September 18, 2018

রানা দাসগুপ্ত, পীযুষ ভারতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন<<ভারতীয় পিটিআই'র সাফ কথা

ঢাকাঃ  বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের শীর্ষ এক নেতা হিন্দুদের নিরাপত্তায় ভারতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বলে যে খবর বেরিয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রধান সমিতি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাস গুপ্ত ভারতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের এই হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বলে ভারত এবং বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদপত্রে খবর বেরিয়েছে। যদিও মি. দাসগুপ্ত বিবিসির কাছে বলেছেন তিনি পিটিআই সংবাদ সংস্থাকে এ ধরনের কোনো কথা বলেননি। পিটিআই কর্তৃপক্ষ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে, রানা দাসগুপ্তকে সঠিকভাবেই তারা উদ্ধৃত করেছে। এবং মি. দাসগুপ্ত প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারের প্রতিবাদ করেননি।

বিবিসি বাংলার আকবর হোসেন জানান, প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া বা পিটিআইএর প্রতিবেদনে রানা দাসগুপ্তকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের হিন্দুদের সুরক্ষার জন্য মি. দাসগুপ্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকাসহ বাংলাদেশের কয়েকটি খবরের কাগজেও এ খবরটি ছাপা হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত পিটিআইয়ের খবরে, রানা দাসগুপ্তকে যেভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে সেটি তুলে ধরা হলো: ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় কমিউনিটি হিন্দুরা বাংলাদেশে ঝুঁকির মধ্যে আছে। মৌলবাদী এবং জামায়াত শক্তি বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করছে। আমরা মনে করি, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে ভারতের কিছু একটা করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর আমাদের অনেক আশা। বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তার জন্য তার উচিত বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের কাছে তুলে ধরা।’

কিন্তু বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে রানা দাসগুপ্ত বলেন, ভারতের হস্তক্ষেপ চেয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। তাকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করছেন। মি. দাসগুপ্ত বলেন, তিনি বাংলাদেশে ভারতের কোনো হস্তক্ষেপ চাননি। তবে বাংলাদেশের হিন্দুরা যে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছে সে বক্তব্য তিনি উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক বলেই আমাদের কাছে মনে হয়। কিন্তু সে আন্তরিকতা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে কিনা- আমার সন্দেহ হয়। আমাদের যে সংবিধান- এই সংবিধানে বলা আছে, নাগরিকদের সুরক্ষা, নাগরিকদের নিরাপত্তা এটা সংবিধানগতভাবে দায়িত্ব হচ্ছে রাষ্ট্রের, সরকারের। তাহলে, সেখানে অপর কোনো রাষ্ট্রের, অথবা রাষ্ট্রীয় নেতার কোনো ভূমিকা থাকতে পারে বলে আমাদের কাছে মনে হয় না।’

এদিকে, রানা দাসগুপ্ত তাকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে বলে বললেও, পিটিআই বলছে, তাদের কাছে মি. দাসগুপ্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিবাদ পাঠাননি। সংস্থাটির দিল্লি এবং কলকাতা অফিস থেকে বলা হয়, মি. দাসগুপ্ত যেভাবে বলেছেন, তাকে ঠিক সেভাবেই উদ্ধৃত করা হয়েছে। এখানে ভুলভাবে উল্লেখ করার কোনো সুযোগ নেই বলেও তারা উল্লেখ করছেন। মি. দাসগুপ্তের বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন বাংলাদেশে টার্গেট কিলিং নিয়ে সরকারের ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। চলতি বছরে যে ১৯টি টার্গেট কিলিং হয়েছে তাতে অন্তত ৬ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন মন্দিরের ধর্মীয় বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত। ঢাকার কয়েকটি মন্দির ঘুরে সাধারণ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেলো, তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন না হলেও, মন্দিরের যারা পুরোহিত আছেন, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। ঢাকার রমনা কালী মন্দিরের একজন ব্যবস্থাপক স্বপন কুমার বাগচী মনে করেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা বিষয়ে ভারতের উদ্যোগ থাকা দরকার।

বাংলাদেশে সম্প্রতি ঝিনাইদহ এবং পাবনায় পুরোহিত হত্যার ঘটনায়, ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসের কূটনীতিকরা সেই জায়গা পরিদর্শন করেছেন। কয়েকদিন আগেই পটুয়াখালী সফররত ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনের একজন কূটনীতিককে উদ্ধৃত করে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম খবর দিয়েছে যে, বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ভারত সহায়তা করবে। যদিও ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, নিহতদের পরিবারদের সমবেদনা জানাতেই তারা বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছেন।

Related posts