September 26, 2018

রাজনীতিতে মুসলমান বিদ্বেষ ও মার্কিণ প্রেক্ষাপট

আবু জাফর মাহমুদ

রাজনীতিতে মুসলমান বিদ্বেষের যুগ চলছে। সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক ইউনিয়নের পতনের আগে দেখেছিলাম কম্যুনিজম-বিদ্বেষ।এখন এসেছে মুসলমান বিদ্বেষ।বিদ্বেষ ব্যবহার করে রাজনৈতিক বা সামরিক স্বার্থ উদ্ধার করার কৌশলের  এই ধারা বিশ্বরাজনীতিতে আছে,আছে আঞ্চলিক এবং জাতীয় রাজনীতিতে।অবশ্য ইতিপূর্বে ভারত-বর্ষে হিন্দু-মুসলমানদের ভেতর বিদ্বেষ ছড়িয়ে দুইশত বছর জুলুম লুন্ঠন করেছে সাম্রাজ্যবাদী বৃটিশ শাসক।সেই বিদ্বেষের ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষ এখনো হচ্ছে ক্ষত বিক্ষত।এখন প্রতিপক্ষ রাশিয়া এবং আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ কোন মিত্র প্রতিশোধ নিতে আমেরিকাকে টার্গেট করেনি তো?

এই প্রশ্ন এখন বিশ্লেষকদের মধ্যে। বিদ্বেষের বিষাক্ততায় বিভক্তি ছড়ানো হচ্ছে আমেরিকায়।মানুষের বা নাগরিকের মনের ভেতরে জাগিয়ে দেয়া এই বিভক্তি তে রাষ্ট্রের ইউনিয়ন বা ফেডারেশন ভেতর থেকে দূর্বল হয়। ভাঙার খাদের পাড়ে পৌঁছে।আমেরিকা একক সুপার  পাওয়ার। তাকে বিশ্বনেতৃত্বে থাকতে হবে।সেজন্যে নাগরিক ঐক্য যেনো অটূট থাকে।নেতৃত্বের ঐক্যও অটুট থাকতে হবে।যেনো ভারত-বর্ষ,সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং চেকোশ্লোভাকিয়ার মতো হতে না হয়।আমেরিকায় ধর্ম বা বর্ণের নামে বিদ্বেষ-বিভক্তি  বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনীতির সুফল নেবে এদেশের শত্রুরা।এতে ক্ষতিটাই শুধু থাকবে আমেরিকার জন্যে।

রাজনীতিতে মার্কিণ সমাজকে মুসলমান-বিদ্বেষী করায় পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে ধন-দৌলত এবং অস্ত্র ভান্ডারের বৃহৎ   মালিকদের পক্ষ থেকে।এসব পুঁজিপতিরা ধন সম্পদ বোঝে,দেশপ্রেম বোঝেনা।আমেরিকায় বুশকে দিয়ে করানো হয়েছিলো ৯/১১।ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ওয়ার ড্রামা।রিপাবলিকান ধারায় আবারো কি আসছে নতুন আরেক ওয়ার ড্রামা?ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়ে কি ওয়ার ড্রাম বাজানো হচ্ছে?তাকে দিয়ে বিষাক্ত আবর্জনা ছড়িয়ে দিয়ে কি উচ্ছিষ্টের মতো ছুঁড়ে ফেলা হবে অবশেষে? তার ইমেজতো নেতার ইমেজ নয়।মনে হচ্ছে খেলার পুতুল তিনি।আমেরিকাকে চাপের মুখে নতি স্বীকার করানোর জন্যে বন্ধুদের কেহ খেলিয়ে চলেছে তাকে।এই খেলাকে নিউড সার্কাস বলা যায়।এই খেলা হোয়াইট হাউসে গিয়ে বিশ্বনেতৃত্ব দেয়ার কোন আভাস নয়।

মুসলমানরা চুপচাপ নিজের ধর্ম পালন করছে।কিছু ব্যতিক্রম অবশ্য আছে।তবে প্রকৃত মুসলমানরা দুনিয়ার সম্পদের  চেয়ে আখেরাতের জন্যে এবাদত বন্দেগীতেই  প্রকৃত মনোযোগ রেখেছেন।তবুও মুসলমান নামে ভয়ে অস্থির হয়ে উঠছে সম্পদ-পাগল যুদ্ধংদেহীরা।লুটেরাদের মনে সব সময়েই থাকে ভয়।তারা বাতাস দেখেও মনে করে শত্রু আসে।ভয় তারা স্রষ্টাকে  পায়না।ভয় পায় স্রষ্টার ভালবাসার মানুষদের।আমেরিকায় এরকম ভিতু সম্পদশালীদের এক ক্ষেপা প্রতিনিধিরূপে হোয়াইট হাউসে যাবার জন্যে জনমত গড়ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।তার রাজনৈতিক প্রচারে দুনিয়াজুড়ে মার্কিণ নেতৃত্ব দীর্ঘস্থায়ী করার কোন কর্মসূচী নেই।দেশের উন্নয়নেও নতুন কোন আভাস নেই।আছে বিদ্বেষ-হিংসার আগুণ ছড়ানো।যা আমেরিকান জনগণকে বিভক্ত করছে,দূর্বল করছে প্রতিদিন।

রিপাবলিকান পার্টি থেকে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ডোনাল্ড ট্র্যাম্প অতি ডানপন্থী রাজনৈতিক ধারার নেতারুপে নিজেকে আবির্ভূত করেছেন বলে পর্যবেক্ষকদের অনেকে বলছেন।গত এক দশক ধরে মার্কিণ  ফেডারেল সংসদের উভয়কক্ষ অর্থাৎ সেনেট এবং কংগ্রেস রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেণ্টের পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন হয়নি সেনেট কংগ্রেসে।আইন প্রণেতারা রয়েছেন কট্টর দক্ষিণপন্থী উগ্রবাদী রাজনীতিক।দেশের ষ্টেট বা অঙ্গরাজ্য পর্যায়েও তারাই করছে আধিপত্য।এভাবেই প্রশাসন এবং বিচার বিভাগ উদারপন্থীদের ত্যাগ করে গ্রহন করেছে রক্ষণশীলদেরকে। আমেরিকার নির্বাচনী ফলাফল এমন ধারণাটাই দিয়ে আসছে।ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনীতিকে রাজনৈতিক জুয়ার আসরে টেনে নিয়ে চলেছেন।

“সন্ত্রাসবাদের সাথে আমেরিকার চলতিযুদ্ধ মিটে না যাওয়া পর্যন্ত এদেশে কোনো মুসলমানকে ঢুকতে হবেনা”  বলে এক কঠিন নীতির কথা জানিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন জুয়া এবং যৌন ব্যবসা বিষয়ে বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থান পাওয়া ধনাঢ্য এই মার্কিণ ব্যবসায়ী।তিনি বলেছেন,“মুসলমান মাত্রই সন্ত্রাসী-তাই আমেরিকার সব মুসলমানদের তালিকাভুক্ত করতে হবে।মসজিদগুলো সন্ত্রাসীদের আখড়া,তাই তাদের উপর নজরদারী বাড়াতে হবে”।

রিপাবলিকানরা চরম রক্ষণশীল-বর্ণ বিদ্বেষী এবং ধর্মীয় হিংসা প্রতিহিংসাকে রাজনৈতিক ও সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারে বিশ্বাসী।সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার মূল ক্রীড়নক হচ্ছে এই দল।এটা কোন অভিযোগ নয়।এই নীতিতে তারা বরঞ্চ গর্বিত।তবে তাদের নীতি ইদানিং বিশ্বের অনেক ক্ষেত্রে মার খেয়ে পিছু হটছে।লাল গোলাপী বর্ণের এই আমেরিকানদের সংখ্যা অনেক বেশী নয়।তবে এরাই রিপাবলিকান দলের মূল শক্তি।ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর উস্কানীর বক্তৃতায় ব্যাপক আমেরিকান ও বিশ্ববাসী ভিন্ন মত পোষণ করলেও রাজনৈতিক ব্যবসায় তিনি ঠিকই প্রতিদিন তার সমর্থকদের হৃদয় ছুঁয়ে চলেছেন।

টপলেশ যুবতীর অঙ্গ ভাঁজের খেলায় আনন্দ নৃত্য তুলে যৌনতার উষ্ণতায় মানুষকে আত্নহারা করার শিল্প এবং রাজনীতি পরিচালনার ব্যবসার উভয় ক্ষেত্রে সমন্বয় করে এক চমকপ্রদ দৃষ্টান্ত গড়ে চলেছেন তিনি। উপরের পোষাক খুলে দিলে এটাই সেই মার্কিনীদের আসল চেহারা।তিনি নিজেই নিউড লাইফ পছন্দ করেন। ওটাতেই তার পারদর্শীতা।রাজনীতিকেও তিনি এখন নিউড করছেন।বিশ্লেষকরা বলছেন,লোকরা যতই চার্চের দোহাই দিয়ে আমেরিকার নীতিগত বিষয়ে রাজনীতি করুক,মার্কিণ রিপাবলিকান রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভোটার জনগণের মনমানসিকতার প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছেন ডোনাল্ড।

মার্কিণ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুসলমান-বিদ্বেষে তেল-গ্যাস ঢেলে স্বয়ং হোয়াইট  হাউস যাত্রী  ডোনাল্ড   যেভাবে দাপটে  পা ফেলছেন তাতে আমেরিকাব্যাপী সম্ভাব্য আভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী সংঘাতের দায় তুলে নিয়েছেন।তিনি মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ উস্কানোর দায়িত্ব নিলেন,আগামীতে তার নাম উচ্চারিত হবেই।এতে অনেকের ঘুম ভাঙ্গার কথা,  রাজনীতির নতুন হিসেবের পাতা উল্টানোর কথা।তার বিপরীতের রাজনীতিকরা তো বটেই,এই বিদ্বেষমূলক বক্তব্যে ক্ষতিগ্রস্থরাও নতুন করে ভাবনা শুরু করেছেন বলে মনে হয়।তারা খুঁজছে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী।

রাজনীতি সচেতনতা ও অতি রাজনীতির জন্যে পরিচিতি পাওয়া দেশের নাম বাংলাদেশ।তার প্রধানমন্ত্রীও    মার্কিণ রাজনীতির বর্তমান ঢেউয়ের দোলায় দুলে উঠেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর আসছে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ডোনাল্ডের জনপ্রিয়তার অগ্রযাত্রায় তার প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাট দলীয় অন্যতম প্রার্থী হিলারী ক্লিন্টনের সম্ভাব্য বিজয়ে বাংলাদেশের ক্ষতির আশংকার কথা বলেছেন।তিনি লাভের ভরসা করছেন  আমেরিকায় মুসলমান বিদ্বেষী প্রেসিডেণ্ট পদপ্রার্থীর বিজয়ে।

বলেছেন হিলারী প্রেসিডেণ্ট নির্বাচিত হলে তার বন্ধু নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুস সহজে  বাংলাদেশের ক্ষতি করতে পারবেন।এটা ঠিক ইউনুচ-ভীতি নাকি হিলারী ভীতি,তা বাংলাদেশীরা তাড়াতাড়ি মুখের উপর বলে ফেলছেন পত্রিকার খবর পড়া অথবা টিভিতে সংবাদ দেখা শোনার সাথে সাথেই।বাংলাদেশীরা বেশী দেরী করেনা রাজনৈতিক মন্তব্য করতে।তারা সরকার প্রধানের এই উদ্বেগকে দেশের জন্যে মনে করছেননা,বরঞ্চ এই ভীতিকে তার নিজের ক্ষমতা হারানো সংক্রান্ত ব্যক্তিগত উদ্বেগ মনে করছে অনেকে।অধিকন্তু মুসলমানদের আন্তর্জাতিক বিদ্বেষী বলয়ের সমর্থণ ও সহানুভূতি সংগ্রহের রাজনৈতিক কৌশল বলে ধরে নিয়েছেন কিছু বিশ্লেষক।

তবে বাংলাদেশে মুসলমান নিধন অথবা মুসলমান-প্রভাব নির্মূলে বর্তমান সরকার নিজে বা সরকারের প্রধান বন্ধু ভারত-সরকারের নীতির সাথে ডোলান্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী বক্তৃতার মিল পুরোটাই খুঁজছেন অনেকে।  এমনকি বার্মার রাজনীতিবিদ বা সামরিক বাহিনীর নীতিতেও রয়েছে ট্রাম্পের রাজনৈতিক নীতির ছাপ। এক্ষেত্রে শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক পলিসিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন ঘোষণা করে তার নিজস্ব বলয়ে তিনি আরো আস্থার সৃষ্টি করেছেন বলা যায়।ভারত-বাংলাদেশ-বার্মা অঞ্চলটি হয়ে যাচ্ছে মুসলমান-বিদ্বেষী অঞ্চল।

বাংলাদেশ সরকারের নেতার এই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের লাইনের সাথে বাংলাদেশে ইদানিং রাজনৈতিক বাস্তবতায় মিলামিলের প্রতিফলন পাওয়া যায়।বাংলাদেশে মুসলমান সংখ্যাগুরু থাকলেও বিচার বিভাগ,নির্বাহী বিভাগ, পুলিশ,গোয়েন্দা,সামরিক আধা-সামরিক সর্বত্রই হিন্দু-নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুনামী চলছে।এই নীতি হচ্ছে বার্মার মডেলে মুসলমান নিধন না করে বিকল্প ধারায় বারে বারে নিধন এবং দেশ ত্যাগে মুসলমান জনগোষ্ঠীকে বাধ্য করা।অপরদিকে ভারতীয় হিন্দুদেরকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে পর্যায়ক্রমে হিন্দুস্থানে রূপান্তর করা বা হিন্দু শাসিত বাংলাদেশ বানানো।

মার্কিন নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনার এই মনোযোগ এবং মন্তব্যকে অন্যদেশের রাজনীতিতে নাক গলানো বলে মন্তব্য শোনা যায়। ডোনাল্ডের এই কট্টরপন্থী মুসলমান বিরোধিতাকে “মার্কিণ মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং শাসন তন্ত্রের স্বীকৃত অধিকারের লংঘন” বলে প্রেসিডেণ্ট ওবামা সহ সাবেক প্রেসিডেণ্ট বুশের পরিবার থেকে সমালোচনা করা হলেও জবাবে ডোনাল্ড বলেছেন,১৯৪২ সনে পার্ল হারবারে জাপানি আক্রমণের পর আমেরিকায় বসবাসকারী সব জাপানিকে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে বন্দী করা হয়েছিলো।তাতে কেউ তো   রুজভেল্টকে হিটলার বলে গালি দেয়নি?কেউ তার বিরোধীতাও করেনি।যুদ্ধের সময় এমন করা যায় বলেই  তিনি তা করেছিলেন।এখনও যুদ্ধের সময়।মনে রাখতে হবে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের ভেতর দিয়ে চলেছি আমরা।

আসল কথা হচ্ছে,রিপাবলকান বুশ পরিবারও একই নীতির রাজনীতিক।তারা যে শক্ত করে ডোনাল্ডের  বিরোধীতা করতে পারছেনা,তা ডোনাল্ডের অজানা নয়।আমেরিকানদেরও অজানা নয়।৯/১১গড়ে প্রেসিডেন্ট বুশ জুনিয়র আমেরিকা এবং তার বাহিরে মুসলমান নির্মূল এবং তাদের দেশ ও সম্পদ দখলের যে দায় নিয়েছেন,তা থেকে তিনি কি নিজেকে মুক্ত করেছেন?রিপাবলিকান পার্টিই বা কি নিজেকে দায় মুক্ত করেছে?যাদেরকে গোপনে মেরে ফেলে তাদের ব্যাংক তহবিল এবং সম্পদ দখল করে নেয়া হয়েছে,তা কি ফেরত দেয়া হয়েছে?ইরাক আক্রমণ ও সাদ্দামকে হত্যা করার ভূল স্বীকার করা হলেও ইরাকের ক্ষতি কি পূরণ করা হবে কখনো?

আমেরিকার ক্ষমতাধর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সবার তদন্তেই এসেছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসের অভিযানে একজন মুসলমানও যুক্ত ছিলেন না।মুসলমানদের বিষয়ে সবই বানানো গল্প ছিলো।আমেরিকার প্রকৌশলীদের সমিতি ৯/১১ট্রুথ নামে ভিডিও দেখিয়ে প্রমান করেছে এই ডেমোলিশনের কাজটি আমেরিকান সরকারের কাজ।তারা দেখিয়েছে কিভাবে ক্যামিক্যাল প্রয়োগ করে আশেপাশে ক্ষতি না করে পুরনো দালান ডেমোলিশ করা হয়েছে।বাহিরের কেউ এই ধরনের কোন নাশকতা সেদিন করেনি।

বুশ প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল পার্কে তাদের গুরুত্বপূর্ণ এমন সভায় দিনভর আমার নিজেরও উপস্থিত থেকে বক্তৃতা করার সুযোগ হয়েছিলো।এতে জিউস,খৃষ্ঠান ছিলেন প্রায়ই সবাই।আমরা ৪জন ছিলাম মুসলমান।ওয়াশিংটন ডিসির পুলিশের অনুমতি নিয়েই করা হয়েছিলো এই সমাবেশ।এই সবার ছবি দুনিয়ার শতাধিক দেশে একই দিন ছাপানো হয়েছিলো।

একই সময় দুদিন ব্যাপী প্যান্টাগনে একটি পাঁচতারা হোটেলে সেমিনারে আমার অংশ নেয়া এবং বক্তৃতা করার সুযোগ তারা দিয়েছিলেন।উদ্যোক্তারা মুসলমান ছিলেননা,একজন এশিয়ান আমেরিকান অবসরপ্রাপ্ত মিলিটারী অফিসার ছিলেন তাদের সহযোগী।

রিপাবলিকান রাজনীতির বর্তমান ধাপে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়ে যে বক্তব্য ও উত্তেজনা পাকাপোক্ত করা হচ্ছে তা নিতান্তই ঠাট্টা নয়,হালকা বিষয় নয়।এসবের মধ্যে রয়েছে আগ্রাসী ধারার নতুন ধাপ।এই ধাপ সম্পর্কে আরো জানার আগ্রহ বাড়াতে হবে দক্ষিণ এশিয় আমেরিকানদের,আফ্রিকান-আমেরিকান,হিস্পেনিক-আমেরিকান দের।আরব-আমেরিকানদের।সকল কালো এবং বাদামীদের।আমেরিকার সকল সংখ্যালঘুদের।

তবে যে কথা মনে রাখা দরকার,নিরবতা বা চুপচাপ থাকা কখনো নিরাপত্তা দেয়না।এতে শত্রুরা একচেটিয়া সুযোগ নেয়।নীরিহদেরকে ধ্বংস করে।নিরাপত্তার জন্যে সজাগ হতে হয়।সাহসী হতে হয়।নিজেদেরকে নিরাপদ রাখার জন্যে যথার্থ শক্তিশালী একতা গড়তে হয়।আক্রমণকারীদের মুখোমুখী হবার মনোবল রাখতে হয়।মিথ্যা বা ষড়যন্ত্র দেখতে যত বিশালই দেখাক,তা সব সময়েই দূর্বল।আমেরিকা আমাদের সবার।দুনিয়াও আমাদের সকলের।

(লেখক আবু জাফর মাহমুদ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক)
দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts