November 14, 2018

রন মাহিনুরের ‘উদ্যোক্তাগিরি’

Ron-mahimur
বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি বেকার সমস্যা এবং এর মধ্যে ৪৭% শিক্ষিত বেকার। আর এই বেকারমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে ‘উদ্যোক্তাগিরি’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করছেন তরুণ উদ্যোক্তা রন মাহিনুর।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে উদ্যোক্তাগিরি গ্রুপের ও পেইজের মাধ্যমে চলছে এই প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম। খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন মাহিনুর। শুরু করে দিয়েছেন কার্যক্রম। এর মধ্যে আগামি ২৩ জানুয়ারি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিতব্য উদ্যোক্তা মিট-আপেও অংশগ্রহণ করছে এই উদ্যোক্তাগিরি।

আজ সোমবার বিকেলে উদ্যোক্তাগিরি নিয়ে প্রিয়.কমের সাথে আলাপকালে মাহিনুর বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের অন্যতম সমস্যার একটি হচ্ছে শিক্ষিত বেকার থাকা। বিশেষ করে আমাদের দেশে, যারা দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন, তাদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আর যারা অনার্স-মাস্টার্স পাস করেছেন, তাদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এই বেকারত্ব কমাতে উচ্চশিক্ষার সাথে সাথে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট করা দরকার। আর তাই প্রযুক্তিগত ও লিডারশিপ ট্রেনিং এর মাধ্যমে দক্ষ মানব-সম্পদ তৈরি, নিজেদের কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টসহ নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে বিভিন্নভাবে সহায়তা করার জন্যই ‘উদ্যোক্তাগিরি’ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’

উদ্যোক্তাগিরির কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাজার ও পণ্য নিয়ে নানারকম বিশ্লেষণ এবং গবেষণা ফলাফলসহ একজন উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হতে কী করতে হবে সেইসব সহযোগিতা করতে কাজ করে যাচ্ছে আমাদের উদ্যোক্তাগিরি। আমরা শুধুমাত্র বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করছি। যারা দেশিয় পণ্য বা সেবা নিয়ে কাজ করছে আমরা তাদেরকে প্রমোট করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘কেউ যদি ‘উদ্যোক্তাগিরি’র সাথে সংযুক্ত হতে চান তাহলে আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণের মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা তার প্রোফাইল জমা দিতে পারবেন। এরপর আমরাই তার সাথে যোগাযোগ করে উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প তুলে এনে আমাদের প্ল্যাটফর্মে তাকে প্রমোট করবো। ইতিমধ্যেই ৩০০জনের মতো তালিকাভুক্ত উদ্যোক্তা আমাদের সাথে কাজ করছেন।’

১৯৯২ সালের ১৫ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ৭নং হাজিপুর ইউনিয়নের ভেবড়া গ্রামের দাদাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছেন রন মাহিনুর। দাদা ছিলেন একজন ধার্মিক ব্যক্তি এবং কৃষক। সরকারি চাকরিজীবী বাবা মোঃ মোস্তফা আলম এবং গৃহিণী মা মোছাঃ রীনা আক্তারের দুই সন্তানের ছোট মাহিনুর। বড়বোন মোছাঃ মুশফিকা আলম একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে তরুণ এই উদ্যোক্তা রন মাহিনুর নামে পরিচিত হলেও তার আসল নাম মোঃ মাহিনুর আলম। পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা রনি নামেই বেশি ডাকেন। ২০০৭ সালে পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৯ সালে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে পাস এইচএসসি করেন তিনি। তারপর ২০১০ সালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এর ১ম ব্যাচে ভর্তি হয়ে বিএসসি ইন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ালেখা করেন। ছাত্রাবস্থাতেই উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবল ইচ্ছা থেকেই হয়ে ওঠেন একজন তরুণ উদ্যোক্তা।

২০১২ সালের পহেলা মার্চ প্রথম উদ্যোগ হিসেবে সুপার সফট আইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠান তৈরির মাধ্যমে কর্মজীবনে পথ চলা শুরু হয় মাহিনুরের। তবে সেই যাত্রা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এরপর আরো কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সফলতার সাথে সেখানে ব্যর্থতাও থাকে। উদ্যোগগুলোর মধ্যে হোষ্টিং প্রতিষ্ঠান হোষ্টবক্স, স্পোর্টিফাই, টিমবক্সারসহ প্রায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন তিনি। এরপর ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় উদোক্তাগিরির সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম।

জীবনের অপ্রাপ্তি নিয়ে মাহিনুর বলেন, ‘আমার কাছে জীবনের মানে অন্যরকম! অন্যরকম বলতে, আমি কখনোই মনে করি না যে জীবনের অপ্রাপ্তি বলে কোনো কিছু আছে। কেন? কারণ আমি হতাশাগ্রস্থদের দলে নই, আমি অনেক বেশি ইতিবাচক মানসিকতার অধিকারী একজন। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, আপনি যা চান তা পাওয়ার উপযুক্ত বা যোগ্য হলে অবশ্যই আপনি আপনার প্রাপ্য পাবেন। যদি আপনি যথেষ্ট পরিমাণ চেষ্টা করেন তাহলে এবং আপনি যদি ভালো কোনো কাজ করেন তাহলে আপনার সাথেও ভবিষ্যৎ এ ভালো কিছুই হবে আবার খারাপ করলে খারাপ হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি “আর্ট অব লিভিং” নামে একটি বই পড়েছিলাম, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আর্ট বা বিষয় জানতে পারি। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩ টি আর্ট নিয়ে আমি একটি ফর্মুলা তৈরি করি যেটাকে আবার “থ্রি এল’স অব আর্ট অব লিভিং” বলে সম্বোধন করি। একটা হচ্ছে, অতীতকে ত্যাগ করা, দ্বিতীয়টা বর্তমানে বাস করা এবং তৃতীয়টা ভবিষ্যৎ কে আলোকিত করা। আমি এই “থ্রি এল’স অব আর্ট অব লিভিং” থিওরির অনুসারী। চাইলে যে কেউ এই থিওরি অনুসরণ করতে পারেন এতে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলের সাথে জীবনও বদলে যাবে।

মাহিনুরের প্রিয়’ শিক্ষক হচ্ছেন ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সাবেক প্রধান শিক্ষক মরহুম মোঃ আবু তালেব। প্রিয় স্থানের তালিকায় সুন্দরবন, বান্দরবান, কক্সবাজার, সেন্ট-মার্টিন দ্বীপ।

অনেকটা ডানপিটে স্বভাবের মাহিনুর আগে অনেকটা অন্তর্মুখী টাইপের ছিলেন। একটা সময় ভাবতেন পড়ালেখা শেষ করে একটা ভালো চাকরি নিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন। কিন্তু বাংলাদেশের বেকার সমস্যা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য কিছু করার উদ্দেশ্যে নিজেই হয়ে গেলেন উদ্যোক্তা।

ইতিবাচক মনোভাব, জনসম্মুখে কথা বলতে পারা, যে কোনো কিছুকে ধারণ করে নিতে পারা মাহিনুরের বিশেষ যোগ্যতা। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ছোটবেলায় প্রাইমারি স্কুলের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম যা আমাকে মোটিভেশনাল স্পিকার হওয়ার অনুপ্রেরণা যোগায়।
উৎসঃ প্রিয়.কম

Related posts