September 25, 2018

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: একটি লাল সবুজের গালিচা

আবু সাঈদ সজল
চোখ যেদিকে যায় সবুজ আর সবুজ। বিভিন্ন প্রজাতির ফল-ফুলের গাছ। গাছে গাছে পাখি গান গায়। এভাবে পাখ-পাখালির কলতানে মুখরিত থাকে সবসময়। রং বেরঙের ফুলের সমারোহ আর সবুজ পত্রপল্লবে ঘেরা মায়াবী একটি ক্যাম্পাস।
ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই দুই পাশে গাছের সারি। পা বাড়ালেই হাতের বামদিকে চোখে পড়বে সাবাস বাংলাদেশ মাঠ তার উত্তর পাশে সিনেট ভবনের পাশেই ভাস্কর্য ‘সাবাস বাংলাদেশ’।
মুখের সম্মুখে প্রশাসন ভবন তবে প্রশাসন ভবনের আগে যেটি কারও চোখ এড়িয়ে যাবার নয় সেটা হলো উনসত্তরের গণ অভ্যুত্থানে ঘাতকের হাতে শহীদ শামসুজ্জোহার সমাধি। বিশ^বিদ্যালয় প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে সুসজ্জিত ও সুশোভিত সমাধির চারিদিকে আছে অসংখ্য ফুল গাছ। ফুলে ফুলে ভরা সমাধিটি দেখতে দিনের চেয়ে রাতে আরও বেশি সুন্দর লাগে।
এবছরই আরও দৃষ্টি নন্দন করার জন্য সংস্কার করা হয়েছে সেটি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে এই স্থানটি জ্জোহা চত্বর নামে পরিচিত । সারা ক্যাম্পাসজুড়ে চোখে পড়বে ১০০ প্রজাতিরও বেশি ফুল।
ক্যাম্পাসের পিছঢালা ছোট ছোট রাস্তায় শোভা পায় বাহারী গাছের সারি। ক্যাম্পাসকে শান্ত সুনিবিড় রাখতে যেন নিজ থেকেই গুরুদায়িত্ব পালন করে চলেছে এই চির সবুজের বৃক্ষগুলো।
শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস সৌন্দর্য সম্পর্কে আবেগ প্রকাশ করে বলেন, এ বছর যখন ক্যাম্পাসে ভর্তি পরিক্ষা দিতে আসি তখনই সোনালী ফুলের সমাহার দেখেই এই ক্যাম্পাসের প্রেমে পড়ে যাই, তারা আরো জানান, ফুলে ফুলে সাজানো স্থান গুলো ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণ ।
ঠিক প্রধান ফটকের মতো ২য় ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই ডানদিকে জুবেরী মাঠ পেরিয়ে একটু সামনে দৃষ্টি রাখলে  দেখা মিলবে আশ্চর্য জনক নামে পরিচিত  ক্যাম্পাসের আড্ডার স্থান পুরাতন ফোকলোর চত্বর । ক্যাম্পাসের আরেকটি আকর্শনীয় স্থান টুকিটাকি  চত্বর যখনই অবসর সময় পায় ঠিক তখনই সেখানে ছুটে আসে তারা । এসময় বন্ধুদের আড্ডার মিলন মেলা তাদের  মুগ্ধ করে । এটাই ক্যাম্পাস চলাকালে জনপ্রিয় আড্ডার স্থান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমপ্লেক্সে এর সামনে রয়েছে নজর কাড়ার মতো ৩০ প্রজাতিরও বেশি ফুল, এর মধ্যে ডালিয়া, গাদা, চায়না গাদা,জারুল ,সূর্যমূখি ,রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গ, নানা প্রজাতির গোলাপ,কাঠ গোলাপ,মধু মালতি, কামিনী, জবা, বেলী ,সোনালু, স্বর্নচাপা, কাগজ ফুল , রজণীগন্ধা ফুলের সমাহার। এছাড়া কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার ও মসজিদের প্রবেশ পথে দুপাশে শোভা পায় হাজারো রঙবেরঙ্গের ফুলের উঁকিঝুঁকি। শিক্ষার্থীরা ক্লাসের ফাঁকে এসব ফুলের সুবাসের টানে ছুটে আসে। চলে টানা আড্ডা, দুষ্টুমি আর খুঁনসুটি ।

ফুলের প্রতি তাদের অনুরাগের কথা প্রকাশ করে ফলিত গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নেহা বলেন, ফুলের সাথে থাকতে থাকতে মন মানসিকতা এমনিতেই ভালো হয়ে যায়, ক্যাম্পাসটি আমাদের আরো বেশি ভালো লাগে। ক্যাম্পাসের সর্বত্র ফুলের কদর থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি আবাসিক হলের অভ্যন্তরেও  ফুলের কদর একদমই কমে যায়নি । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শহীদ হবিবুর রহমান হল, মাদার বখ্শ হল, শহীদ শামসুজ্জোহা হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুনন্নেছা হলের সবজায়গায় মনমাতানো ফুলও চিরসবুজ অরণ্যে পরিপূর্ণ।
এত ফুলও চিরসবুজগাছ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা এসে এই সৌন্দর্য উপভোগ করে। এখানে এসে এই সুন্দর ফুলের বাগানের সুন্দর ফুল ও চির সবুজের বৃক্ষগুলো স্মৃতির ফ্রেমে বেঁধে রাখতে ভুল করেনা কেউ। সব মিলিয়ে ক্যাম্পাস যে নতুন এক রূপ ধারণ করেছে ।

Related posts