি দিয়ে চলাচলে কারে যেন ভোগান্তির শেষ নেই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ বলেন, প্রায় এক যুগ ধরে এভাবে ব্রীজটির গার্ডার ধ্বসে পড়ে রয়েছে। এক পর্যায়ে স্টীলের পাটাতনগুলোও মরিচা ধরে ভেঙ্গে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন একানে ঘটছে দু-চারটা দুর্ঘটনা। স্থানীয় এমপি, চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনের অনেকে আসলেও ব্রীজটি সংস্কার হচ্ছে না। তার মতে শুধুমাত্র সীমানা জটিলতার কারণে ব্রীজটি নির্মাণ হচ্ছে না বলে ধারনা স্থানীয়দের।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির) রামগতি উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী জি. এম. কামাল বলেন, ব্রীজটির স্টীল প্ল্যান্ট সম্পূর্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় এবং এপ্রোছ এর মাটি সরে গিয়ে মূল সড়ক হতে বিছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আর এ বিষয়ে জানতে চাইলে, রামগতি উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ভাঙ্গা ব্রীজটি সম্পর্কে জানানো হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত ব্রীজটি সংস্কারের জন্য কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts