November 17, 2018

যে কৌশলে মেয়েদের নগ্ন ভিডিও ধারণ করত ঠাকুরগাঁওয়ের লম্পট শিক্ষক পইদুল

Thakurgaon Teacher Pic-1

আবুল খায়ের,ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ের রায়পুর ইউনিয়নের মটরা এলাকার ধনিবুলার ছেলে পইদুল ইসলাম ভগদগাজী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১১ সালে বিএসসি শিক্ষক পদে যোগ দেন। এর পর থেকেই সে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিদ্যালয়ের ছাত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে। পরে তাদের ব্লাকমেইল করে অনৈতিক কাজে মিলিত হতে বাধ্য করতো।

জানা যায়, গণিতের শিক্ষক পইদুল স্কুলে প্রাইভেট পড়ানোর সুবাদে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে এসব শিক্ষার্থীর গোপন কক্ষে ডেকে নিয়ে মেলামেশা করতো এবং নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করতো। পরে নগ্ন ভিডিও দেখিয়ে দীর্ঘদিন তাদের সঙ্গে মেলামেশা করতে বাধ্য করা হতো। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ফাঁদে ফেলে তার সঙ্গে মেলামেশার চেষ্টা করলে বিষয়টি টের পায় ওই ছাত্রীর আত্মীয়-স্বজন। এর জের ধরে ভুক্তভোগী এক ছাত্রী পইদুল ইসলামের মোবাইল ফোন থেকে কিছু ছবি বের করে নেয়। পরে সেসব খারাপ ভিডিও ছবি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা।

 

Thakurgaon Teacher Pic-2


ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর বরাত দিয়ে ওই বিদ্যালয়ের পড়ুয়া সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া সুন্দরী ছাত্রী ছিল তার টার্গেট। এই শিক্ষক মেয়েদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে আপত্তিকর দৃশ্যের ছবি তুলে পরে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করাতো।
সম্প্রতি ওই স্কুলের এক শিক্ষকের মেয়ের সঙ্গে অবৈধ মেলামেশার ছবি সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করায় এলাকার গণমান্য ব্যক্তির মতামতে ওই ছাত্রীর সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয় তাকে।
এরইমধ্যে এলাকাবাসী সদর উপজেলা জামালপুর ভগদগাজী উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রামে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিভিন্ন স্থানে একাধিক ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন লাগিয়েছে।শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দের নামে ব্যানারে লম্পট শিক্ষক পইদুলের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান ও তাকে স্কুল থেকে অব্যাহতিসহ সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান জানানো হয়। সেইসঙ্গে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
 Thakurgaon Teacher Pic-3

এদিকে সরেজমিন শিক্ষক পইদুলের নিজ গ্রাম রায়পুর ইউনিয়নের মটরা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এ ঘটনায় গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে এই লম্পট শিক্ষকের আলোচনা এখন সবার মুখে মুখে। তারা লম্পট শিক্ষক পইদুলসহ তার দোসরদের সামাজিকভাবে বয়কট করার এবং তাদের দেখামাত্র গণধোলাই দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট সোপর্দ করার আহ্বান জানান।ভগদগাজী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি হেমাইনুদ্দিন চৌধুরী জানান, বিষয়টি জানার পরে দ্রুত তদস্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যস্ত আমি কিছু বলতে পারবো না। অভিযুক্ত শিক্ষক পইদুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কেটে দিয়ে বন্ধ করে রাখেন।
ভগদগাজী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত হওয়ার পরে সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। কোন অভিভাবক যদি এ ব্যাপারে অভিযোগ করে তাহলে দেশের আইনানুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেহেতু বিষয়টি র্স্পশকাতর সেহেতু অভিভাবকরা কোন অভিযোগ না করলেও জননিরাপত্তার অভিযোগে প্রশাসনের পক্ষ
থেকে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Related posts