September 20, 2018

রাবিতে জঙ্গি সন্দেহে ৩ শিক্ষার্থীকে পুলিশে দিলো ছাত্রলীগ

ru 3 student arrest 20.04 (3)রাবি প্রতিনিধি: জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে পুলিশে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার বিকেলে টুকিটাকি চত্বর থেকে তাদেরকে  প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশে দিয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া।
আটককৃতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের জোবায়ের হোসেন, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের মকসুদুল ইসলাম এবং ভূ-তত্ব ও খনি বিদ্যা বিভাগের আল তৌহিদ সনি। তারা সবাই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বরে জুবায়ের হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় সে স্বীকার করে আইএস-এর ফেসইবুক পেজে যা শেয়ার করে তা তার ভালো লাগে। তার ফোন থেকে তথ্য নিয়ে পরে ডেকে নিয়ে আসা হয় মাকসুদুল হককে। আর মুখে দাঁড়ি থাকা এবং এ ঘটনা দেখে দ্রুতপায়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখে আল তৌফিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় পরে তাদেরকে পুলিশে তুলে দেওয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় সাংবাদিকদের সামনে জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘তারা (আইএস) যে কাজগুলো করে সেগুলো ঠিক না বেঠিক তা বোঝার জন্যে আমি ফেসবুকে তাদের পোস্টগুলো পড়তাম। তাদের লেখা ভালো লাগে। তাদের কার্যক্রম নিয়ে মাওলানাদের সাথে কথাও বলতাম। এসব বিষয় নিয়ে আমি কনফিউজড। কিন্তু আমি তাদের সাথে যুক্ত হইনি।’
এসময় তার ফোন থেকে আইএস-এর বিভিন্ন বিষয় ও বিভিন্ন যুদ্ধের ভিডিও পাওয়া যায়। এমন সময় তার ম্যাসেঞ্জারে বার্তা পাঠায় ‘শেষ স্টেশন কবরস্থান’ নামের আইডির মালিক মাকসুদুল হক। সেখানে উল্লেখ করে, ছাত্রলীগ তাকে কিছু করেছে কিনা। পরে বিনোদপুর থেকে তাকেও তুলে নিয়ে আসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই তারা আমাদের নজরদারীতে ছিলো। ফেইসবুকে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ও আইএস এর বিভিন্ন তথ্যসহ প্রধাণমন্ত্রীকে নিয়েও ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও শেয়ার করে।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘জঙ্গি সন্দেহে তিনজনকে পুলিশে দিয়েছে ছাত্রলীগ। তাদেরকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. মজিবুল হক আজাদ খানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Related posts