September 25, 2018

রাতে ঘুম না আসার কারণসমুহ

ঘুম

আপনি রাতে ঘুমাতে পারেননি। কিন্তু দিনে কাজে এসে ঘুমিয়ে পড়ছেন। কর্মক্ষেত্রে এসে ঘুম আপনার বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এর আগেও হয়তো আপনি শুনেছেন ঘুম নষ্ট তো আপনার ফিটনেসও নষ্ট! এছাড়া আরও শুনেছেন, রাতে বিছানায় বসে দীর্ঘক্ষণ ল্যাপটপ কিংবা টিভি দেখা, মধ্যরাতে কফির কাপে শেষ চুমুক দেওয়া ইত্যাদি আপনার ঘুমের স্বপ্নকে নির্ঘুমে পরিণত করতে পারে। এর মতো আরও কিছু বিষয় আছে যা আপনার ঘুমকে নষ্ট করার কারণ হতে পারে। তাহলে আসুন আপনার স্বপ্নের ঘুম নষ্ট করতে পারে এমন বিষয় জেনে নিই এবং এর থেকে বিরত থাকি।

অধিক রাতে খাবার খাওয়া :

রাতে কিংবা দুপুরে যাই বলি না কেন নির্ধারিত একটি সময়ে খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। আর আপনি যদি কাজের চাপে কিংবা গড়িমসি করে হলেও অসময় বা অনিয়মিতভাবে আপনার দুপুরের বা রাতের খাবার খান তবে তা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমনকি রাতে এই অভ্যস আপনার রাতের ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটাবে। ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া ভালো।

ঘুমাতে যাওয়ার আগে অধিক প্রিয় বই পড়া :

অনেকে দ্রুত ঘুমানোর পন্থা হিসেবে বই পড়াকে বেছে নেয় ।এটা ভালো দিক । তবে কেউ যদি তার কোনও প্রিয় বই পড়তে শুরু করে যে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘুমানো যাবে না সিদ্ধান্ত নেয় তবে অধিক প্রিয় বই পড়ার অভ্যাস তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

ঘুমানোর আগে ধুমপান করা :

আপনি মনে করতে পারেন ধূমপান করলে আপনার দ্রুত ঘুম আসতে পারে। কিন্তু এ ধারণা ঠিক নয়। কারণ এতে যে নিকোটিন থাকে তা আপনার নার্ভগুলোকে চাঙ্গা করে দেয় । এর ফলে আপনার ঘুম আসতে দেরী হতে পারে।

অধিক রাতেও কম্পিউটার কিংবা টেলিভিশনের পর্দার সামনে থাকা :

ঘুমানোর আগে ল্যাপটপের ব্যবহার ইনসমনিয়া বা অনিদ্রার ঝুঁকি বাড়ায়। ঘুমাতে যাবার কমপক্ষে দুইঘন্টা আগেই ল্যাপটপ বন্ধ করা উচিৎ। ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে যে উজ্জ্বল আলো বের হয়, তা মানুষের মস্তিষ্ক এবং ঘুমের নিয়মে বিভ্রান্তি তৈরি করে। কেবল ল্যাপটপ নয়, বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইসও মনে বিভ্রান্তি তৈরি করে। কারণ এই যন্ত্রগুলো থেকে বের হওয়া উজ্জল আলো, মেলাটোনিন নি:স্বরণে বাধা দেয়, ফলে ঘুম আসে না। মেলাটোনিন ঘুম আসার জন্যে খুবই দরকারী|ফলে ঘুমহীন সময় কাটানোই একসময় ইনসমেনিয়ার রূপ নেয়। তাছাড়া, ঘুমানোর আগে উজ্জল আলোও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়|

ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধোয়া :

রাতে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধোয়াও আপনার দেরিতে ঘুম আসার কারণ হতে পারে। কারণ এতে করে আপনার শরীরের ভেতরের উঞ্চতা বেড়ে যেতে পারে । তাই একটু উঞ্চ পানি দিয়ে আপনি যদি রাতে মুখ ধুতে পারেন। তবে এই অনুভুতি আর জাগ্রত করবে না ফলে ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটাবে না ।

মোবাইল সামগ্রী চার্জে রাখা :

ধরুন আপনি রাতে ঘুমানের আগে টেলিভশন দেখা কিংবা ল্যাপটপ চালানো ছেড়ে দিয়েছেন। এরপর আপনার ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র গুলো চার্জে রেখেছেন। এটাও আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।কারণ এর থেকে যে নীল আলো বিকরিত হয়ে আপনার মুখে কিংবা চোখে এসে পড়লে তা আপনার ঘুম দেরিতে আসার কারণ হতে পারে।

শেষ রাতে লেবু চা খাওয়া :

লেবু চার রয়েছে অনেক গুন। এটা অনেক সময় ঔষধি হিসেবে ও কাজ করে।তবে রাতে খাওয়ার পর ঘুমানের আগে লেবু চা খাওয়া ঠিক নয়। কারণ লেবু চা আপনার মানসিক উদ্দীপককে চাঙ্গা করে দেয় । আর এ বিষয়টি ঘুমের আগে দরকার হয় না। তাই ঘুমে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে এ জন্য এ অভ্যাসকে পরিহার করা ভালো।

শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে :

শীতের জন্য হয়ত একটু উন্নত তোশক কিংবা পুরো ফোমের উপর ঘুমানো ভালো কিন্ত গরমের সময়ও যদিও আপনি এ অভ্যাস চালু রাখেন তবে ঘুমানোর সময় তা আপনার দেহের তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে দিতে পারে । এর ফলেও আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

Related posts