November 19, 2018

রক্ত শূন্যতায় অকালে ঝরে যেতে পারে জময দু’শিশুর তাজা প্রাণ

111111এ কে আজাদ,চাঁদপুর প্রতিনিধি : রক্ত শূন্যতায় যে কোনো সময় অকালে ঝরে যেতে পারে জময দুটি শিশুর তাজা প্রাণ। তারা একই মা- বাবার ঘরের জময দু’টি সন্তান। শরিরে রক্ত প্রবেশ করাতে পারলেই বাঁচবে তাদের জীবন, অন্যথায় যে কোনো সময় সুন্দর এই পৃথিবীর আলো ছেড়ে চলে যেতে পারে না-ফেরার দেশে।
দাতব্যদের রক্ত সহায়তার ওপর সৃষ্টিকর্তা রেখেছেন তাদের দু’ভাইয়ের জীবন। চিকিৎসকদের ভাষায় এটিকে থেলাসেমিয়া রোগ বলা হয়।
বয়সে মাত্র ৬ বছর জময দু’ভাইয়ের। চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাখির খানের এই জময দুই শিশু সন্তানের নাম মেহেদী হাসান ও মমিন হোসেন।
অসহায় মাতা মিনু বেগম, তার সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ‘তারা জময দু’ভাই প্রথম দিকে বুঝতে না পারলেও জন্মের দেড় বছর বয়সের পর থেকে থেলাসিমিয়া (রক্ত শূন্যতা) রোগ ধরা পড়ে। আর এর পর থেকেই রক্ত শূন্যতার কারনে তাদের দুজনের শরীরে প্রতিমাসে একব্যাগ করে ও’ পজেটিভ রক্ত দিতে হয়।

প্রতিমাসে তাদের দু’শিশুর জন্য রক্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে অসহায় মা মিনু বেগমকে অনেক বিপাকে পড়তে হয়।’

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ‘যতোদিন শিশু দু’টি বেঁচে থাকবে তত দিন এভাবেই রক্ত দিয়ে তাদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, আর ত্রতিমাসে নিয়মিত তাদের শরীরে রক্ত প্রয়োগ করাতে না পারলে তাদের খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে এবং সমস্ত শরীর রক্তশূন্য হয়ে যে কোনো সময়ই তারা মারা যাবে। একথা টুকু বলে ঁেকদে ফেলেন তিনি।
প্রতিমাসে এ দুই সন্তানের জন্য রক্ত শংগ্রহ করতে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় তাদের বাবা মায়ের। যদি কোন মহত ব্যাক্তি শিশু দু’টিকে সেচ্ছায় রক্ত দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তাহলে ০১৭৪৯২০১৮৩৪, অথবা ০১৭২৭৭৯৬৩৪৮ এই নম্বরে যোগাযোগের জন্য শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ রোগ সম্পর্কে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের ডা.আসিবুল আহসান চৌধূরী জানান, ‘এটিকে জিনগত রোগ বলা হয়, কিংবা বংশগত ও জন্মগত কারণেও এমন রোগে আক্রান্ত হতে পারে শিশুরা হয়। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশার ক্ষেত্রে অসচেতনতার কারণেও অনেক শিশু সন্তানদের এমন রোগ দেখা দেয়।

এ রোগের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ রোগ থেকে বাঁচার উপায় হলো স্বামী স্ত্রী মেলাশোর সময় সর্তক থাকতে হবে। যদি কারো প্রথম সন্তান থেলাসিমিয়া রোগে আক্রান্ত হলে পরবর্তীতে তাদেরকে মেডিকেল চেকআপ করাতে হবে তাহলেই এমন রোগ থেকে শিশুরা রক্ষা পাবে।

Related posts