November 13, 2018

যে ভুলগুলো ডায়েটের সময়ে সকল নারী করে থাকেন

ডায়েট

খুব উৎসাহ নিয়ে ডায়েট করছেন, ভাবছেন আর ক’টি দিন, তারপরেই ওজন ঝরে যাবে, শরীর হয়ে উঠবে ছিপছিপে। কিন্তু নিজের অজান্তেই এমন সব ভুল আপনি করে চলেছেন যা আসলে ডায়েটের মূল উদ্দেশ্যটাকেই বরবাদ করে দিচ্ছে। এই ভুল করে থাকেন বেশীরভাগ নারীই। কী সেসব ভুল? Popsugar থেকে জানা যায় এ ব্যাপারে বিভিন্ন এক্সপার্টের মতামত।

১) শুধুই ক্যালোরি গুণে গুণে খাওয়া

ডায়েট করতে গিয়ে কোন খাবারে কতো ক্যালোরি শুধু সেটার দিকেই নজর দেন অনেকে। এটা করতে গিয়ে খাওয়াটাই বরবাদ হয়ে যায় অনেকের। কিন্তু একেবারে ক্যালোরি গুণে গুণে খেতে হবে এটা মোটেই সত্যি নয়। ক্যালোরি না গুণে বরং স্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খান, যেমন ফল এবং সবজি। সকাল শুরু করতে পারেন স্মুদি দিয়ে, এতে শরীর অনেকটা পুষ্টি পাবে।

২) স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় না রাখা

ব্যস্ত জীবনযাত্রায় আসলে ডায়েটের নিয়মকানুন মেনে চলাটা সবসময় সম্ভব হয় না। এ কারণে ঝামেলা মনে করে অনেকেই ফাস্ট ফুড খেয়ে ফেলেন, অসময়ে খান ইত্যাদি। কখনো কখনো সারাদিন না খেয়ে থাকেন আবার কখনো সারা দিন অস্বাস্থ্যকর খাবার খান। এই সমস্যা এড়াতে ছুটির দিনে কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিন। এগুলো সারা সপ্তাহ স্বাস্থ্যকর খাওদা দাওয়া করতে আপনার কাজে আসবে।

৩) যথেষ্ট পানি পান না করা

অনেকেই পানি পান করাকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু ওজন কমাতে যথেষ্ট পানি পান করার গুরুত্ব অপরিসীম। শরীর সঠিকভাবে চলার জন্য পানি খুবই জরুরী। তা না করলে দেখা দিতে পারে ক্লান্তি, মাথাব্যাথা, মাথা ঘোরানো এমনকি কিডনি এবং লিভারে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, কোলেস্টেরলের সমস্যা এবং পেশীর ক্ষতি। শুধু তাই নয়, যথেষ্ট পানি পান না করলে আপনি তৃষ্ণার্ত থাকবেন। এই তৃষ্ণাকে অনেকেই ক্ষুধা ভেবে ভুল করে এবং বেশি বেশি খেয়ে ওজনের বারোটা বাজায়। সবসময় সাথে রাখুন একটা পানির বোতল। সাধারণ পানি পান করতে করতে বিরক্ত লাগলে পানিতে ফেলে দিন এক টুকরো লেবু, আদা, শসা অথবা একটু পুদিনা।

৪) মন ভালো করার জন্য খাওয়া

“স্ট্রেস ইটিং কথাটার সাথে অনেকেই পরিচিত। সংসার, কর্মক্ষেত্র, পরিবার সব সামলাতে গিয়ে অনেক নারীই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং এ সময়ে মন ভালো করতে অনেকেই চকলেট, ফ্রাই, বার্গার এ ধরণের খাবারের প্রতি ঝুঁকে পরেন, বরবাদ হয়ে যায় ডায়েট। যদি এমন অভ্যাস আপনারও থাকে তাহলে হাতের কাছে সবসময় রাখুন স্বাস্থ্যকর সব স্ন্যাক্স। ফল, সবজি, বাদাম ইত্যাদি।

৫) কিছু খাবার অতিরিক্ত খাওয়া আর কিছু কম খাওয়া

অনেকেই অতিরিক্ত প্রোটিন খেয়ে ফেলেন শর্করার পরিমাণ কমাতে গিয়ে। কেউ বা যথেষ্ট ফল এবগ্ন সবজি খান না। কেউ কেউ বেশি করে অলিভ অয়েল খেয়ে ফেলেন রান্না এবং সালাদের সাথে, এই ভেবে যে এটা বেশি খেলেও স্বাস্থ্যকর। খাওয়ার সময়ে সতর্ক থাকুন। খাবার রাখুন ব্যালান্সড।

৬) যথেষ্ট না ঘুমানো

যথেষ্ট না ঘুমালে শরীরে ক্ষুধা উদ্রেককারী হরমোন গ্রেলিনের পরিমাণ বেড়ে যায় ফলে অকারণেই আপনি বেশি বেশি খেতে থাকেন। যথেষ্ট পরিমাণে ঘুমালে আপনার ক্ষুধা থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

৭) ব্যায়ামের পর খাওয়া কম/বেশি

কেউ কেউ ধরে নেন তিনি ব্যায়াম করেছেন, এখন ইচ্ছেমত খাওয়া যাবে। কেউ বা উল্টোটা করেন, অর্থাৎ যে পরিমাণ ব্যায়াম করেন, সে অনুযায়ী খাওয়া দাওয়া করেন না। দুটোই শরীরের জন্য খারাপ।

Related posts