November 20, 2018

রাজপথে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান; গলিতে জামায়াত!

রাজপথে যৌথবাহিনী, গলিতে জামায়াত

স্টাফ রিপোর্টারঃ   পুলিশ-বিজিবিসহ যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যেই আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মুক্তির দাবিতে বন্দরনগরীতে মিছিল করেছে জামায়াত ইসলামী। মুজাহিদের জন্য জামায়াত রাজপথে নেমে গেলেও এ বিষয়ে কিছুই জানেনা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। রায়ের বিরুদ্ধে মুজাহিদের রিভিউ শুনানি শেষে সেটা আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ আছে। মুজাহিদের সঙ্গে বিএনপি নেতা ও চট্টগ্রামের সাবেক সাংসদ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডাদেশের রিভিউ শুনানিও অপেক্ষমাণ আছে। তবে সাকা চৌধুরীর জন্য চট্টগ্রামের কোথাও কোন কর্মসূচী পালনের খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) আপিল বিভাগে রিভিউ শুনানি চলাকালে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় মিছিল বের করে জামায়াত। মিছিলের ব্যানারে মুজাহিদসহ আটক জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবি জানানো হয়। সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ ও ছবি পাঠায় জামায়াত ইসলামী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে বাকলিয়া থানার কে বি আমান আলী রোডে এয়ার আলী গলিতে মিছিল বের করে জামায়াত। এতে ‘চিহ্নিত নাশকতাকারী’ এন ইসলামকে দেখা গেছে। ছবিতে তাকে মাস্ক ব্যবহার করে নিজের মুখ লুকাতে দেখা গেছে। নাশকতার মামলায় কোতয়ালি থানায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর সম্প্রতি এন ইসলাম জামিনে বেরিয়ে আসেন। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ১৭ জন। এদের মধ্যে যাদের নাম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ আছে, বাকলিয়া থানার আমীর এজাজ মাহমুদ, থানা সেক্রেটারী বুলবুল ইসলাম, ইলিয়াছ হায়দার, রাসেল উদ্দিন, সেলিম মোহাম্মদ, খায়রুল ইসলাম, এন ইসলাম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু বাকলিয়ায় নয়, নগরীর পাঁচলাইশ, হালিশহর, ইপিজেড, পতেঙ্গা থানা এলাকায়ও গলির ভেতরে জামায়াত ইসলামী মঙ্গলবার সকালে মিছিল করেছে।

তবে এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোন তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন সিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, জামায়াত মুজাহিদের মুক্তির দাবিতে মিছিল করেছে কিনা আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে আমরা কোন তথ্য পাইনি। তবে বিষয়টি যেহেতু শুনেছি, আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।

বাকলিয়ায় মিছিলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, গলির ভেতরে হুট করে মিছিল বের করে ফটোসেশন করে চলে যাচ্ছে। এটা জামায়াতের পুরনো কৌশল। আমরা রাস্তায় সক্রিয় আছি। রাস্তায় যেতে না পেরে জামায়াত গলিতে ঝটিকা মিছিল করছে।

জামায়াতের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার বানচালে ঝটিকা মিছিল বের করে নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে এবং প্রকাশ্য রাস্তায় যানবাহন ভাংচুরের অভিযোগ আছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জামায়াত ও তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা দেশজুড়ে এ ধরনের অসংখ্য তান্ডবের জন্ম দিয়েছে বলে গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় খবর পরিবেশিত হয়েছে।

এ অবস্থায় পুলিশকে অন্ধকারে রেখে আবারও নগরজুড়ে জামায়াতের ঝটিকা মিছিলে বড় ধরনের নাশকতার আশংকা দেখছেন সিএমপি’র কর্মকর্তারা।

অতীতে জামায়াত-শিবিরের নাশকতা মোকাবেলায় ভূমিকা রাখা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’জন পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা বলেন, আগে জামায়াত ঝটিকা মিছিল বের করলেও তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কাছে খবর চলে আসত। পুলিশ ঝটিকা মিছিল এবং তান্ডব যথাসাধ্য মোকাবেলা করত। কিন্তু এখন দিনের বেলায় জামায়াত মিছিল করলেও পুলিশ, গোয়েন্দা ইউনিট, বিশেষ শাখা কেউই জানতে পারছেনা। এখন মুজাহিদের রিভিউ আদেশের পর যদি জামায়াত-শিবির আবারও নগরীতে পুরনো কায়দায় তান্ডব শুরু করে, তাহলে ঠেকাবে কারা ?

রিভিউ শুনানিকে কেন্দ্র করে নগরীর প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে চলছে তল্লাশি। প্রত্যেক থানা থেকে এক ঘণ্টা পর পর অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।

এছাড়া পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি’র সমন্বয়ে যৌথবাহিনী গড়ে নগরজুড়ে তল্লাশি ও সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও নাশকতা মোকাবেলায় এ অভিযান বলে জানিয়ে আসছে সিএমপি।

তবে যৌথবাহিনীর এসব কর্মকান্ড নিয়ে সমালোচনাও আছে। দৃশ্যমান কোন সাফল্যও এ পর্যন্ত যৌথবাহিনী দেখাতে পারেনি বলেও সমালোচনা আছে। এর মধ্যেই মুজাহিদের জন্য জামায়াতের রাস্তায় নেমে যাওয়া সেই সমালোচনাকে ভিত্তি দিয়েছে বলে মনে করছেন খোদ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts