November 17, 2018

যেভাবে বন্দী জীবন থেকে মুক্তি পেল সাংবাদিক উৎপল

utpol1

রফিকুল ইসলাম রফিক, নারায়ণগঞ্জ থেকেঃ দুই মাসের বেশি নিখোঁজ থাকার পর সাংবাদিক উৎপল দাসকে পাওয়া গেছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। মঙ্গলবার রাত পৌঁনে ১২টার দিকে উপজেলার আধুরিয়া শাহজালাল সিএনজি স্টেশনে তাকে উদ্ধার করে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ি। পরে রাতেই স্বজনদের কাছে তাকে তুলে দেয়া হয়। উৎপল দাস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তাকে টাকার জন্য ধানমন্ডি থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। এই ঘটনায় উৎপলের বাবা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

গত ১০ অক্টোবর নিখোঁজ হন অনলাইন নিজউ পোর্টাল পূর্বপশ্চিম বিডি ডট নিউজের জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক উৎপল দাস। এর পর থেকে তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাকে ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিয়ে পরিবারের কাছে টাকাও দাবি করা হয়। তার খোঁজের সন্ধানে পরিবার ও সাংবাদিক সমাজ মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উৎপল দাসকে রূপগঞ্জ থেকে পাওয়ার খবর উঠে। ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনর্চার্জ শহীদুল ইসলাম পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার আধুরিয়া শাহ্জালাল সিএনজি স্টেশন থেকে তাকে উদ্ধার করে। পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসায় স্বস্থি প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে উৎপল দাস সাংবাদিকদের জানিয়েছে, টাকার তাকে ধানমন্ডি স্টার কাবাবের সামনে থেকে পেছন থেকে অজ্ঞাত লোকজন তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে কয়েকদিন চড় থাপ্পড় দিয়ে টাকা দাবি করে। একটি টিনের ঘরে তাকে আটকা রাখে। সেখানেই ওই ঘরে বন্দী থাকতে হয়। ঘরের দরজার নিচ থেকে তিন বেলা খাবার দেয়া হতো। মঙ্গলবার আমাকে চোঁখ বাধা অবস্থায় তিন-চার ঘন্টা একটা গাড়িতে করে ঘোরানো শেষে এখানে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এর বেশী কিছু তিনি জানেন না বলে জানান।

 

ভিডিওঃ উদ্ধার হওয়া সাংবাদিক উৎপলের জবানবন্দি 


এদিকে উৎপল দাস উদ্ধারের খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন ভুলতা ফাঁড়িতে ছুটে আসেন। হারানো ছেলেকে কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে উঠেন। উৎপলের মা বলেন অনেক ভালো লাগছে, শান্তি লাগছে। পরিবারের লোকজন সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিক সকলকে ধন্যবাদ প্রকাশ করেন। উৎপলের বাবা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর থেকে উৎপলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। নিখোঁজের ঘটনায় গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর মতিঝিল থানায় দুটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি করা হয় তার পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষে। উৎপলের সহকর্মী ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন তার সন্ধানের দাবিতে টানা আন্দোলন করে।

রফিকুল ইসলাম রফিক, নারায়ণগঞ্জ।
২০-১২-২০১৭ইং

Related posts