November 20, 2018

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে এ যেন অলিখিত নিয়ম

hএ কে আজাদ, চাঁদপুর : রাত পোহালেই পবিত্র মাহে রমজান শুরু। এরই মধ্যে অনেকেই নিত্যপণ্যের বাজার সেরে ফেলেছেন। তবে প্রতিদিনেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দেয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকলেও এখানে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। কোনো উপলক্ষ পেলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে এ যেন অলিখিত নিয়ম হয়ে গেছে। রমজানকে সামনে রেখে প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ধাপে ধাপে বেড়ে গেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে মাছ, মাংস, মুরগীসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে দ্বিগুন। এছাড়া ইফতার সামাগ্রীর দামও বেড়েছে প্রকার ভেদে। রমজান উপলক্ষ্যে সরকারিভাবে গরু ও খাসির মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেয়া হলেও ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাত তুলে দাম আরও বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম বেড়েছে অনেকগুণ বেশী।

i

গত ৭দিন আগে প্রতি কেজি কক মুরগি বিক্রি হয়েছিল ২শ’ ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩শ’ ২০টাকা কেজিতে। বয়লার মুড়গী গত সপ্তাহ বিক্রি হয়েছে ১শ’ ৪০টাকা কেজি দরে, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১শ’ ৬০ টাকা কেজি দরে। লেয়ার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২শ’ ৫০ টাকায়। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ টাকা কেজি দরে যা গত সপ্তাহে ছিল ৪শ’ ৭০থেকে ৮০ টাকায়। মহিসের মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪শ’ ৫০ টাকা কেজিতে। খাশির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭শ’ ৫০টাকা কেজি, বরকীর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ ৫০ টাকায়। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এখানেও প্রতি কেজিতে ৪০ থেকে ৫০টাকা বৃদ্ধি করে বিক্রি করা হচ্ছে। রমজানকে সামনে রেখে বৃদ্ধি পেয়েছে সব ধরনের মাছের দামও। এককেজি ওজনের ইলিশ গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৫শ’ থেকে ১৬টাকায় সেই ইলিশ গতকাল বিক্রি হয়েছে ২৫শ’ টাকা কেজি দরে। ৭শ’ থেকে ৮শ’ গ্রামে ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা কেজি দরে। যা এক সপ্তাহ পূর্বে বিক্রি হয়েছে ১হাজার থেকে ১২শ’ টাকা কেজীতে। ৫শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা কেজিতে যা কয়েক দিন আগেও বিক্রি করেছে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা কেজি দরে। দেশীয় মাছ, চাষের মাঝ ও স্বাাগরের মাছের দামও অনেক চওড়া। পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে, প্রতি কেজি চোলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বুটের ডাল ৮০ টাকা, মটর ডাল ৩৫টাকা, খেশারী ডাল ৫০ টাকা, ভেসন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, খেজুর প্রকার ভেদে ৫শ’, ৪শ’, ২শ’ ও ১শ’ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিনি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫৫টাকা, পেঁয়াজ (ভারতীয়) কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা, দেশীয় ৪০ থেকে ৪২ টাকা। আদা ১শ’ থেকে ১শ’ ২০ টাকা, রশুন ৬০ টাকা থেকে ১শ’ টাকা, তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। রমজানকে সামনে রেখে অসম্ভবভাবে বেড়েছে বিভিন্ন প্রকার সবজির দাম। এদিকে শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বরবটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ টাকায় যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা, করলা ৮০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৫০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা, কচুর লতি ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, চিচিঙ্গা কেজি ৬০ টাকা , যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০টাকা। কাকরোল ৮০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, কালো বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। গাজর ৭০ টাকা, শশা ৭০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা। টমেটো ৬০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, আলু ২০ টাকা, কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজী দরে। দন্দুল ৬০ টাকা, কুমুড় ২৫ টাকা, পটল ৬০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ টাকা। লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত, ধনিয়াপাতা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১শ’ থেতে ১শ’ ৫০ টাকা কেজী দরে।

Related posts