September 20, 2018

যে কারণে প্রসূন আজাদ নিষিদ্ধ হলেন

প্রসূন

অভিনেত্রী প্রসূন আজাদকে একবছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পী রোকেয়া প্রাচীর অভিযোগের ভিত্তিতে টেলিভিশন নাট্যনির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯ অক্টোবর রোকেয়া প্রাচী অভিযোগ করেন নাটকের তিন সংগঠনের কাছে। এর পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন এই সিদ্ধান্ত?

ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক বলেন, পরিচালক রোকেয়া প্রাচীর অভিযোগের ভিত্তিতে ডিরেক্টরস গিল্ড প্রসূনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিন দিনের সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। কিন্তু তিন দিন ২৮ অক্টোবর শেষ হলেও এর মধ্যে কোনো যোগাযোগ করেননি প্রসূন।

প্রসূনের বিরুদ্ধে অভিযোগটা কী?

রোকেয়া প্রাচী তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, প্রসূন আজাদ তার অমুক এক ভাইকে ছাড়া শুটিংয়ে যাবে না… তার জন্য দুই ঘন্টা ওয়েট করে এই কথা শুনতে হলো। এই ভাই কে, কেন যাবে- জানতে চাইলে তার নাকি খুব ‘suffocated and pain’ লাগছে ?! ফলাফল শুটিং প্যাক-আপ। ফরিদপুরে তখন টেকনিক্যাল টিম পৌঁছে গেছে …আমরা ওয়েট করে প্যাক আপ হয়ে অসম্মানিত হয়ে বসে আছি। প্যাক-আপ হলে অনেকগুলো মানুষের রুটি রুজিতে আঘাত হয় …এটা প্রসূন আজাদ বুঝবে? আর এই নাটকের আমি দুর্ভাগা পরিচালক।

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রসূন আজাদ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, তিনি লিখেন-
‘সন্ধ্যায় আম্মু ইলিশ মাছ রান্না করছিল। আমি কিচেনের ফ্লোরে বসে কফি খাচ্ছিলাম। আম্মু বলছিল, প্রসূন এত দূর যাবি, আমার মন চাচ্ছে না। আমি আম্মুকে বললাম সুন্দর ক্যারেক্টার, আর অনেক দিন পর, করি একটা নাটকে অভিনয়, কি আসে যায় – বলে আমি লাগেজ গুছাতে বসলাম। আবার জানলাম, এসিস্টেন্টের বাড়িতে ঝামেলা তাই সাথে যাবে না। আমারও ভালো লাগছিল না। একা একা শুটিংয়ে যাইনা যে তা না, তবে ব্রোথেলের মত জায়গায় এত কালারফুল ফ্রেম পাওয়া যাবে ভেবে প্রত্যয়কে বললাম। প্রত্যয় জানালো, ওর কাজ আছে। আমি একাই বের হলাম। মাঝ রাস্তায় প্রত্যয় ফোন করে জানালো সাথে যাবে। গেলাম ডিরেক্টরের বাড়ির সামনে। দৌলতদিয়া বেশ দূরে। ৮টায় পৌছালাম বলে ডিরেক্টর সালাম না নিয়েই এতগুলো কথা শুনিয়ে দিলো। আমার ধারনা ওনার পারিবারিক ঝামেলা চলছে। নইলে সুস্থ মাথায় একটা মানুষ এত বাজে আচরণ কেনো করবে! মগবাজার, মৌচাকে প্রচুর যানজট। এটা এই শহরে নতুন নয়। আমার জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি। ৭:৩০ থেকে ৮:০০ টা বেজে গেলো কেনো সেজন্য উনি এত রাগ করলেন! আমি অবাক। কোনোভাবেই উনি প্রত্যয়কে সহ্য করতে পারছিল না। আমি আমার এসিস্টেন্ট ছাড়া অথবা এই ছোট ভাই ছাড়া দৌলতদিয়ার মত জায়গায় যাওয়ার সাহস পাই নাই।
আমার বহু রাত গেছে চোখের পানি মুছে। আপনাদের আগেও অনেক বড় বড় স্টার আমাকে “নাই” করে দিতে চেয়েছিলেন। এই কথা আমি নতুন শুনি নাই। কিন্তু তারা কোথায়? প্রত্যয় ভাবছিল, আমি চড় থাপ্পর মেরে বসি কিনা। কিন্তু পুরোটা সময় হাসি মুখেই ওনার কথা শুনে যাচ্ছিলাম আর উত্তর দিচ্ছিলাম। কারণ আমি আমার ভাইকে ছাড়া শুটিংয়ে ওনার সাথে যেতে চাই নাই।
সুতরাং অসুস্থ ডিরেক্টর, আমার আব্বু আম্মু আপনার মত না, আপনি আমার মায়ের পরিচিত তাই সালাম দিয়ে কথা বলেই কথা শেষ করেছি। আমাকে “নাই” করবেন করেন। কিন্তু একটা প্রশ্ন… আপনি কি আমাকে দিয়ে অভিনয় করাতে চাচ্ছিলেন? নাকি অন্য কিছু? তাহলে ছোট ভাইকে দেখে এমন করলেন! এতগুলো মানুষের সামনে নেরি কুত্তা হয়ে গেলেন! ভাদ্র মাস নাকি? আপনি কে?’

এস এ হক অলিক বলেন, ‘আমরা চেয়েছি রোকেয়া প্রাচী ও প্রসূনের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান করতে। এ ব্যপারে প্রসূনের কাছে যখন চিঠি দেওয়া হয়, তখনও তিনি উত্তর না দিয়ে চুপ থাকেন। এটা সংগঠনকে অবমাননা, অশ্রদ্ধা ও গুরুত্বহীন ভাবা। এ কারণে আগামী একবছর ডিরেক্টরস গিল্ডের কোনো সদস্য তাকে নিয়ে প্রোডাকশন তৈরি করতে পারবে না। তার ফেসবুক থেকে খুব আপত্তিকর স্টেটাস আসে, যা এই ইন্ডাস্ট্রির সবার জন্য খুবই লজ্জার।’

Related posts