September 24, 2018

রাজনীতির কারণেই কি ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজের মৃত্যু?

গ্লোবাল নিউজ রিপোর্টঃ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ায় প্রাণ হারিয়েছে বলে মনে করেন তার মা জাহিদা আমিন চৌধুরী।

রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দিয়াজের দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত চলার সময় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

জাহিদা আমিন চৌধুরী বলেন, দিয়াজের স্বপ্ন ছিল ব্যাংকে চাকরি করবে। আমার কাছে দোয়া চাইতো। সবসময় বলতো, রাজনীতি করে মানুষের কল্যাণ করবে। ছাত্ররাজনীতির শুরু থেকেই সে মানুষের সেবা করেছে। সেই রাজনীতির কারণেই আমার ছেলে মারা গেল।

ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন, দিয়াজের মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। দিয়াজের মরদেহের পুনঃময়নাতদন্ত শেষে এ কথা জানান তিনি।

অবশ্য, দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মৃত্যুর পর থেকেই তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা দাবি করে আসছে যে, দিয়াজ আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাহিদা আমিন চৌধুরী বলেন, চিকিৎসক বলেছেন, দিয়াজের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আমরা শুরু থেকেই ধারণা করছিলাম, দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ তা শুনতে নারাজ। এমনকি চট্টগ্রামে প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু আমার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। দিয়াজ প্রতিটা কাজ খুবই আত্মবিশ্বাসের সাথে করত। কোনো সমস্যা হলে আমিসহ পারিবারের অন্য সদস্যদের সাথে শেয়ার করত।

নিজের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তহীনতার শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দিয়াজ হত্যায় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তারা যেকোনো সময় আমার পরিবারের ক্ষতি করতে পারে। আমরা নিরাপত্তহীনতায় ভুগছি। পুলিশও এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

গত ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দুই দিন পর ২৩ নভেম্বর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যা উল্লেখ করা হলে দিয়াজের পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে। ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সহকারী প্রক্টর ও ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ১০ জনকে আসামি করে আদালতে হত্যা মামলা করে তার পরিবার।

গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিবলু কুমার দে পুনঃময়নাতদন্তের জন্য দিয়াজের মরদেহ তোলার আদেশ দেন। একই সঙ্গে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করে ময়নাতদন্ত করতে ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধানকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের কবরস্থান থেকে তার মরদেহ তোলা হয়।

প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ওই দিন সকাল ৯টার দিকে মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় সিআইডি। রোববার দুপুর সোয়া ২টার দিকে দিয়াজের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসা হয়।

Related posts